মিঠুনের ‘জীবনের অন্যতম বড় ভুলে’ খুশি হয়েছিলেন মঈন
মঈন আলী যখন ক্রিজে আসেন, তখনো সিলেট টাইটানসের রান দেড় শ হবে কি না, তা নিয়েই সংশয়। ১৮ ওভারে তাদের রান ছিল ১৩৫। এর মধ্যেই ১৯তম ওভারে ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন নিয়ে আসেন অফ স্পিনার নাসির হোসেনকে।
সেই এক ওভারেই ৩ ছক্কা আর ২ চারে নেন ২৮ রান মঈন। সিলেটের ম্যাচটা যেন ফসকে যায় সেখানেই। এ সিদ্ধান্তকে জীবনেরই অন্যতম বড় ভুল বলে মনে করেন মিঠুন। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে প্রশ্নে তাঁর সোজা উত্তর, ‘এটা আসলে আমি বলব যে আমার জীবনের অন্যতম বড় ভুল।’
তবে নাসির ওই ওভারের আগে যে বোলিং করছিলেন, সেটিই তাঁর ওপর ভরসা এনেছিল বলে জানিয়েছেন মিঠুন। আগের ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছিলেন নাসির। করেছিলেন একটি মেডেন ওভারও! তবে তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ওভার বাকি থাকার পরও নাসিরকে শেষ দিকে বোলিংয়ে নিয়ে এসে আক্ষেপই করতে হচ্ছে মিঠুনকে।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘এর আগে নাসির ৩ ওভারে ৭ রান দিয়েছে, তাঁর ওপরে আমার ওই বিশ্বাসটা ছিল। মঈন ভাই যখন উইকেটে আসেন, আমি মনে করেছিলাম স্পিনারের বল তখন গ্রিপ করবে। নাসিরের মধ্যে তাঁকে আটকানোর সামর্থ্যও ছিল।’
তিনি যোগ করে বলেন, ‘বাকি পেস বোলাররা ওই সময় কিন্তু ১০-১২ রান করে দিয়ে যাচ্ছিল। আমি বলব যে সফল হলে তো অবশ্যই ভালো হতো। কিন্তু একই সঙ্গে ওই সময় নাসিরকে আসলে বোলিংয়ে আনাটা আমার ঠিক হয়নি। এটা আমার অনেক বড় ভুল হয়েছে। আমার হাতে যেহেতু অপশন ছিল, আমি অন্য কোনো অপশন ব্যবহার করতে পারতাম।’
তাঁর এই ভুলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ২০ রানে হারিয়ে প্লে অফের পথে এগিয়ে গেছে সিলেট টাইটানস। ৮ বলে ২৮ রানের ইনিংসের পর বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মঈন।
১৯তম ওভারে নাসিরকে দেখে অবাক না হলেও খুশি হয়েছিলেন বলে ম্যাচের পর জানিয়েছেন মঈনও, ‘আমারও আসলে মনে হচ্ছিল অফ স্পিনার আসতে পারে। কারণ, ও তিনটা ভালো ওভার করেছিল। কিন্তু অফ স্পিনার আসায় বা তখন অন্য যেকোনো স্পিনার এলেই আমার তখন খুশি হওয়ারই কথা। কারণ, আমাকে মারতেই হতো। আজকের দিনটা আমার ছিল আসলে।’