কোন আইপিএলে কেমন ছিল মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স
এবারের আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে কাড়াকাড়ি কম হয়নি। ফল, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনে নেয় তাঁকে। তবে এসব এখন ইতিহাস। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দাবির মুখে তাঁকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, কে জানে!
মোস্তাফিজের এটি আইপিএলে নবম মৌসুম হতো। আগের আট মৌসুমে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার কী করেছিলেন বিশ্বের ১ নম্বর ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে।
মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল ক্যারিয়ার
ম্যাচ ১৬, উইকেট ১৭, সেরা ৩/১৬, ইকোনমি ৬.৯০
এলাম, দেখলাম, জয় করলাম—আইপিএলে প্রথমবার খেলতে গিয়েই হইচই ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিলামে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে কেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম ম্যাচেই ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া মোস্তাফিজ ১৮তম ওভারে টানা ২ বলে আউট করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও শেন ওয়াটসনকে। এমন শুরুর পর আরও ১৫ ম্যাচ খেলে ১৭ উইকেট নেন কাটার মাস্টার। তাঁর দল হয় চ্যাম্পিয়ন। মোস্তাফিজ হন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। প্রথম বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এ স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
ম্যাচ ১, উইকেট ০, সেরা ০/৩৪, ইকোনমি ১২.৭৫
জাতীয় দলের হয়ে ব্যস্ততা ও বিসিবির পরামর্শে বিশ্রাম নেওয়ায় মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচই খেলতে পেরেছিলেন। সেই ম্যাচও ভালো যায়নি। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই ১৯ রান দিয়েছিলেন।
ম্যাচ ৭, উইকেট ৭, সেরা ৩/২৪, ইকোনমি ৮.৩৬
নিলামে মোস্তাফিজকে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। পুরো মৌসুমে মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর টানা দুই মৌসুম আইপিএলে দল পাননি মোস্তাফিজ।২০২১ সা
ম্যাচ ১৪, উইকেট ১৪, সেরা ৩/২০, ইকোনমি ৮.৪১
১ কোটি রুপির ভিত্তিমূল্যে মোস্তাফিজকে কিনে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। এবার দলে নিয়মিতই ছিলেন, খেলেছিলেন ১৪ ম্যাচ, নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট।
ম্যাচ ৮, উইকেট ৮, সেরা ৩/১৮, ইকোনমি ৭.৬২
২ কোটি রুপিতে মোস্তাফিজকে কিনে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। আট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে ৮ উইকেট নেন।
ম্যাচ ২, উইকেট ১, সেরা ১/৩৮, ইকোনমি ১১.২৮
পারফরম্যান্সের বিচারে আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের সবচেয়ে বাজে মৌসুম ছিল এটি। মাত্র দুটি ম্যাচই খেলার সুযোগ হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ১টি উইকেট পেলেও পরের ম্যাচে ৩ ওভারে ৪১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
ম্যাচ ৯, উইকেট ১৪, সেরা ৪/২৯, ইকোনমি ৯.২৬
২ কোটি রুপিতে তাঁকে কিনেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে যাওয়ার আগে ৯টি ম্যাচ খেলেন মোস্তাফিজ। ভালোই করেছিলেন, নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। আইপিএল ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংটা (৪/২৯) এ মৌসুমেই পেয়েছেন।
ম্যাচ ৩, উইকেট ৪, সেরা ৩/৩৩, ইকোনমি ৭.৯০
নিলামে নয়, জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাগার্কের বদলি হিসেবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে দলে নেয়। ১৭ মে শারজায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেই পরের দিন দিল্লিতে দিল্লির হয়ে মাঠে নেমে পড়েন। শেষ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।