ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট নিয়ে যে শঙ্কা ব্রায়ান লারাদের

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজএএফপি

বোর্ডের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্ব বেশ পুরোনোই। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বেরিয়ে ‘ফ্রিল্যান্স’ ক্রিকেটার হয়ে যাওয়া ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা এখন জাতীয় দলে খেলেন ‘ইচ্ছেমতোই’। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি থাকলেও জাতীয় দলে নিয়মিত পাওয়া যায় না তাদের। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট এর অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে একটি রিভিউ কমিটি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরাডুবি নিয়ে বিশ্লেষণ করা এ রিভিউ কমিটিতে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারা, কোচ মিকি আর্থার ও প্যাট্রিক থম্পসন জুনিয়র।

সর্বশেষ বিশ্বকাপে নিকোলাস পুরানের দলের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল বলে মনে করে সে কমিটি। তারা অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) পরপরই। সেখানে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বই পেরোতে ব্যর্থ হয় দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পরে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান পুরান

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের কাছে। রিভিউ কমিটির এ টুর্নামেন্টে দলের ভরাডুবির পেছনের কারণ হিসেবে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে এভাবে, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হয়েছে আর্দ্র ও ঠান্ডা হোবার্ট, তাসমানিয়ায়। যেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশি মিল উত্তর ইংল্যান্ডের। দলের প্রস্তুতিতে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প করা হয়নি, সিপিএলও তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা
ছবি : টুইটার

২০২৪ সালে পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজেই। কিছু পদক্ষেপ নিলে সেটিতে ভালো করা সম্ভব বলে মনে করে রিভিউ কমিটি। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও জাতীয় দলের খেলার ক্ষেত্রে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের একটি মাঝামাঝি অবস্থানে আসতে হবে বলেও মনে করে তারা। এ জন্য দরকার পড়লে দুই পক্ষকেই খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ, ক্ষোভ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

অবশ্য রিভিউ কমিটির মতে, বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সুনীল নারাইন, আন্দ্রে রাসেলদের মতো টি-টোয়েন্টির শীর্ষ পারফর্মাররা ছিলেন না সর্বশেষ বিশ্বকাপে। ফ্লাইট মিস করে না যেতে পারা শিমরন হেটমায়ারকেও বাদ দেওয়া হয়। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তাঁরা নিয়মিতই খেলেন।

লারাদের রিভিউ কমিটি মনে করে, বোর্ডের যে অনাপত্তিপত্র, সেটি খেলোয়াড়দের বিপক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। খেলোয়াড়েরা তাঁদের সর্বোচ্চ আয়ের কথাই ভাববেন। তবে ‘এতে যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ক্ষতি না হয়’, সেটিও দেখতে হবে বলে মনে করে ওই কমিটি।

‘অনাপত্তিপত্র খেলোয়াড়দের বিপক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু মাঝামাঝি একটা উপায় বের করাও জরুরি। না হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট এর অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে। এ গ্রুপ (কমিটি) ধ্বংসাত্মক কোনো অনুমান করতে মুখিয়ে নেই, কিন্তু ভবিষ্যতের মেধাকে যারা ঠিকঠাক গুছিয়ে কাজে লাগাতে পারে না, সেটির তেমন টেকসই ভবিষ্যত থাকে না’—যোগ করেছে রিভিউ কমিটি।

ক্রিকেটীয় স্কিল বাড়াতে সীমিত ওভারের সেরা খেলোয়াড়—পুরান, এভিন লুইস, আকিল হোসেন, ওডিন স্মিথ, হেটমায়ার, শেই হোপ, ব্র্যান্ডন কিং, রোভমান পাওয়েলদের টেস্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দিতে বলেছেন লারা, আর্থাররা। তাঁদের মতে, এতে র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলে নিজেদের স্কিল উন্নত করতে পারবেন এ ক্রিকেটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য যেকোনো সংস্করণেই ১১-১৩ জন সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করতেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে রিভিউ কমিটির পর্যবেক্ষণে।