ফাইনালের উইকেট নিয়ে ভারতের কৌশলে মাথায় রাখা হচ্ছে অতীত ইতিহাস
অতীত থেকে শিক্ষা নিচ্ছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এবার খেলা হবে মিশ্র মাটির উইকেটে।
মুম্বাইয়ে হওয়া ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের মতো এই পিচও ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক হবে।এই খবর দিয়েছে ক্রিকেট–বিষয়ক পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো ও সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ফাইনাল লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি হবে উইকেটে। তবে এতে লাল মাটির ভাগ বেশি। লাল মাটি বেশি থাকলে দুই ইনিংসেই বল সহজে ব্যাটে আসে এবং ভালো বাউন্স পাওয়া যায়। ওয়াংখেড়ের মতো এখানেও স্পিনারদের চেয়ে পেসাররা বেশি সুবিধা পাবেন। তবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন ব্যাটসম্যানরা। তাই ফাইনালেও দেখা যেতে পারে ২০০ রানের বেশি স্কোর।
একটি সূত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, ‘ফাইনালের জন্য নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতীয় দলকে মিশ্র মাটির পিচ দেওয়া হবে।’ সূত্রটি যোগ করেন, ‘এটি একটি স্পোর্টিং পিচ হবে, যেখানে কেউ অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। এই ট্র্যাকে লাল মাটি বেশি থাকার মানে হলো এখানে কিছুটা বাউন্স থাকবে এবং ব্যাটসম্যানরাও সুবিধা পাবেন।’
ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই ফাইনাল। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে কালো মাটির উইকেট বানিয়েছিল ভারত। সেই কৌশল কাজে লাগেনি। ফাইনালে একপক্ষীয় লড়াইয়ে জেতে অস্ট্রেলিয়া। সেই হারের ক্ষত এখনো ভারত হয়তো বয়ে বেড়াচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপের সুপার এইটেও এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে ভারত।
ফাইনালের জন্য নির্ধারিত পিচটি একেবারেই ‘ফ্রেশ’ বলা যায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই পিচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার ম্যাচ হয়েছিল। ওই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ৫৩ রানে জিতেছিল।
এই টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ড আহমেদাবাদে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লাল মাটির পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছিল কিউইরা। অন্যদিকে ভারত এই মাঠে দুটি ম্যাচ খেলেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারালেও ২২ ফেব্রুয়ারি কালো মাটির পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭৬ রানে পরাজিত হয় ভারত।
লিগ পর্বের কিছু পিচ নিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সন্তুষ্ট ছিল না। তাঁরা স্থানীয় কিউরেটরদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পিচ তৈরির বিষয়ে স্থানীয় কিউরেটরদের সঙ্গে কথা বলতে নিজেদের স্টাফদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আজ আহমেদাবাদে ফাইনালের আগে শেষবার অনুশীলন করবে ভারত।