অস্ট্রেলিয়া কোচ বললেন, রিজওয়ান আউটই ছিলেন
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে শান মাসুদ বিষয়টা এড়িয়েই গেছেন। বলেছেন, এসব খেলারই অংশ। তবে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে রাখঢাক রাখেননি মোহাম্মদ হাফিজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে পাকিস্তান কোচের দায়িত্বে থাকা এই সাবেক ক্রিকেটার মেলবোর্ন টেস্টের চতুর্থ দিনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের আউট নিয়ে সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন।
অস্ট্রেলিয়া কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য মনে করেন, তৃতীয় আম্পায়ারের দেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। হাফিজ প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে যে সংশয় দেখিয়েছেন, সেটি নিয়ে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া কোচ।
মেলবোর্ন টেস্টের চতুর্থ দিনে রিজওয়ান আউট হন প্যাট কামিন্সের বলে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে। শুরুতে ফিল্ড আম্পায়ার এটিকে আউট না দিলে রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। হটস্পটে বলের সঙ্গে রিজওয়ানের ব্যাট বা গ্লাভসের সংযোগ না পাওয়া গেলেও স্নিকোর একটি অ্যাঙ্গেল থেকে স্পাইক ধরা পড়ে। তৃতীয় আম্পায়ারের পরামর্শ নিয়ে মাঠের আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে মাঠেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন রিজওয়ান। তৃতীয় আম্পায়ার ইলিংওয়ার্থের সিদ্ধান্তটি নিয়ে চ্যানেল সেভেনে তাৎক্ষণিক সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যায় আইসিসির এলিট প্যানেলের সাবেক আম্পায়ার সাইমন টফেলকেও।
রিজওয়ানের আউটের আগমুহূর্তে জয়ের জন্য ৯৮ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের, হাতে ছিল ৫ উইকেট। তবে বিতর্কিত আউটটির পর মাত্র ১৮ রানের মধ্যে বাকি ৪ উইকেটও হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাফিজ কাঠগড়ায় দাঁড় করান আম্পায়ারিং ও প্রযুক্তিকে, ‘দল হিসেবে আমরা কিছু ভুল করেছি, সেটা মেনে নিচ্ছি। আমরা এগুলো ঠিক করার চেষ্টা করব। কিন্তু একই সময়ে আমি মনে করি, ভুলভাল আম্পায়ারিং, প্রযুক্তির অভিশাপ...এমন ফল এনে দিয়েছে, যেটা অন্য রকম হওয়া উচিত ছিল। আমি মনে করি, এসব জায়গা ঠিক করতে হবে।’ রিজওয়ানের আউটের পর পাকিস্তান আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, বলেন পাকিস্তান দলের টিম ডিরেক্টর হাফিজ।
তবে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ভিন্নমতই জানিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। রিজওয়ানের আউটটি ‘নিশ্চিত করেই আউট’ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়া কোচ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, অন্যরাও মনে করে যে এটি আউট। আর আউট বলেই এটাকে আউট দেওয়া হয়েছে।’
প্রযুক্তির সাহায্যে অকাট্যভাবে আউট বোঝা যায়নি বোঝাতে গিয়ে হাফিজ প্রযুক্তির অভিশাপের যে প্রসঙ্গটি টেনেছেন, সে বিষয়ে ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্য এ রকম, ‘একটা পর্যায়ে গিয়ে প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েই। তবে আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে যে কোনটা ভালো? প্রযুক্তি থাকলে কি একটু ভালো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়? আমি বলব, পাওয়া যায়। প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়াটা কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার। কিন্তু খেলাটার উপকারই করে এটা।’
পার্থে ৩৬০ ও মেলবোর্নে ৭৯ রানে ম্যাচ জিতে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ৩ জানুয়ারি, সিডনিতে।