জান্নাতের অনেকগুলো দরজা আছে, যা কেয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকবে। কিন্তু এই দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করতে প্রয়োজন কঠোর সাধনা এবং ইখলাস বা বিশুদ্ধ নিয়ত।
তবে এমন দুটি দরজা আছে, যা আমাদের হাতের নাগালেই থাকে এবং যে কেউ চাইলে সামান্য প্রচেষ্টাতেই সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের অধিকার অর্জন করতে পারে। সেই দুটি দরজা হলো— মা এবং বাবা।
সাময়িক এক সুযোগ
জান্নাতের অন্যান্য দরজা সবসময় খোলা থাকলেও পিতামাতা নামক এই দরজা দুটির একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। এই সময় শেষ হয়ে গেলেই দরজা দুটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
কারো ক্ষেত্রে এই দরজা হুট করে বন্ধ হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘ অসুস্থতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। মৃত্যু এসে যখন তাঁদের ছিনিয়ে নেয়, তখন জান্নাতের সেই সহজ পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়।
আপনার পিতামাতা যদি জীবিত থাকেন, তবে আজই তাঁদের কাছে যান। তাঁদের সময় দিন, তাঁদের সেবা করুন। কারণ জান্নাতের এই দরজাটি যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হারানোর করুণ অভিজ্ঞতা
বয়স যত বেশিই হোক না কেন, মা-বাবার মৃত্যু সন্তানের কাছে সবসময়ই এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে যখন দেখা যায় শরীরের প্রতিটি অঙ্গে নল আর কৃত্রিম যন্ত্র লাগিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাঁরা লড়াই করছেন, তখন সন্তানের অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়।
কীভাবে একটি কর্মঠ শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং মনিটরের হৃদস্পন্দনের রেখাটি সোজা হয়ে যায়। পার্থিব জীবনের হায়াত আল্লাহ–তাআলা মাতৃগর্ভেই লিখে দিয়েছেন, তার এক সেকেন্ড এদিক-ওদিক হওয়ার সুযোগ নেই।
৩. পিতামাতা এক মহামূল্যবান সম্পদ
অনেকে মা-বাবা বেঁচে থাকতে তাঁদের মূল্য বোঝেন না। যখন তাঁরা দুনিয়া ছেড়ে চলে যান, তখন হঠাৎ করে তাঁদের অভাব অনুভূত হয়। কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার এবং ইহসান (উত্তম আচরণ) করা হলো তাঁদের প্রতি সন্তানের সর্বনিম্ন ঋণ।
নবীজি (সা.) বলেছেন, “পিতামাতাই হলো জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। এখন তোমার ইচ্ছা, তুমি চাইলে তা রক্ষা করতে পারো অথবা তা নষ্ট করে দিতে পারো।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯০০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৮৯)
দুনিয়ার ব্যস্ততা আর সময়ের আবর্তে মানুষ অনেক সময় মৃত মা-বাবার কথা ভুলে যায়। তাই বুদ্ধিমান সেই, যে তাঁদের জীবিত থাকতেই জান্নাত নিশ্চিত করে নেয়।
জীবিত থাকতেই সুযোগ নিন
পিতামাতা বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁদের সেবা করা যতটা সহজ, মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য ‘বর’ বা পুণ্য পাঠানো ততটা সহজ নয়। বেঁচে থাকলে আপনি তাঁদের পাশে বসতে পারেন, সরাসরি তাঁদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।
কিন্তু মৃত্যুর পর কেবল দোয়ার মাধ্যমেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। দুনিয়ার ব্যস্ততা আর সময়ের আবর্তে মানুষ অনেক সময় মৃত মা-বাবার কথা ভুলে যায়। তাই বুদ্ধিমান সেই, যে তাঁদের জীবিত থাকতেই জান্নাত নিশ্চিত করে নেয়।
দুনিয়া বনাম আখেরাত
পার্থিব কাজ আজ না হলে কাল করা যায়, ব্যবসায়িক ক্ষতি হলে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু আখেরাতের আমল, বিশেষ করে পিতামাতার খেদমত করার সুযোগ একবার হাতছাড়া হলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
কোরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, “আর এই পরকালীন জীবনই হলো প্রকৃত জীবন (হায়াওয়ান), যদি তারা জানত!” (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৪)
আপনার পিতামাতা যদি জীবিত থাকেন, তবে আজই তাঁদের কাছে যান। তাঁদের সময় দিন, তাঁদের সেবা করুন। কারণ জান্নাতের এই দরজাটি যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাঁদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।