অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: বাংলাদেশের সেমিফাইনালের পথ কতটা ‘কঠিন’

সুপার সিক্সে গেলেও সেমিফাইনালের পথটা সহজ নয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরআইসিসি

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব পেরিয়ে সুপার সিক্সে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। পরের ধাপ সেমিফাইনাল। তবে টুর্নামেন্টের ফরম্যাট এমন, প্রথম পর্বে ভারতের কাছে একটি ম্যাচ হারই ‘কাল’ হয়ে দাঁড়াতে পারে ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

প্রথম পর্বে ১৬ দলের মধ্যে ১২টিরই জায়গা হয়েছে সুপার সিক্সে। সেখানে ৬টি দল নিয়ে দুটি গ্রুপ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল যাবে সেমিফাইনালে।

বাংলাদেশ আছে গ্রুপ ওয়ানে। সেখানে অন্য পাঁচটি দল ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, নেপাল ও আয়ারল্যান্ড। তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলই সুপার সিক্সে খেলবে দুটি করে ম্যাচ। প্রথম পর্বে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে আসা বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম দল পাকিস্তান ও তৃতীয় দল নেপালকে।

তবে সুপার সিক্স পর্ব শুরুর আগেই প্রথম পর্বের পয়েন্ট ও নেট রানরেটও সঙ্গে এসেছে দলগুলোর। এ ক্ষেত্রে অবশ্য প্রতিটি গ্রুপ থেকে যে দলগুলো এসেছে, শুধু তাদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচের পয়েন্টই এসেছে। যেমন বাংলাদেশ প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডযুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও হেরেছে ভারতের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পর্ব পেরোতে পারেনি, ফলে সুপার সিক্সে বাংলাদেশের সঙ্গে এসেছে শুধু আয়ারল্যান্ডকে হারানো ম্যাচ থেকে পাওয়া পয়েন্ট।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

নতুন একটি পর্ব হলেও বাংলাদেশ তাই সুপার সিক্স শুরু করবে চার নম্বরে থেকে। ভারত ও পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে সব কটি করে ম্যাচই জিতেছে বলে তাদের আছে ৪ পয়েন্ট করে। নেট রানরেটেও বেশ এগিয়ে তারা। নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট বাংলাদেশের সমান হলেও নেট রানরেটে একটু এগিয়ে তারাও। তলানিতে থাকা দুটি দল নেপাল ও আয়ারল্যান্ডের পয়েন্ট নেই, নেট রানরেটও সুবিধার না। শেষ চারের সম্ভাবনা তাই বেশ কম তাদের।

দাপুটে পারফরম্যান্স দিয়েই সুপার সিক্সে এসেছে পাকিস্তান
আইসিসি

মূলত প্রথম চারটি দলের মধ্যেই লড়াই হবে, তা বলাই যায়। স্বাভাবিকভাবেই সুপার সিক্সে দুই দলের মধ্যে বাংলাদেশের তুলনামূলক কঠিন প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। প্রথম পর্বে আফগানিস্তান (১৮১ রান), নেপাল (৫ উইকেট) ও নিউজিল্যান্ডকে (১০ উইকেট) পাত্তা দেয়নি পাকিস্তান। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তাদের বিপক্ষে রেকর্ডও সুবিধার নয় বাংলাদেশের। সর্বশেষ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ৫ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে আরেক প্রতিপক্ষ নেপাল প্রথম পর্বে জিতেছে একটি ম্যাচ, সেটিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ উইকেটের ব্যবধানে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নেপাল বাংলাদেশের চেনা প্রতিপক্ষ নয় মোটেও। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তাদের বিপক্ষে একটি ম্যাচ হয়েছিল বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন

এ পর্বে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও নেপাল। ফলে দুটি ম্যাচই এখনকার চ্যাম্পিয়নরা হারলে সেটি হবে বড় অঘটনই। একটি ম্যাচ জিতলেও নেট রানরেটের সুবাদে ভারতের সেমিফাইনাল তাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের কাছে হারেও, আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নেট রানরেটের সৌজন্যে তারাও চলে যেতে পারে সেমিফাইনালে।

সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে তাই দুটি ম্যাচ জিততে হবে, এটি মোটামুটি নিশ্চিতই। তবে শুধু জিতলেই হবে না, নেট রানরেটের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে বেশ। মোটামুটি একই অবস্থা নিউজিল্যান্ডেরও। সুপার সিক্সে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত ও আয়ারল্যান্ড।

৩১ জানুয়ারি ব্লুমফন্টেইনে নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ, বেনোনিতে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি ৩ ফেব্রুয়ারি।