বাবর–আব্দুল্লাহর ব্যাটে দারুণ জবাব পাকিস্তানের
পোর্ট অব স্পেনে গতকাল রাতে বাবর আজম ও আব্দুল্লাহ শফিক ক্রিজে জমে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের এক সমর্থকের পোস্ট, ‘দেখে মনে হচ্ছে ইজাজ আহমেদ ও ইনজামাম–উল–হক ব্যাট করছেন!’
ইজাজ ও ইনজামাম পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে অতীতের সোনালি দিনের সারথি। এখনো মিডল অর্ডারের কোনো জুটি ভালো করলে তাদের স্মরণ করেন পাকিস্তানের সমর্থকরা। বাবর-আব্দুল্লাহর তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি দেখেও তা–ই হলো।
অবশ্য ব্যাটিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে চলতি সিরিজে পাকিস্তানের সমর্থকরা তো এমন কিছুর অপেক্ষাতেই ছিলেন। ব্যাটিং ভালো হচ্ছিল না কিছুতেই। ত্রিনিদাদে প্রথম টেস্টে ৯০ রানের হারের নেপথ্য কারণও ছিল বাজে ব্যাটিং।
কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ সময় রাতে পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে চওড়া হয়ে উঠেছিল বাবর-আব্দুল্লাহর ব্যাট। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ২ উইকেটে ২৬৬ রানে দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে মাত্র ৭৮ রানে পিছিয়ে সফরকারী দল।
সব মিলিয়ে চলতি সিরিজে ব্যাটিং বিবেচনায় এই দিনটাই সবচেয়ে ভালো কাটাল পাকিস্তান। শেষ সেশনের শেষভাগে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি (১০৭*) তুলে নেন আব্দুল্লাহ। পাকিস্তান টেস্ট দলে ফিরেই দারুণ ইনিংস খেললেন। ২০২৪ সালের পর টেস্টে এটা তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। বাবর ৮৬ রানে অপরাজিত। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রানের পর টেস্টে এ সময়ের মধ্যে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
৫ উইকেটে ২৩৯ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজের ফিফটিতে ভর করে আরও ১০৫ রান যোগ করে মোট ৩৪৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা।
দলীয় ৩৪ রানে ওপেনার ইমাম-উল-হককে (১৪) হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়েন আব্দুল্লাহ ও আজান আওয়াইস। ৫৫ রানে আওয়াইস আউট হওয়ার পর জুটি বাঁধেন বাবর ও আব্দুল্লাহ। নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং উপহার দেন দুজন। ১০টি চার ও ১ ছক্কা মারেন বাবর। আব্দুল্লার ইনিংসেও ১০টি চার, ছক্কা ২টি। ২০০৬ সালে ওভাল টেস্টের পর এশিয়ার বাইরে তৃতীয় উইকেটে এটাই পাকিস্তানের প্রথম ন্যূনতম দেড় শ রানের জুটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৪৪ (গ্রিভস ৭৩, চেজ ৭০, কিং ৪৬, হোপ ২৯; সাজিদ ৪/৮৫, উবাইদ ২/৬৬, আলী ২/৬৭, উসমান ২/৮০)।
পাকিস্তান: ২৬৬/২ (আব্দুল্লাহ ১০৭*, বাবর ৮৬*, আওয়াইস ৫৫, ইমাম ১৪; শামার ১/৫৮, ওয়ারিক্যান ১/৭৫)।
—দ্বিতীয় দিন শেষে।