লিটন কি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবেন, কারা আছেন অস্ট্রেলিয়ার দলে
লিটন দাসকে নিয়ে সুখবরটি আরেকটু পেখম ছড়াল। প্রথমে কথা ছিল চোট কাটিয়ে উঠতে পারলে তিনি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন। এরপর চলে এলেন প্রথম টেস্টেরই বিবেচনায়। কাল জানা গেল, ডারউইনে আজ থেকে শুরু প্রস্তুতি ম্যাচেও লিটনকে খেলানোর ইচ্ছা টিম ম্যানেজমেন্টের।
টিম ম্যানেজমেন্টের এমন ইচ্ছা মানে বোঝাই যাচ্ছে, পায়ের পেশির চোট কাটিয়ে লিটন এখন অনেকটাই খেলার মতো অবস্থায় চলে এসেছেন। ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় লিটন কাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। দৌড়াদৌড়ি করেছেন, ব্যাটিং আর কিপিং প্র্যাকটিসও, তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। আজ ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত হবে তাঁর খেলা না খেলা নিয়ে।
ডিএক্সসি অ্যারেনার প্রস্তুতি ম্যাচটি তিন দিনের। অস্ট্রেলিয়ায় যোগাযোগ করে যা জানা গেল, প্রতি দলে ১৩ জন করে ক্রিকেটার রাখা যাবে। ব্যাটিং–বোলিং করানো যাবে অদল–বদল করে। অর্থাৎ ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে খেলানো যাবে সবাইকে। দলের সঙ্গে থাকা প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চেষ্টা করছে ১৩ থেকে সংখ্যাটা ১৪ জনে বাড়িয়ে নিতে; তাহলে বাড়তি আরও একজনকে খেলিয়ে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে।
ডারউইন সফর হাবিবুলকে কিছুটা নস্টালজিয়ায় ভোগাবে নিশ্চিত। ২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলে ছিলেন; খেলেছেন ডারউইন ও কেয়ার্নসে দুই টেস্টেই। মুঠোফোনে ‘ডারউইনকে এবার কেমন দেখছেন’ জানতে চাইলে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘আজকেই (গতকাল) প্রথম অনুশীলন মাঠে গেলাম। আগের তুলনায় অনেক পার্থক্য চোখে পড়েছে। অনুশীলন মাঠ, সুযোগ–সুবিধা—সবই দারুণ। টেস্ট ভেন্যুও কাছেই, আগামীকাল (আজ) দেখতে যাব।’
ডারউইনে টেস্ট হবে টিআইও স্টেডিয়ামে। হাবিবুলরা যখন খেলেছেন, তখন এই মাঠের নাম ছিল মারারা স্টেডিয়াম। তবে নাম বদলে মাঠের চরিত্র বদলায়নি। আগের মতোই নাকি রানপ্রসবা উইকেট সেখানে।
প্রস্তুতি ম্যাচে ফলাফলের চিন্তার চেয়ে প্রস্তুতিটাই মূল লক্ষ্য হয় সব সময়। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ডারউইনের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই মূল লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। তবে একটা দিক দিয়ে তিন দিনের এই ম্যাচ বাংলাদেশ দলকে ভিন্ন অভিজ্ঞতাও দিতে পারে।
কারণ, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ নামে যে দলটি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ, তারা খুব গুরুত্ব দিয়েই দেখছে ম্যাচটিকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অন্তত সেটিই বলছে। নর্দান টেরিটরি নিউজের (এনটি নিউজ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দিনের ম্যাচটিকে দেখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের যাচাইয়ের মঞ্চ হিসেবে।
টেস্ট ক্রিকেটার থেকে শুরু করে উঠতি প্রতিভাবানদের নিয়ে গড়া এই দলের ওপর দৃষ্টি থাকবে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নির্বাচকদের। তাঁদের কাছে এটি কেবলই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ নয়, অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি সামনে রেখে বিকল্প ক্রিকেটার প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনার অংশও। জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্য তাই সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ হয়ে আসছে এই ম্যাচ।
২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি টেস্ট খেলা কার্টিস প্যাটারসন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক। তরুণদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া বাড়তি দৃষ্টি রাখছে ২০ বছর বয়সী আগ্রাসী মানসিকতার ওপেনার স্যাম কনস্টাসের দিকে। ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে অভিষেকেই যিনি হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর অবশ্য সেই ধারা ধরে রাখতে পারেননি। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে সর্বশেষ টেস্টটি খেলেছেন গত বছর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে।
ব্যাটিংয়ে আরও আছেন ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে, জ্যাক ডোরান, টিগ ওয়াইলি ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশ ফিলিপ। টি–টুয়েন্টির সৌজন্যে সাদা বলের ক্রিকেটে পরিচিত মুখ ফিলিপ এখন লাল বলের ক্রিকেটেও জায়গা করে নিতে চাচ্ছেন। বোলিং আক্রমণে এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ২৮ বছর বয়সী অফ স্পিনার কোরি রকিকিওলি দৃষ্টি কাড়তে পারেন। এনটি নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই রকিকিওলিকে নির্বাচকদের নজরে এনেছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দলে আছেন নর্দান টেরিটরির স্থানীয় পেসার টম মেনজিসও। নিজ শহর ডারউইনে একটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বড় একটা ধাপ হিসেবেই দেখছেন ২০ বছর বয়সী এই পেসার। এলপিএলে ডাক পাওয়া টম রজার্সের পরিবর্তে দলে শেষ মুহূর্তে নেওয়া হয়েছে হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরা ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জ্যাক ক্লেটনকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত তিন মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ভালো করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম এই বাঁহাতি।
সব মিলিয়ে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটাই বাংলাদেশকে একটু হলেও টেস্টের ঝাঁজ ‘উপহার’ দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।