সাম্প্রতিক সময়ে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চরম অভাবে ভুগছে দেশটি। তবে এরই মধ্যে সফলভাবে অস্ট্রেলিয়াকে আতিথেয়তা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা, হয়েছে তিন সংস্করণের সিরিজ। এখন দেশটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহ পর্যন্তও এশিয়া কাপ আয়োজনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল শ্রীলঙ্কা।

default-image

তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সঙ্গে এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট আয়োজনে পার্থক্যও অনেক। বাছাইপর্বসহ সব মিলিয়ে অংশ নেবে ৯টি দল। ক্রিকইনফোকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি ডি সিলভা বলেছেন, ‘দুই দলকে আতিথেয়তা দেওয়া আর দশ দলকে দেওয়া এক ব্যাপার নয়। জ্বালানিসহ ১০টি বাস দিতে হবে। লাগেজের জন্য ভ্যান লাগবে, সেখানেও জ্বালানি লাগবে। ম্যানেজারদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করার ব্যাপার আছে। স্পনসরদেরও গাড়ি দিতে হবে। ফ্লাডলাইটের জন্য জেনারেটর লাগবে, সেটিও পেতে হবে।’

এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট মানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাড়তি আকর্ষণ। এ ফরম্যাটে লিগ পর্বেই দুই দলের দুবার মুখোমুখি হওয়ার কথা। ডি সিলভা সমস্যা দেখছেন সেখানেও, ‘ভারত-পাকিস্তানের দুটি ম্যাচ আছে। লোকে এ ম্যাচ দেখার জন্য আসতে চাইবে। তবে শ্রীলঙ্কার এখনকার যে পরিস্থিতি, তাতে মানুষ এখন ভ্রমণ করতে না-ও চাইতে পারে।’

ভেন্যু বদলালেও অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের আর্থিক কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি অন্য দেশে হলে স্বাভাবিকভাবেই হোটেল এবং অন্যান্য খাতে শ্রীলঙ্কার লাভের সম্ভাবনা থাকবে না।

এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে এশিয়া কাপ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছে, ‘আমরা শ্রীলঙ্কাকে সমর্থনের দিকেই প্রাধান্য দেব। শ্রীলঙ্কায় এ টুর্নামেন্ট না হলে বিশাল আর্থিক ও ক্রিকেটীয় ক্ষতি হবে। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সফর কোনো সমস্যা ছাড়াই শেষ হয়েছে। একইভাবে পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সফর নিয়েও কোনো ঝামেলা হয়নি। আমরা ক্রমাগত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ও আমাদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এসিসির প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা, তাতে টুর্নামেন্টটি এ মুহূর্তে ঠিক পথেই আছে। তারা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই।’

পিসিবি শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন দিলেও অবশ্য এশিয়া কাপ সেখানে না হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে আজকের আরেক সিদ্ধান্তে। দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা ছিল লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের, সেটি স্থগিত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টটির স্বত্ব যে কোম্পানির কাছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এটি আয়োজন করতে রাজি নয় বলেই নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন