পাকিস্তান যেন ইমরানকে মুছে ফেলতে না পারে, সে জন্যই ওই চিঠি—মাইকেল আথারটন

ইমরান খানরয়টার্স

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের একটি নিভৃত কুঠুরি। আলো ঢোকে সীমিত, খবর ঢোকে না বললেই চলে। কিন্তু সেই নীরবতার বাইরে এক অদৃশ্য কোলাহল। মাঠের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে একে কথা বলছেন। ব্যাট-বলের লড়াই পেরিয়ে এখন তাঁদের কণ্ঠে অন্য দাবি। মানবিকতার।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান এখন বন্দী। তাঁর চিকিৎসা ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে একযোগে চিঠি লিখেছেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে। ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ সেই চিঠিতে।  

গত ছয় মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন উদ্যোগ। আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। অভিযোগ, সেসব নির্দেশ ঠিকভাবে মানা হয়নি। তাই আবারও কলম ধরেছেন ক্রিকেট বিশ্বের কিংবদন্তিরা।  

আমরা চাই তিনি যেন সেরা চিকিৎসা পান। আমরা আর কিছু চাচ্ছি না, কোনো জবাবও চাচ্ছি না। আমরা কেবল অনুরোধ করছি।
কপিল দেব

কেন এই চিঠি, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটের এক পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ‘গতকাল আমরা ২১ জন সাবেক অধিনায়ক আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছি, যা ইমরান খানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার একটি মানবিক আবেদন। তবে আমার মনে হয় মূল উদ্বেগের বিষয়টি ছিল রাষ্ট্র যেভাবে ইমরানকে একপ্রকার মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, সেটা। অথচ সামাজিক যোগাযোগের এই যুগে কাজটি করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

সেই আলোচনায় ছিলেন আরেক সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনও। তাঁদের কথায় ফুটে উঠেছে উদ্বেগের সুর। শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন

ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবও এই চিঠির প্রেরকদের একজন। একটি গলফ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনীতে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশটির সম্পর্কে খুব বেশি জানি না, সেটা ঠিক আছে। তবে যেকোনো বন্দীর জন্যই ন্যূনতম মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। আর তিনি তো দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার।’

এরপর কপিল যোগ করেন, ‘আমরা চাই তিনি যেন সেরা চিকিৎসা পান। আমরা আর কিছু চাচ্ছি না, কোনো জবাবও চাচ্ছি না। আমরা কেবল অনুরোধ করছি।’

পাকিস্তানের ভেতর থেকে খুব বেশি কণ্ঠ শোনা যায়নি। ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস ছাড়া বড় কোনো তারকা প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। এ প্রসঙ্গে কপিলের মন্তব্য, ‘আমি তাঁদের দোষ দিই না। তাঁরা পাকিস্তানে থাকেন। আমরা বাইরে থেকে দেখছি। তবে আমি এমন এক বন্ধুকে সমর্থন করতে চাই, যাঁর সঙ্গে আমি খেলেছি এবং যাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতাকে আমি সম্মান করি।’

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সড়ক পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের পাশ দিয়ে একটি কারাগারের ভ্যান যাচ্ছে। ইসলামাবাদ, পাকিস্তান, ২০ আগস্ট ২০২৬
রয়টার্স

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে রাখা হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পরীক্ষা করে রাষ্ট্র নিযুক্ত একটি দল, আদালত নির্ধারিত বোর্ড নয়। এরপর দ্রুত তাঁকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেই চিঠি পাঠিয়েছেন সাবেক অধিনায়কেরা।

আরও পড়ুন

চিঠিতে সই করা নামগুলো বেশ ভারী। মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটের মতো কিংবদন্তিরা এতে সই করেছেন। সঙ্গে আছেন নারী ক্রিকেটের বেলিন্ডা ক্লার্ক ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আরেক মামলায় তাঁকে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়।