এ মাসের শুরুর দিকে নেটে বোলিং শুরু করেন তাসকিন, যিনি ভুগছিলেন কাঁধের চোটে। এ কারণে ইংল্যান্ড যেতে হয়েছিল তাঁকে, তবে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার লাগেনি। এর মধ্যেই পিঠে ব্যথা পাওয়া একরকম শঙ্কা জাগালেও আজ ফিটনেস টেস্টে কোনো সমস্যা হয়নি বলেই জানিয়েছেন, ‘গতকাল এবং আজ একশ শতাংশ দিয়েই বোলিং করার চেষ্টা করেছি এবং এফোর্টগুলো ঠিক ছিল। সব ধরনের বলই চেষ্টা করেছি এবং এখানে আমাদের নির্বাচক, চিকিৎসকেরা সবাই ছিলেন। তারাও সন্তুষ্ট, আমিও সন্তুষ্ট। সমস্যা হয়নি, এখন সামনে বাকি সব আল্লাহর ইচ্ছা।’

default-image

সব ঠিক থাকলে সীমিত ওভারের দলের সঙ্গে ২৪ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে রওনা দেবেন তাসকিন। সাম্প্রতিক সময়ে যিনি পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর তাঁর প্রশংসাও করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বলেছেন, পেসারদের পথ দেখাচ্ছেন তাসকিন।

স্বাভাবিকভাবেই সাকিবের প্রশংসা অনুপ্রাণিত করছে তাসকিনকেও, ‘কোনো সন্দেহ নেই তিনি (সাকিব) একজন কিংবদন্তি। তিনি যখন বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভালো লেগেছে আমার। আরও অনুপ্রাণিত করেছে আমাকে যে আমি আরও ভালো করতে পারব। খুব ভালো লেগেছে আসলে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে থাকলেও টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়নি তাসকিনকে। সর্বশেষ গত বছর নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলেছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে সব সংস্করণেই খেলার ইচ্ছাটা আবারও জানালেন তিনি, ‘আমি সব ফরম্যাট খেলতে চাই, ভাই। সব ফরম্যাট। যদি কখনো দেখি পারছি না, তখন বলব। কিন্তু এখন আসলে মনে হয় না (বিশ্রাম নিতে হবে)। এখন আসলে ফিট হয়ে ভালোমতো খেলার উপযুক্ত সময়। আমার স্বপ্ন আসলে বিশ্বমানের হতে চাই। এখনো ওই সময় আসে নাই যে আমার বিশ্রাম দরকার। যদি কখনো মনে হয়, না, ম্যানেজ করতে পারছি না, তখন…কিন্তু এখনো ওই সময় হয় নাই।’

default-image

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বেশ বড় হারেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। এরপর তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। সর্বশেষ সফরে অবশ্য সীমিত ওভারের দুই সংস্করণের সিরিজই জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে তাসকিন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সহজ নয় কোনো কিছুই, ‘আসলে সব ফরম্যাটই আমাদের পছন্দের। কিছু ফরম্যাটে ভালো হয়, কিছু ফরম্যাটে খারাপ হয়। সাদা বলে ভালো দল আমরা। আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো করার। তবুও ক্রিকেট খেলা—কোনো কিছুই সহজ হবে না ওদের কন্ডিশনে। ভালো করতে হলে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে এবং আল্লাহ যদি চায় আমাদের সেই সামর্থ্যও আছে। এখন দেখি কী হয়।’

তাসকিন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চোট পেয়েছিলেন গত এপ্রিলে। সব ছাপিয়ে লম্বা বিরতির পর দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেই আপাতত রোমাঞ্চিত তিনি, ‘এখন যেটা আছে হাতে সেটাতেই ফোকাস করতে চাচ্ছি। নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, দেখভাল করা—আল্লাহ যদি চান প্রায় আড়াই মাস পর দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে এটা সব চেয়ে বেশি আনন্দের। একজন খেলোয়াড়ের জন্য এটাই সব চেয়ে শান্তির বিষয়—দলের সঙ্গে থাকা।’

তাসকিনরা রওনা দেবেন ২৪ জুন, ওই দিনই সেন্ট লুসিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে বাংলাদেশের। এরপর ২ জুলাই থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি সিরিজ, ১০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে সফর শেষ হবে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন