ব্যাটিং মনে হচ্ছিল খুবই সহজ কাজ। ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরনও যে উইকেট নিয়ে ভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, সেটিরও উদাহরণ আজকের ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংও তাদের মতো হয়নি। সেটা হলে হয়তো ব্যতিক্রম কিছু হতেও পারত।

পাকিস্তানকে আরও এগিয়ে দিয়েছে তাদের ডেথ বোলিং। নিউজিল্যান্ডের হাতে উইকেট থাকার পরও তাদের দ্রুত রান নিতে দেয়নি শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। ১৫২ রান যেহেতু খুব বেশি নয়, পাকিস্তানও তাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে। এ ধরনের স্কোরে বাবর-রিজওয়ান জুটি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা আরও একবার দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।

অথচ এ ম্যাচের আগে এই ওপেনিং জুটিই পাকিস্তানের ক্ষতির কারণ মনে হচ্ছিল। তারা ভালো শুরু এনে দিতে পারছিল না। কিন্তু যেদিন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেদিনই এই দুজন ছন্দে ফিরেছে, দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। এর চেয়ে ভালো প্রত্যাবর্তন আর হয় না। একবার চিন্তা করুন, আজকের ম্যাচে যদি দুজনই ব্যর্থ হতো, আর পাকিস্তান যদি হেরে যেত, তাহলে এ দাগ চিরকাল থেকে যেত।

বিরাট কোহলিকেও কিছুদিন আগে বাবরের মতো রানখরার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু যখন কোহলি রানে ফিরেছে, তখন তাকে আর কেউ থামাতে পারেনি।

বাবর নিশ্চয়ই এ মুহূর্তে নিজের পারফরম্যান্সে খুবই খুশি। এ ধরনের ক্রিকেটাররা ভালো অনুভব করলে কিন্তু ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আর পাকিস্তানের জন্য এটা বিরাট সুখবর। কারণ, একদম সঠিক সময়ে দুজন ছন্দে ফিরেছে। এখন বলাই যায়, পাকিস্তান যোগ্য দল হিসেবেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। ফাইনালে যে দলই আসবে, তাদের জন্য পাকিস্তান সহজ প্রতিপক্ষ হবে না।

আরেক দুই সেমিফাইনালিস্ট ভারত ও ইংল্যান্ডও নিশ্চয়ই ম্যাচটা দেখেছে। কাল দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। সব দিক বিবেচনায় সে ম্যাচে ভারতকেই এগিয়ে রাখব।

কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই ইংল্যান্ডের। ওরা যদি পারফর্ম করে, তাহলে ম্যাচ যেকোনো দিকেই যেতে পারে। আর ভারতের কথা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। সূর্যকুমার তো দুর্দান্ত ফর্মে আছে। কোহলির মতো বড় ক্রিকেটার ছন্দে আছে, যা ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বড় ম্যাচে দলের ইনিংসটা ধরে রাখার স্নায়ু সবার নেই। কোহলি এ কারণেই ভারতের অমূল্য সম্পদ।

ইংল্যান্ডের চেয়ে চাপ অবশ্য ভারতেরই বেশি থাকার কথা। কারণ, তাদের জিততেই হবে। আজ পাকিস্তানের জয় তাদের ওপরও প্রচ্ছন্ন চাপ সৃষ্টি করবে। ভারত যদি ফাইনালে না যায়, সেটা সমর্থকেরা সহজে মেনে নেবে না। এমন ম্যাচে ঘুরেফিরে স্নায়ুর চাপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। কে কতটা চাপ সামলে তাদের দক্ষতাটা ফুটিয়ে তুলতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, এই দুই দল রোমাঞ্চকর একটা ম্যাচই উপহার দেবে।