৯৯ রানে অপরাজিত আশিক, নড়বড়ে ৯০–এ কাটা সাইফ, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হার

৬ ম্যাচের ৫টিতেই ৫০ ওভারের ম্যাচ হয়নি। সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও আলোক স্বল্পতা, কোথাও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ৫টি ম্যাচই শুরু হয় বেলা ১১টার পর। প্রথম দিনেই ঢাকা লেপার্ডের কাছে হেরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। বিতর্কিত আউটে ক্ষোভ জানিয়েছেন নুরুল হাসান। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের আশিকুর রহমান অপরাজিত থেকেছেন ৯৯ রানে!

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ উদ্বোধন হয়েছে আজপ্রথম আলো

জয়ে শুরু মোহামেডানের

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে জিততে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে এবারের আসরের ফেবারিট মোহামেডানকে। শেষ ৪৮ বলে তাদের ৬১ রান দরকার ছিল। তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী জিতিয়েছেন দলকে। ৩৫ বলে ৩৪ রান করে অধিনায়ক হৃদয় আউট হলেও ২৩ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির।

৩৭ ওভারের ম্যাচে ১৯৫ রান তাড়া করার ভিতটা মোহামেডানকে গড়ে দেন ওপেনার এনামুল হক, ৮৮ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। এর আগে সাদিকুর রহমানের ৬৩ বলে ৫৬ রানে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল সিটি ক্লাব। মোহামেডানের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ নেন ৪ উইকেট।

প্রাইম ব্যাংকের জয়

৪ উইকেট নিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম
বিসিবি

বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে দুই ব্যাংকের লড়াইয়ে জিতেছে এবারের আসরে শক্তিশালী দল গড়া প্রাইম ব্যাংক। বিকেএসপিতে ৩০ ওভারের ম্যাচেও ৫ বল আগেই ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক, সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম পান ৪ উইকেট।

এই রান তাড়া করতে নেমেও অবশ্য ৬ উইকেট হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। তাদের ৭ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিয়েছেন শামীম হোসেন (৩০ বলে অপরাজিত ২৪)। ৩২ বলে ৪৪ রান আসে ওপেনার তানজিদ হাসানের ব্যাট থেকেও।

আরও পড়ুন

৯৯-এ অপরাজিত আশিকুর

পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে ওপেনিংয়ে নেমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ইনিংসটা প্রায় একাই টানছিলেন আশিকুর রহমান। ৩৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের শেষ ওভারটা যখন শুরু হয়, তখন ৯৭ রানে অপরাজিত আশিকুর। প্রথম বলে তিনি স্ট্রাইক দেন মেহেদী হাসানকে।

টানা তিন বল বাউন্ডারি মারার পর শেষ বলে আবার আশিকুরকে স্ট্রাইক দেন মেহেদী। অন্তত ২ রান নিলে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ হতো আশিকুরের, কিন্তু তিনি নিতে পারেন ১ রান। ৮৪ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৯ রানেই অপরাজিত থাকতে হয় তাঁকে।

৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি
বিসিবি

১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড় তোলেন মেহেদীও, ৫১ বলে ৬০ রান আসে ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে—সব মিলিয়ে ৩ উইকেটে ২৮৩ রান করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। রান তাড়ায় ভালোই পাল্লা দেয় রূপগঞ্জ টাইগার্সও। ৪৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের ভিত তাদের দেন এবারই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা কালাম সিদ্দিকী। শেষদিকে ২৭ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চেষ্টা করেন মুক্তারও। কিন্তু ৭ উইকেটে ২৬১ রানের বেশি তুলতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স, ম্যাচ হারে ২২ রানে।

লেপার্ডের শিকার চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে হেরে গেছে নবাগত ঢাকা লেপার্ডের কাছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর টপ অর্ডারের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি, শেষদিকে ২৯ বলে ৫৫ রান করে তবু লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন সাব্বির রহমান।

কিন্তু ওই রান যথেষ্ট হয়নি আবাহনীর জয়ের জন্য। জাকির হাসানের ৬৬ বলে ৭৪ আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ৪০ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ বল আগেই জয় পায় লেপার্ড।

আরও পড়ুন

সাইফের ব্যাটে বসুন্ধরার জয়

পুরো ৫০ ওভার খেলা হয়েছে পূবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (পিকেএসপি)। এই মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৬ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (আগের ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)। আগে ব্যাট করা বসুন্ধরাকে ভালো শুরু এনে দেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলে মাহমুদের সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

৯৬ রানে রানআউট হয়েছেন সাইফ হাসান
বিসিবি

সাইফকে অবশ্য সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান আগেই বিদায় নিতে হয়েছে রানআউটে কাটা পড়ে। তাতে তাঁর দায়ই বেশি। ২ রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয় রানটা তিনি নিতে যান হেলেদুলে, তিনি ভেবেছিলেন থ্রোটা যাবে নন–স্ট্রাইক প্রান্তে। কিন্তু গুলশানের বিশাল চৌধুরীর থ্রোতে দ্রুতই স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিফ। ৩টি করে চার ও ছক্কার ইনিংসে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।

তাঁর আউটের দুই বল আগেই একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে এই ম্যাচে। গুলশানের তানভীরে ওভারে তুলে মারতে গেলে নুরুলের ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। নুরুলের দাবি ছিল, ক্যাচটি ধরার সময় তাঁর পা বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ছিল, রিপ্লেতে দেখেও তেমনই মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৪১ বলে ৪৩ রান করে আউট হতে হয় তাঁকেও।

২৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশানের টপ অর্ডার ব্যর্থ পুরোপুরি। ৬৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করে যা একটু প্রতিরোধ গড়েন জোবায়ের হোসেন। ৩ উইকেট করে পান বসুন্ধরার রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

ব্রাদার্স অলআউট ৮২ রানে

দিনের সবচেয়ে কম রানের ম্যাচ হয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স আর ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচে। ইউল্যাব মাঠে ৩৬ ওভারের ম্যাচে ২৯.৪ ওভার খেলে ৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় ব্রাদার্স। তাদের তিনজন ব্যাটসম্যানই হন রান আউট, গাজী গ্রুপের স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ও লিয়ন ইসলাম নেন ৩ উইকেট করে। পরে নাঈম আহমেদের ৪৯ বলে ৪৮ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৪.৩ ওভারে সহজ জয় পায় গাজী গ্রুপ।

আরও পড়ুন