কে জানে, হয়তো অধিনায়কের মতো অঘটন-কল্পনা করেই খেলা দেখতে এসেছিলেন তাঁরাও। প্রায় মুঠোয় চলে আসা ম্যাচটি এভাবে ফসকে যাওয়ার যন্ত্রণাটা সহ্য হলো না তাঁদেরও। গ্যালারিতে দেখা গেল আবেগময় এক দৃশ্য। বাংলাদেশের হার মানতে না পেরে বাবাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে একটি মেয়ে। কান্না যে বড়ই সংক্রামক! সন্তানের কান্না দেখে অশ্রুসজল হলো বাবার চোখও। কাঁদলেন সেই বাবাও।

ঠিক একই সময়ে ক্যামেরা ধরল বাংলাদেশের ডাগআউট। সেখানেও হতাশার সেই মলিন ছবি। সবার চোখ যেন একই কথায় বলছে, একটুর জন্য যে হলো না! ম্যাচে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার তাসকিনকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, কোনোমতে কান্না চেপে রেখেছেন। কে জানে, এর আগে বা পরে হয়তো কেঁদেছেনও। তবে চিত্রনাট্যটা আরেকটু ভিন্নভাবে লেখা হলে এই কান্না হতে পারত আনন্দেরও।

বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছেন তাসকিন। বল হাতে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই পেসার। আজও রোহিত-কোহলিদের চোখে চোখ রেখে আগুন ঝরিয়েছেন। অধিনায়ক সাকিবও চেয়েছিলেন তাসকিনকে দিয়ে বাজিমাত করতে। তাই শুরুতেই তাঁর চার ওভারের কোটা শেষ করে ফেলেছিলেন সাকিব।

কে জানে, হয়তো শেষ দিকে তাসকিনের ওভার বাঁচিয়ে রাখলে ভারতের রানের চাকাটা আরও আগেই থামতে পারত। এড়ানো যেত তাসকিনের ছলছল চোখের হৃদয়স্পর্শী সেই দৃশ্যও।

হারের পর এমন কান্নার দৃশ্য অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহুবার বাংলাদেশের হারের পর গ্যালারিতে ঝরেছে অশ্রুবৃষ্টি, খেলোয়াড়দের চোখ হয়েছে অশ্রুসিক্ত। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে হেরে সাকিব–মুশফিকদের কান্নার ছবি এখনো ভুলতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবার তা হয়তো অমন তীব্রতা পায়নি, তবে কান্নার গল্পে নতুন করে যুক্ত হলো অ্যাডিলেডও।