গিলক্রিস্টের প্রশংসা, ডারউইনে ভালো খেলার রহস্য জানালেন তানজিদ
১০১ রানের ইনিংসে টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য দেখালেন তানজিদ হাসান। আর তিনি নিজে তা দেখলেন আউট হওয়ার পর, ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে যখন মারারা স্টেডিয়ামের দর্শকেরা তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন।
দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে তানজিদ বললেন, ‘খুব ভালো লাগছিল। এটাই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য, যা আজকে অনুভব করেছি। উইকেটটা নতুন বলে খুব ভালো ব্যাটে আসে। তবে বল যখন পুরোনো হয় তখন কিছুটা কঠিন হয়ে যায়।’
বাবা–মাকে উৎসর্গ করা নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসের পুরোটাই সাবলীল ব্যাট করে গেছেন তানজিদ। দেখে মনেই হয়নি, ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে তিনি লড়ছেন অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে। নিজের ও দলের ব্যাটিং নিয়ে তাঁর কথা, ‘খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। আমাদের পরিকল্পনা এটাই ছিল যে প্রথম সেশনটা কীভাবে কাটাতে পারি। ওরাও অনেক ভালো বোলিং করেছে, তাই আমাদেরও চিন্তা ছিল যে আমরা অতিরিক্ত কিছু করব না। দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়াটা আমার জন্য সত্যি অনেক ভালো লাগার একটা ব্যাপার।’
সেঞ্চুরি করলেও নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের খেলাটা একটু কঠিনই মনে হয়েছে তানজিদের কাছে। তবে সে রকম সময়গুলো তাঁরা পার করেছেন পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে। তানজিদের ভাষায়, ‘ওরা এক নম্বর দল, কঠিন সময় তো অবশ্যই দেবে। আমার মনে হয়েছে ওদের বিপক্ষে নতুন বলে খেলাটা একটু কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে শট কমিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়, চেষ্টা করেছি বাজে শট না খেলে কীভাবে জুটি গড়া যায়।’
এ নিয়ে উদাহরণও দিয়েছেন তানজিদ, ‘আপনি দেখবেন যে আমার সাথে শান্ত ভাইয়ের (নাজমুল) জুটি, মুমিনুল ভাই এবং মুশফিক ভাই–শান্ত ভাইয়ের (নাজমুল) জুটি অনেক ভালো ছিল, যা বড় রান করতে অনেক সাহায্য করেছে।’ অস্ট্রেলিয়ার কোন বোলারকে খেলা বেশি কঠিন মনে হয়েছে জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘আমি আসলে কখনো বোলার দেখে খেলি না, সব সময় চেষ্টা করেছি বলের মেরিট অনুযায়ী ব্যাটিং করতে।’
১৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ, হাতে এখনো ৪ উইকেট। বাকি দিনগুলোর পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তানজিদ বলেছেন, ‘আমি যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি, উইকেট খুব ভালো ছিল। শেষে হাসান এবং মিরাজ ভাই যেভাবে ব্যাটিং করছে, তখনো দেখে ভালোই মনে হয়েছে। তবে ওরা অনেক ভালো লাইনে বল করছে। আমরা যত বেশি ব্যাটিং করতে পারব, তত আমাদের জন্য ভালো। যেহেতু হাতে এখনো তিন দিন সময় আছে, আমরা চাইব যত বেশি সেশন ব্যাটিং করা যায়। যত বেশি রান করা যাবে বোলারদের জন্য কাজটা তত সহজ হবে।’
তানজিদ আউট হয়েছেন দ্বিতীয় সেশনের পানি পানের বিরতির পরপর। চা–বিরতির সময় সম্প্রচার চ্যানেলের হয়ে তানজিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, যেটি ছিল তাঁর জন্য আরেকটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। দিন শেষেও তানজিদের কণ্ঠে ধরা পড়ল তা, ‘অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দের একজন খেলোয়াড়। তিনি যখন আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন, তার আগে আমাকে বলছিলেন যে তিনি আমার ব্যাটিংটা অনেক উপভোগ করেছেন। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগার বিষয়।’
ডারউইনে দুই দিন ধরে শুধু প্রশংসাই পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিনে হাসান–তাসকিন–ইবাদতদের বোলিং; দ্বিতীয় দিনে তানজিদের সেঞ্চুরি আর নাজমুল হোসেনের ৮৪–এর পর মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে হাসান মাহমুদের প্রতিরোধ—সব প্রশংসারই যোগ্য অবশ্য।
তানজিদের দৃষ্টিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দুই দিনই বাংলাদেশের দাপট ধরে রাখার মূল কারণ প্রস্তুতিটা ভালো হওয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এটা দারুণ প্রস্তুতি ছিল। আমরা ১ আগস্ট এখানে এসেছি। এরপর কয়েকটি অনুশীলন সেশন করেছি, পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি, যেটা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।’