বিজ্ঞাপন

দুপুরের তপ্ত রোদ। সমুদ্রের পাড়ে শুটিং হচ্ছে। আপাকে দৃশ্য বুঝিয়ে দেওয়া হলো। বলা হলো, আপনি বালির দিকে দৌড়ে যান। অ্যাকশন বলার সঙ্গে সঙ্গে আপা বালির দিকে দিল দৌড়।

আহারে, কী রোদ! একটা আত্মহত্যার দৃশ্য। আপাকে বলা হলো আপনি আত্মহত্যা করতে সমুদ্রের দিকে যাবেন। আপা সেই রোদের মধ্যে সমুদ্রের দিকে দৌড়ান। পরিচালক হঠাৎ বলেন, ‘কাট।’ দৃশ্যটা নাকি হয়নি। বললেন, আমাদের ট্রলি নড়ে গেছে। আবার করতে হবে। মাথার ওপর সূর্য, সেই টকটকে রোদের মধ্যে কি কষ্টটাই না করে আপা অভিনয় করছেন। কিন্তু সামান্য একটু সমস্যায় শট এনজি হয়ে গেল। আমি এসব দেখে তো মহাবিরক্ত। মনে মনে বলি, ছি, এভাবে সিনেমা করে! আপাকে এত কষ্ট দিচ্ছে। না না বাবা, আমাকে যদি কোনো দিন বলে, জীবনেও এই কাজ আমি করব না।

এরপর ঢাকায় ফিরে স্কুলে যেতেই বান্ধবীরা ধরল। শুটিংয়ে কী হলো, জানতে চাইল। ওদের বললাম, আর বলিস না, সিনেমার শুটিংয়ে এত কষ্ট। আমার বোন কী যে কষ্ট করে শুটিংয়ে। আমি যা যা দেখেছি, বান্ধবীদের সব শোনালাম।

default-image

যাই হোক, এর মধ্যে সুচন্দা আপার সঙ্গে জহির ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেল। সেই সুবাদে জহির ভাই আপাকে নিয়ে কায়েতটুলির বাড়িতে উঠলেন। তবে প্রায়ই আপাকে নিয়ে আমাদের গেন্ডারিয়ার বাড়িতে আসতেন। আম্মা মেয়ে, মেয়ের জামাইয়ের জন্য অনেক রান্না করতেন।

জহির ভাই বাড়িতে এলে আমাকে অনেক বই পড়তে দিতেন। বলতেন, এই বইটা ওই বইটা পড়। তো একদিন কী হলো, জহির ভাই বললেন, আমি একটা সিনেমা করছি, নাম সংসার। এই সিনেমায় রাজ্জাক আর সুচন্দা তোমার বাবা–মা হবেন। তুমি একটা কিশোরী মেয়ে। তোমার সঙ্গে আমি একটা পেয়ার দেব। সেই সিনেমাটা তুমি করবে। আমি তখন বেঁকে বসলাম। বললাম, প্রশ্নই আসে না। আমি এই সিনেমা জীবনেও করব না। আমি সিনেমাই করব না।

default-image

আমার ডাক্তার হওয়ার খুব ইচ্ছা। কারণ, মা হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন। আশপাশের মানুষের কোনো সমস্যা হলে সবাই মায়ের কাছে আসতেন। মা তাদের পুরিয়া বানিয়ে দিতেন। মায়ের এই কাজে আমি ছিলাম তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট। মা আমাকে বলতেন, সুবারাব এইচ দিয়ে পুরিয়া বানিয়ে দাও। নাক্সবাম দাও, অ্যকোনাইট ন্যাপ দাও, থুজা দাও। মোটামুটি তখন এই কাজ করতে গিয়ে আমার অনেক ওষুধের নাম মুখস্থ হয়ে গেছে।

আমি খুব দুষ্টু ছিলাম। মা যখন বাড়িতে থাকতেন না, তখন প্রতিবেশী কেউ বাড়িতে এসে যদি বলতেন, খালাম্মা কই? আমি পাল্টা জিজ্ঞেস করতাম। কী সমস্যা? ঠান্ডা লেগেছে? ঠিক আছে, অ্যাকোনাইট ন্যাপ বানিয়ে দিচ্ছি। আমার মা কিন্তু সবাইকে ফ্রি ওষুধ দিতেন। কিন্তু আমি মায়ের অনুপস্থিতিতে সবার কাছে বলতাম, পয়সাটা দিয়ে দেন। পয়সা লাগবে। এভাবে সবার কাছ থেকে পয়সা নিতাম। আমি যে সবার কাছ থেকে পয়সা নিই, এটা মা কিন্তু জানতেন না। এভাবে পয়সা জমিয়ে বান্ধবীদের গিয়ে বলি, এই চল সিনেমা দেখব।

তখন গুলিস্তানের পাশে নাজ সিনেমা হল ছিল। সেখানে ইংলিশ মুভি চলত। ওই সময় একটি মুভি চলছিল, হোটেল সাহারা। এখন কীভাবে সেই ছবি দেখব? স্কুল ফাঁকি দিয়ে কীভাবে যাব? আমরা মনিজা রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন। একটা কথা বলে নিই, আমরা যে সাত বান্ধবী, আমরা কিন্তু সবাই খুব ভালো ছাত্রী ছিলাম। আবার খুব বাঁদরও ছিলাম। যাহোক, আমাদের স্কুলের প্রাইমারি সেকশনের ছাদ ছিল টিনশেডের। খুব গরম পড়ত। বান্ধবীরা মিলে ফন্দি আঁটলাম। ছোট লাভলিকে বললাম, গরমে তুই জ্ঞান হারিয়েছিস। অজ্ঞান হওয়ার ভান করবি তুই। আমাদের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন বাসন্তী গুহঠাকুরতা। তাঁর কাছে সবাই ছুটে গেলাম। বললাম, আপা, অনেক গরম পড়েছে। গরমে আমরা টিকতে পারছি না। আমাদের সহপাঠী লাভলি অজ্ঞান হয়ে গেছে।

আপা তখন বললেন, হ্যাঁ, অনেক গরম পড়েছে। যাও তোমাদের আজ ছুটি। তিনি আমাদের ছুটি দিয়ে দিলেন।

আমরা তো মহাখুশি। কিন্তু সিনেমা হলে গিয়ে এর আগে আমরা কেউ সিনেমা দেখিনি। তাই আমরা আমাদের ওপরের ক্লাসের পাখি আপাকে গিয়ে ধরলাম। এরপর পাখি আপাসহ আমরা আটজন গেলাম নাজ হলে, হোটেল সাহারা ছবিটি দেখতে। সেই প্রথম হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। তারপর যে যার মতো বাড়ি ফিরে যাই।

পরদিন স্কুলে গেছি। আমাদের ক্লাসে বড় কিছু মেয়ে ছিল, তারা গিয়ে বাসন্তী আপাকে বলে দিল যে আমরা সাতজন গতকাল সিনেমা দেখতে গিয়েছি। আপা আমাদের ডেকে পাঠালেন। স্কুলের মাঠে সব ছাত্রীর সামনে তিনি আমাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখলেন।

সিনেমা করার ইচ্ছে আমার কখনই হয়নি। কিন্তু জহির ভাই যখন সংসার ছবিতে অভিনয়ের কথা বললেন, আমি তো বেঁকে বসলাম, কিছুতেই অভিনয় করব না। তখন আমার আম্মা বললেন, জামাই মানুষ, উনি চাইছেন, তুই না করলে মন খারাপ করবেন। সুচন্দা আপাও বললেন, তোর দুলাভাই ছবির ডিরেক্টর। আমি নিজেও তো অভিনয় করছি। কেন করবি না? তুই যদি না করিস, তাহলে খুব খারাপ দেখা যায়। তুই কর। সবার চাপাচাপিতে আমি রাজি হলাম। তখন আমি কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। কত ছোট আমি। এরপর শুটিংয়ে গেলাম। আমার টিনএজ নায়ক হলেন সাজ্জাদ (এখনো তিনি টিভি নাটকে অভিনয় করেন)। তাঁর সঙ্গে আমার একটা গানও আছে, সেই গানে ঠোঁট মেলাতে হবে। গানটা ছিল, ‘কাল রাতে আমি একটি মজার স্বপ্ন দেখেছি/ কে যেন আমায় কানে কানে বলে গেল/ ওগো তোমায় আমি ভালোবেসেছি’।

default-image

এই গানটি জহির ভাই লিখেছিলেন। গানটার লিপ মেলাতে হবে। কিন্তু আমার ইচ্ছে করছে না। কিছুই ভালো লাগছে না। ওই ছবিতে আবার আমার একটা বান্ধবীর রোল ছিল, সেটা আবার করছে সুলতানা। ছবিতে রাজ্জাক ভাই আমার বাবা, সুচন্দা আপা আমার মা। তো খেলার ছলেই আমি কাজটা করে ফেললাম। আমার পারিবারিক নাম পপি হলেও সংসার ছবিতে আমার নাম দেওয়া হয়েছিল সুবর্ণা। এরপর ছবিটি মুক্তি পেল এবং সুপার ফ্লপ। তাতে আমার কিছু যায়–আসেনি। আমি তো সিনেমা করতেই চাইনি। এর ফাঁকে আমি টিভিতে একটি নাটক করেছিলাম। আবদুল্লাহ আল–মামুনের একটি কলম। ওই সময় জহির ভাই পশ্চিম পাকিস্তানে একটি উর্দু ছবি করবেন, জ্বলতে সুরজ কে নিচে। এই ছবির ক্যামেরাপারসন আফজাল চৌধুরীই ছবির প্রযোজক। ছবির নায়িকা হলেন শবনম আপা। আর নায়ক হলেন নাদিম। তিনি ছবিতে তিনটা ক্যারেক্টার করবেন। শবনম, নাদিম ছাড়াও এ ছবিতে অভিনয় করবেন সাবিহা, সন্তোষ, রোজিনাসহ পাকিস্তানের জাঁদরেল সব নামকরা অভিনয়শিল্পী।

ছবির সব অ্যারেঞ্জমেন্ট হয়ে গেছে। শুটিং হবে বরফের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে। নাদিমের ডেট নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু শবনম আপা এত ব্যস্ত ছিলেন যে তিনি কোনোভাবেই নাদিমের সিডিউলের সঙ্গে তাঁর ডেট মেলাতে পারছিলেন না। চিন্তায় পড়ে গেলেন জহির ভাই। কী আর করা। তখন আফজাল ভাই মানে ছবির প্রযোজক বললেন, আমরা বরং একজন নতুন নায়িকা নিয়ে নিই। জহির ভাই বললেন, এখন নতুন নায়িকা কোথায় পাব? তখন আফজাল ভাই বললেন, আরে নায়িকা তো তোমার বাড়িতেই আছে। জহির ভাই অবাক হলেন, বললেন, আমার বাড়িতে?

আফজাল ভাই বললেন, হ্যাঁ, তোমার শ্যালিকা পপি আছে না! সেদিন টিভিতে ওকে একটা নাটকে অভিনয় করতে দেখলাম। ও তো ভীষণ ফটোজেনিক। ভীষণ সুন্দর। ওকে আমরা এই ছবিতে নায়িকা বানাতে পারি।

প্রসঙ্গক্রমে বলে নিই, আমি পূর্ব পাকিস্তান টিভিতে একটা নাটকেই অভিনয় করেছিলাম—আবদুল্লাহ আল–মামুনের একটি কলম–এ। আমারও শখ হয়েছিল এই নাটকে অভিনয় করার। প্রস্তাব পেয়ে মাকে বললাম। মা বললেন, ঠিক আছে, করো। মনে আছে সুচন্দা আপা নাটকের জন্য শাড়ি ঠিক করে দিয়েছিলেন। একটি কলম নাটকে আমার বেশি কাজ ছিল অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার সঙ্গে। নাটকে তিনি বিখ্যাত একজন লেখক। একটা ইন্টারভিউ নিতে এসেছিল অনেক মেয়ে। সেখানে তাঁর কলম চুরি যায়। এ রকমই গল্প ছিল নাটকটার।

যাহোক, আফজাল ভাইয়ের মুখে পপি নামটি শুনে জহির ভাইও বললেন, আরে হ্যাঁ, তাই তো, তাই তো। এটা তো আমার মাথায় আসেনি। এরপর জহির ভাই আবার এসে বললেন, এই ছবিতে কাজ করার কথা।

default-image

যথারীতি আমি তো প্রথমে রাজি না। বললাম, অভিনয় আমি করব না। আম্মা তখন বললেন, জামাই মানুষ, বলেছে। করো। না করলে দুঃখ পাবেন। জহির ভাই বললেন, এই ছবিটা করো। পরে আর কোরো না। আমি তখন বললাম, নায়িকা হিসেবে করছি। এটাই শেষ। এরপর আর না। তখন অধিকাংশ ছবিই হতো সাদা–কালো। কিন্তু জ্বলতে সুরজ কে নিচে ছবিটি হবে রঙিন। তাই আমার নানা রকম টেস্ট করানো হলো। আমি কতটুকু ফটোজেনিক। ভয়েজ কেমন। উর্দু ঠিকমতো বলতে পারব কি না। জাঁদরেল অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করতে পারব কি না—সব ধরনের পরীক্ষা হলো। সবার আমাকে ভালো লাগল। আমি সিলেক্ট হলাম। তাঁরা ঠিক করলেন, আমার প্রথম ছবিতে যেহেতু নাম ছিল সুবর্ণা। এ ছবিতে আর ওই নাম রাখবেন না। আমার নাম রাখা হলো ববিতা। নামটি রাখলেন আফজাল চৌধুরীর স্ত্রী সুরাইয়া আফজাল। তখন হিন্দি ছবির নামকরা একজন অভিনেত্রী ছিলেন ববিতা। এই নিয়ে কথা উঠল। তখন আফজাল ভাই বললেন, থাকলে থাকুক। আমরা এই নামটাই রাখব। ও আমাদের ববিতা। আমি দেখতে তখন শুকনা, পাতলা, কাঠি কাঠি। ওরা আমাকে জামাকাপড় পরিয়ে বেশ বড়সড় করে দেখাল। আমার বয়স কিন্তু তখন অনেক কম, ১৩–১৪ বছর হবে হয়তো। এরপর ছবির শুটিং শুরু হলো পাকিস্তানের বরফ আচ্ছাদিত সোয়াত, কালাম, মারিসহ আরও অনেক জায়গায়। সোয়াত, কালাম থেকে কেটু পাহাড় দেখা যায়। ভারি সুন্দর জায়গা। তখন সুচন্দা আপা ছিলেন। আপা আমাকে সবকিছু ঠিক করে দিতেন। শুটিং হতো ডাইরেক্ট। এখন যেমন প্রমটিং করে শুটিং হয়। আর্টিস্টরা বেশ আরামে শুটিং করেন। পরে ডাবিং করেন। কারও ভয়েজ ভালো না হলে অন্য কেউ তারটা ডাবিং করে দেন। কিন্তু সে সময় অনেক কঠিন ছিল এসব। সরাসরি হতো। মাথার ওপর বুম। সমস্ত সংলাপ সরাসরি বলতে হবে। আমি নতুন আর্টিস্ট। উর্দু ভালো করে বুঝি না। উর্দু ভাষায় সংলাপ বলতে হবে বড় আর্টিস্টদের সঙ্গে। এটা সহজ কথা নয়।

পরিচালক অবশ্য একটা কাজ করেছিলেন। ছবির সবকিছু যখন চূড়ান্ত হলো, তখন তিনি আমাকে আগে থেকে সংলাপগুলো দিয়ে বলেছিলেন মুখস্থ করে নিতে। অন্য ভাষায় সংলাপ। মুখস্থ করতে বেশ কষ্ট হয়েছিল। এরপর বরফের মধ্যে নাদিমের সঙ্গে গান, নাচ, অভিনয়। আমার গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মালা। কিন্তু ছবির বেশির ভাগ শুটিং হওয়ার পরও আর্টিস্টদের সিডিউল মেলাতে না পারায় ছবিটি আর শেষ হলো না। জহির ভাই একটু হতাশ হলেন। তিনি বললেন, পপিকে ছবির নায়িকা বানালাম, কিন্তু ছবিটা রিলিজ করতে পারছি না। এক কাজ করি, ওকে নিয়ে একটা বাংলা ছবি বানাই। ঢাকায় একটা বাংলা ছবিতে নিই ওকে। সবাই জহির ভাইকে বললেন, তাহলে তো খুব ভালো হয়। তখন জহির ভাই শেষ পর্যন্ত নামে একটা ছবির পরিকল্পনা করলেন।

ওই সময় জহির ভাই একটা সিনেমার সব কাজ একা করলেও কিছু ছবিতে অন্যের নাম দিতেন। বাবুল চৌধুরী, নূরুল হক বাচ্চু—এদের নাম দিয়ে দিতেন। যা হোক, শেষ পর্যন্ত ছবিতে আমার নায়ক রাজ্জাক। প্রথম দিনের শুটিংয়ে রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার মিষ্টি মিষ্টি রোমান্টিক সংলাপ। আমি কিছুতেই সংলাপ বলতে পারছি না। তার কারণও ছিল। রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম ছবিতে তো তিনি ছিলেন আমার বাবা। তাঁকে বাবা ডেকেছি। আর এ ছবিতে তিনি আমার প্রেমিক। তাঁকে রোমান্টিক সংলাপ বলতে হবে। জড়িয়ে ধরতে হবে। আমাকে দিয়ে কিছুতেই হচ্ছিল না। তখন জহির ভাই আমাকে খুব বকা দিয়ে বললেন, এই মেয়ে, তুমি কী ভাবছ এটা সত্যি সত্যি? এটা তো অভিনয়। ঠিকমতো করো।

default-image

ধীরে ধীরে ঠিকঠাক অভিনয় করলাম। জহির ভাই তো অসাধারণ সংলাপ লিখেন। ছবিতে সুন্দর সুন্দর বেশ কিছু সিকোয়েন্স ছিল। আমি নায়কের কথা ভাবছি। তাকে বাতাস করছি। আর নিজে নিজে বলছি, তোমাকে আরেকটু ভাত দিই? ইলিশ মাছের মাথাটা দিই? বলতে গিয়ে নিজেই লজ্জা পাচ্ছি। এই ছবিতে খুব সুন্দর গানও ছিল। এরপর একসময় ছবির কাজ শেষ হলো।

শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট, শুক্রবার। ওই দিন আবার পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা শহর আলোকসজ্জা করা হয়। মানুষ ওই দিন বেড়াতে যায়, ঘুরতে যায়।

আমার মায়ের ছিল হার্টের সমস্যা। এই জন্য মা তখন ধানমন্ডি নিরাময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমরা ঠিক করি, সবাই প্রথমে হাসপাতালে যাব। মায়ের সঙ্গে দেখা করে তারপর যাব ছবি দেখতে। আমি আসব গেন্ডারিয়া থেকে। জহির ভাই সুচন্দা আপাকে নিয়ে কায়েতটুলির বাসা থেকে আসবেন। আর রাজ্জাক ভাইও আসবেন। রাজ্জাক ভাই তখন থেকেই ছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। কারণ, রাজ্জাক ভাই তো জহির ভাইয়ের আবিষ্কার। এ কারণেই তিনি জহির ভাইয়ের, সুচন্দা এবং আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন। পারিবারিক যেকোনো অনুষ্ঠানেই তাঁর উপস্থিতি থাকত সব সময়।

১৪ আগস্ট সবার আগে নিরাময় হাসপাতালে যাই আমি। কারণ, শেষ পর্যন্ত ছবিতে অভিনয়ের পারিশ্রমিক বাবদ ১২ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। ওই টাকা দিয়ে তখন আমি একটি অফ হোয়াইট টয়োটা গাড়ি কিনি। ইচ্ছে ছিল, আমার প্রথম পারিশ্রমিকে কেনা গাড়িটি মাকে দেখাব। কিন্তু হাসপাতালের সামনে গিয়ে নতুন গাড়ি থেকে কেবল পা–টা মাটিতে ফেলেছি, ঠিক তখনই একটা ছেলে দৌড়ে এসে বলল, তাড়াতাড়ি আসেন। তাড়াতাড়ি আসেন। আমি বললাম, কেন? কেন? বলল, আসেন আসেন, আপনি আসেন। হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকে দেখি, আমার মাকে সাদা চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে। পাঁচ মিনিট হলো, মা মৃত্যুবরণ করেছেন। এটা দেখে সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারালাম। আমি ছোটবেলা থেকেই জোরে কাঁদতে পারি না। এর মধ্যে জহির ভাই, সুচন্দা আপা এলেন। কান্নার রোল পড়ল। মাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন করা হলো। স্বাভাবিকভাবেই এরপর বেশ কদিন আমরা শোকাহত ছিলাম। আমার তো দুঃখ থেকে গেল, মাকে গাড়িটা দেখাতে পারলাম না। হাসপাতালের জানালা দিয়ে গাড়িটা দেখিয়ে বলতে পারলাম না, মা দেখ, এই গাড়িটা আমি আমার নিজের টাকায় কিনেছি।

শেষ পর্যন্ত ছবিটিও আর দেখা হলো না। দেখার তো আর কথাই থাকে না। ওদিকে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। বেশ কদিন পর শুনতে পেলাম ছবিটি নাকি সুপারডুপার হিট। ইয়ং জেনারেশন ববিতাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমি তো সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছি যে আর কোনো সিনেমা করব না। তাতে কী! শেষ পর্যন্ত সুপারহিট হওয়ার কারণে আমাদের গেন্ডারিয়ার বাড়িতে ডিরেক্টর, প্রডিসিউসারদের ভিড় পড়ে গেল। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ছবির প্রস্তাব নিয়ে বাড়িতে কেউ না কেউ আসছেন। কেউ যাচ্ছেন জহির ভাইয়ের কাছে।

default-image

সেই সময় নজরুল ইসলাম এলেন তাঁর স্বরলিপি ছবিতে আমাকে নেওয়ার জন্য। এরপর এহতেশাম এলেন তাঁর পিচঢালা পথ ছবির জন্য। মোস্তফা মেহমুদ এলেন মানুষের মন ছবির জন্য। জহির ভাই বললেন, পপি দেখো, শোেনা, এটাই তোমার ভাগ্য। এখানেই তোমাকে যেতে হবে। তুমি যতই বলো সিনেমা করবে না। কিন্তু তুমি তো সুপারহিট হয়ে গেছ। এখন আর থেমে থাকার সময় না। তখন আমার সেই প্রমিজটা আর থাকল না যে আমি আর সিনেমা করব না। আমি আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। সেই থেকে চলচ্চিত্রই হয়ে গেল অভিনেত্রী ববিতার ঠিকানা।

নজরুল ইসলামের স্বরলিপি নায়িকা হিসেবে আমার দ্বিতীয় ছবি। এরপর এহতেশামের পিচঢালা পথ। এ ছবিটির শুটিং শুরু হলো যখন। সেই সময়ের কথা খুব মনে আছে। মা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। মনের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। এই সময়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করাটা কি সম্ভব? তা–ও আবার রোমান্টিক দৃশ্যে মিষ্টি মিষ্টি সংলাপ আওড়াতে হচ্ছে। অভিনয় করছি ঠিকই। কিন্তু মায়ের জন্য খুব কান্না পাচ্ছিল। একটা সময় আমি শুটিং বন্ধ করে পরিচালককে বললাম, আমি এখন অভিনয় করব না। এহতেশাম সাহেব তো মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। আমাকে বললেন, দেখো, রাজ্জাক অনেক ব্যস্ত। এই সিডিউলটা মিস হলে ছবিটি শেষ করা কষ্টকর হয়ে যাবে। তিনি আমাকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করালেন। একটা করে দৃশ্য করি আর ঝরঝর করে কাঁদি।

স্বরলিপি ও পিচঢালা পথ দুটি ছবিই সুপারডুপার হিট হলো। আমার চতুর্থ ছবি ছিল টাকা আনা পাই। এ ছবিটি সুচন্দা আপার নিজের প্রোডাকশনের ছবি। এই ছবির সবকিছু জহির ভাই–ই করে দিয়েছিলেন। তবে পরিচালক হিসেবে নাম বাবুল চৌধুরীর। এই ছবিটিও দারুণ হিট করল। আমি বলব আমার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট টাকা আনা পাই। তবে যে ছবিটি নিয়ে আজও আমার আক্ষেপ রয়ে গেছে, সেটি জহির ভাইয়ের লেট দেয়ার বি লাইট। তিনি সব সময় বলতেন, এটা আমার জীবনের শেষ ছবি। আমি একটা আন্তর্জাতিক মানের ছবি বানাব। সারা পৃথিবীর মানুষ এই ছবি দেখবে। এই ছবির ক্যামেরা, লাইট, পরিচালনা—সব জহির ভাই নিজে করেছেন। কোনো স্ক্রিপ্ট ছিল না। সব তাঁর মাথায় ছিল। লেট দেয়ার বি লাইট ছবিতে আমার চরিত্রটির নাম ছিল ইভা। খ্রিষ্টান মেয়ে। আমার একটা সংলাপ ছিল, ‘তপু, আই ওয়ান্ট টু বি দ্য মাদার অব ইওর সান’। জহির ভাই ছবিটা শেষ করতে পারলেন না। পরে খান আতাউর রহমান ভাই, আরও অনেকেই চেষ্টা করেছেন, ছবির শেষটা কী হতে পারে তাই নিয়ে। কিন্তু কেউ সেটা বের করতে পারেননি। ছবিটির কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে রইল। ভাইকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে এলেন না জহির ভাই। আমি আমার অভিভাবক হারালাম।

default-image

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষের মন ছবিটি মুক্তি পেল। এই কাজটি মুক্তিযুদ্ধের আগে করা। এই ছবিটিও সুপারহিট হলো। মজার বিষয় হলো শেষ পর্যন্ত থেকে শুরু করে স্বরলিপি, পিচঢালা পথ, টাকা আনা পাই, মানুষের মন—সব কটি ছবিই রাজ্জাক–ববিতা জুটি। প্রতিটি ছবিই সুপারহিট।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সুভাষ দত্ত নির্মাণ করলেন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের গল্প। পাকিস্তানি সৈন্যদের বর্বরতার কাহিনি। ছবির পুরো শুটিং হয়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। ছবিতে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাকে ধর্ষণ করে। আমার চোখের সামনে আমার ভাই, বোন, বাবা, মাকে মেরে ফেলা হবে। গুলি চলল, পরিবারের সবাই লুটিয়ে পড়ল। মনে হলো সত্যিই আমি আমার পরিবারকে হারিয়েছি। আমি কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে গেলাম। সেই দৃশ্য ধারণ হলো, আমি আর উঠি না। সুভাষদা এসে বললেন, ববিতা ওঠো। তুমি তো দারুণ অভিনয় করেছ। কিন্তু আমি তার কিছুই শুনতে পাইনি।

তখন আমরা গেন্ডারিয়ায় থাকি। বাড়িতে একদিন আমার নামে একটা চিঠি এল। চিঠি লিখেছেন সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবির প্রযোজক নন্দ ভট্টাচার্য। চিঠিতে লেখা, ভারতের বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায় তোমাকে একবার দেখতে চেয়েছেন। তাঁর ছবিতে তোমাকে নিতে চেয়েছেন। বিভূতিভূষণের একটা উপন্যাস থেকে ছবি। তুমি কি একবার কলকাতায় আসতে পারবে?

সেই চিঠি পড়ে আমি তো হাসতে হাসতে শেষ। তখন মনে হয়েছে, কেউ দুষ্টুমি করে চিঠি লিখেছে। বিশ্বাসই হতে চায়নি এই চিঠি সত্যজিৎ রায়ের ছবির প্রযোজকের লেখা। কিন্তু কয়েক দিন পর বাংলাদেশের কলকাতা দূতাবাস থেকে বাসার ল্যান্ডফোনে ফোন এল। বলা হলো, আপনাকে সত্যজিৎ রায় চিঠি পাঠালেন, আপনি কি বিষয়টি সিরিয়াসলি নেননি? আপনাকে তাঁর ছবিতে নিতে চান। আপনারা শিগগিরই যোগাযোগ করুন। তখন সুচন্দা আপা বললেন, এটা তো সিরিয়াস ব্যাপার। আমি আর সুচন্দা আপা তখন কলকাতা গেলাম। সব ব্যবস্থা করলেন ছবির প্রযোজক নন্দ ভট্টাচার্য। কলকাতায় আমাদের রিসিভ করলেন তিনি। আমরা উঠলাম গ্র্যান্ড হোটেলে। পরদিন সকালে সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতেই গেলাম। তিনি নিজেই দরজা খুলে দিলেন। সেই প্রথম দীর্ঘদেহী মানুষটাকে স্বচক্ষে দেখলাম। মানিকদা! আমার চোখ আর সরে না। ভয়ে জড়সড়। আমাকে দেখে মানিকদা বললেন, ‘ও, তুমি ববিতা! এস এস, বসো।’ আমরা সোফায় বসতেই তিনি বললেন, ‘তুমি এত মেকআপ করেছ কেন? আমি তো তোমাকে এ রকম মেকআপে দেখতে চাইনি।’ শুনে আমি আরও ঘাবড়ে গেলাম। মানিকদা আপাকে বললেন, ‘ও এত লাজুক মেয়ে। কথাই তো বলতে পারছে না। ও কি অভিনয় করতে পারবে?’ সুচন্দা আপা তখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, ‘দাদা, বাংলাদেশে ওর তো চার–পাঁচটা ছবি মুক্তি পেয়েছে। সব কটিই দর্শক গ্রহণ করেছে।’

সত্যজিৎ রায় বললেন, ‘ঠিক আছে। কাল তোমরা ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে আসো। অবশ্যই মেকআপ ছাড়া।’ তিনি ছবির তিনটা স্ক্রিপ্ট দিয়ে বললেন, ‘তিন ধরনের স্ক্রিপ্ট দিলাম—রোমান্টিক, সিরিয়াস আর ড্রামা টাইপ। মুখস্থ করে আসবে। আমি ক্যামেরার সামনে দেখব, তোমাকে দেখতে কেমন লাগে, তোমার অভিনয় কেমন, তোমার ভয়েস, তোমার সংলাপ বলার ধরন—সবকিছুর টেস্ট হবে।’ হোটেলে ফিরে সারা রাত জেগে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করলাম।

পরদিন আমরা ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম। মানিকদা আমাকে দেখে বললেন, ‘ও মা, এ আমি কাকে দেখছি! তুমি তো মেকআপ ছাড়াই অনেক সুন্দর।’ তিনি মেকআপ আর্টিস্টকে ডেকে বললেন, ‘একে কোনো মেকআপ দেবে না। শুধু সিঁথিতে সিঁদুর দেবে। আর আটপৌরে শাড়ি পরাবে। হাতে শাঁখা থাকবে। আর কিছু না।’

আমি তৈরি হয়ে সেটে ঢুকলাম। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। মানিকদা ক্যামেরা অন করলেন। বললেন, ‘অ্যাকশন।’ আমি যেন তখন অন্য জগতে ঢুকে গেছি। ভয় নেই। মানিকদা যা যা করতে বলছেন, আমি তাই তাই করছি। লাইট, ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়ে মানিকদা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সুচন্দা আপাকে বললেন, ‘ইউরেকা ইউরেকা, আমি আমার অনঙ্গ বৌকে পেয়ে গেছি। এই মেয়েই হবে আমার অনঙ্গ বৌ।’

এরপর সবকিছু চিঠি চালাচালিতেই চূড়ান্ত হলো—কবে থেকে কোথায় শুটিং। বোলপুর, শান্তিনিকেতন—আমাদের প্রথম শুটিং হয়েছিল ওখানে। আমার সঙ্গে আমার বাবা গিয়েছিলেন শুটিংয়ে। মনে আছে, ট্রেনে করে শান্তিনিকেতনে গেলাম। যেখানে শুটিং, সেই গ্রামটায় গেলাম। কী অপূর্ব। চালের ওপর চালকুমড়া, লাউ, টিয়া পাখি, একটা কুকুর উঠানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশে ধানখেত। একটা সুন্দর বাড়ি। কিন্তু যখন শুনলাম অশনি সংকেত–এর জন্যই এই সেট ফেলা হয়েছে, আমার বিশ্বাসই হতে চাইল না।

সেটের মধ্যে শুটিং শুরু হয়ে গেল।

default-image

কয়েকটি দৃশ্যের কথা বলতে পারি। একদিনের দৃশ্য। আমি আলুর খোঁজে গেছি। একটা দুষ্টু লোক আমাকে জোর করে ধরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তার বাজে স্পর্শ যেন ধুয়ে যায়, তাই নদীতে স্নান করে বাড়ি ফিরি। গঙ্গাচরণ ( সৌমিত্রদা) গেছেন চালের খোঁজে। তিনি চাল জোগাড় করে বাড়ি ফিরে পা ধুচ্ছেন বদনা দিয়ে।

মানিকদা বললেন, তুমি স্নান করে এসে দরজার সামনে দাঁড়াবে। ওই ঘটনা তোমার স্বামীকে বলবে না। নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখবে। আস্তে আস্তে হেঁটে আসবে। ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদবে। তোমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়বে। গ্লিসারিন দেব না। তোমাকে সত্যি সত্যি কাঁদতে হবে।

আমি বললাম, দাদা, আমি চেষ্টা করব। এরপর পুরো দৃশ্য ধারণ করা হলো। একদম ঠিক সময়ই সৌমিত্রদাকে জড়িয়ে ধরলাম। ঠিক সময়েই আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। মানিকদা মুগ্ধ হয়ে গেলেন। ইউনিটের সবাই হাততালি দিয়ে উঠলেন। মানিকদা বললেন, অপূর্ব। তুমি দারুণ অভিনয় করেছ।

সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরেই আমার আন্তর্জাতিক যাত্রাটা শুরু হলো। অশনি সংকেত–এর মাধ্যমেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ববিতা নামটি পরিচিতি পেল। সবাই জানলেন, ববিতা বাংলাদেশের মেয়ে। সারা পৃথিবীর মানুষ যারা সত্যজিৎ রায়কে চেনেন, তাদের কাছে ববিতা নামটিও পরিচিতি পেল। এরপর আমি বাংলাদেশের পতাকা হাতে অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছি। স্বীকৃতি পেয়েছি।

ঈদ আনন্দ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন