৪৩ বলে শামীমের ৮১, তবুও জেতা হলো না দলের
আজমতউল্লাহ ওমরজাই যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, সিলেট টাইটানসের রান ১৩.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৯২। মোট রান দেড় শ হবে কি না, সংশয়ে সমর্থকেরা। এমন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচে মোড় ঘুরিয়ে দিতে ওমরজাইয়ের লাগল মাত্র ২৪ বল।
৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ রানের অপরাজিত থেকে দলকে নিয়ে গেলেন পৌনে দুই শর কাছাকাছি। আইএল টি-টোয়েন্টি খেলে কাল রাতে সিলেটের সঙ্গে যোগ দেওয়া ওমরজাই এরপর জ্বলে উঠলেন বল হাতেও। নিলেন ৩ উইকেট। আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডারের নৈপুণ্যে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৬ রানে জিতেছে সিলেট।
রান তাড়ায় সিলেটের শামীম হোসেন শেষ দিকে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিলেন ঢাকাকে। তবে শেষ বলে ছক্কার সমীকরণ মেলাতে না পারায় তাঁর ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি শেষ হয় হতাশায়ই।
সিলেটের রান কম হওয়ার শঙ্কা ছিল প্রথম দিকের ব্যাটসম্যানদের বাজে স্ট্রাইক রেটের কারণে। ওমরজাইয়ের আগে নামা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুজনই শুধু এক শর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। এর মধ্যে পারভেজ হোসেন ৩২ বলে ৪৪ ও আফিফ ১১ বলে করেন ১৩ রান।
ওমরজাইয়ের ব্যাটে চড়েই শেষ ৫ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট টাইটানস। ১৬তম ওভারে তাসকিন আহমেদের ওভারে ৩ চারে ১৫ রান নিয়ে যেটির শুরু করেন তিনি। টানা চার বলে বাউন্ডারি মেরে সালমান মির্জার ১৯তম ওভারেও নেন ২২ রান। ৫ উইকেটে ১৭৩ রানে গিয়ে থামে সিলেট টাইটানসের রান।
এই রান তাড়া করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালসের শুরুটা ছিল ছন্নছাড়া। ৪৩ রানেই তারা ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। মাঝে ১৯ বলে ২৩ রান আসে সাব্বির হোসেনের ব্যাট থেকে। তবে টপ অর্ডারদের এমন ব্যর্থতার পরও ম্যাচটাকে প্রায় একা হাতে শেষ বলে নিয়ে যান শামীম হোসেন।
শেষ দুই ওভারে ঢাকার দরকার ছিল ৪৫ রানের। ওমরজাইয়ের ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন শামীম। ওই ওভারে ১৮ রান আসার পর শেষ ৬ বলে ঢাকার সমীকরণ দাঁড়ায় ২৭ রানের।
অসম্ভব সেই সমীকরণটাও প্রায় মিলিয়েই ফেলেছিলেন শামীম। মোহাম্মদ আমির প্রথম বলে চার হজম করার পর দেন ওয়াইড ও নো। ফ্রি হিটে শামীম মারেন ছক্কা।
পরের তিন বলে আরও দুটি চারে শেষ বলে ৭ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। কিন্তু সেটি আর মারতে পারেননি শামীম। তবে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর অপরাজিত থাকেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটানস: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (ওমরজাই ৫০, পারভেজ ৪৪, সাইম ২৯;সালমান ২/৪৬, তাসকিন ১/৪৬)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (শামীম ৮১,সাব্বির ২৩; ওমরজাই ৩/৪০)।
ফল: সিলেট টাইটানস ৬ রানে জয়ী