লিটনের ‘মাস্টারক্লাস’ সেঞ্চুরি

সেঞ্চুরিশামসুল হক

লিটন দাসের জন্য করতালি!

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের পুরো গল্পই হয়তো বলা হয়ে গেল এটুকুতে। তাইজুল ইসলাম দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন কিছুটা সময়, তাসকিন আহমেদ কিংবা শরীফুল ইসলামও তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছেন উইকেটে টিকে থেকে। কিন্তু লিটন যা করেছেন, তা সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর একার কৃতিত্ব এক কথায় অবিশ্বাস্য!

স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু তাতে পুরো ছবিটা ভেসে উঠবে না নিশ্চিতভাবেই। সেঞ্চুরি তো কতজনই কতবার করেছেন, লিটনের এই ইনিংসটা ‘স্পেশাল’ হয়ে থাকবে সেসবের ভিড়ে।

তিনি যেভাবে টেল এন্ডারদের আগলে রেখেছেন। সুইপ করে দুই ফিল্ডারের মাঝ দিয়ে সাজিদ খানকে চার মেরে নার্ভাস নাইন্টিজে পৌঁছেছেন কিংবা খুররম শেহজাদকে ‘হুক’ করে ছক্কা মেরেছেন— সে সব পাকিস্তানকে মানসিক ধাক্কা দিয়েছে সজোরে। তা এতটাই যে, শরীফুলের চার ঠেকানোর চেষ্টা করে অধিনায়কের ভৎসর্নাও শুনলেন একজন। বাউন্ডারি না হয়ে সিঙ্গেল হলেই যে আবার স্ট্রাইক পেয়ে যাচ্ছেন লিটন!

এটা সত্যি তাঁর গ্লাভসে বল লাগলেও পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে গেছেন। আবদুল্লাহ ফজলও একবার প্রায় ক্যাচটা ধরেই ফেলেছিলেন। কিন্তু এসবে কী যায় আসে!

পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে লিটন শুরুতে খেলেছেন দেখেশুনে
প্রথম আলো

ম্যাচের পরিস্থিতিটা একবার ভেবে দেখুন, ১১৬ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের। যে ছয় ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তাদের কেউ ৩০ রানও করতে পারেননি।
আকাশ তখনো মেঘে ঢেকে আছে। পাকিস্তানের বোলারদের বল মুভ করছে। একমাত্র স্পিনার সাজিদ খান চ্যালেঞ্জে ফেলছেন প্রায়ই। আর ব্যাটিংয়ে লিটনের সঙ্গী তখন তাইজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

এই বাঁহাতি স্পিনার যে ব্যাটিং একদমই পারেন না, তা নয়। আজও ৪০ বল খেলে ১৬ রান করেছেন। কিন্তু তাইজুল যে এই কন্ডিশনে থিতু হতে পারবেন, তা হয়তো তিনি নিজেও ঠিকঠাক বিশ্বাস করতে পারেননি। লিটন তাঁকে আগলে রেখেছেন বিশেষ ভাবে, সাজিদ খানের মুখোমুখি প্রায় হতেই দেননি।

তাইজুলকে নিয়ে ২২ ওভারের ওই জুটির মাঝেই চা বিরতি হয়েছে। বিরতির পর ফিরে এসেও লিটন লড়াই চালিয়ে গেছেন তাঁর মতো করে। পাকিস্তান অধিনায়ক ফিল্ডারদের ছড়িয়ে দেওয়ায় বাউন্ডারির সময় কমেছে। এর মধ্যেও ওভারের চার-পাঁচটা বল খেলে দিয়েছেন লিটন। যখন মারার মতো পেয়েছেন, ছক্কা মেরেছেন।

শেষ দিকে রান তুলেছেন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে
প্রথম আলো

তিনি ৯৯ রানে থাকার সময় এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লেন শরীফুল। মাঠের আম্পায়ারই আউট দিলেন। তবে রিভিউর আবেদন করতে একদমই সময় নেননি লিটন। পরে রিভিউতে দেখা গেল শরীফুল আউট ছিলেন না।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এ রকম কোনো ইনিংসের পুরোনো গল্প খুঁজতে গেলেও অবশ্য লিটনই ফিরে আসবেন তাতে।  ২০২৪ সালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। সেদিন লিটন করেছিলেন ১৩৮ রান। ওই ইনিংসে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৭৮ রান।

আজ তিনি প্রায় একাই।  তাইজুলের ওই ১৬ রানই তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। লিটনের এই সেঞ্চুরিটা তাই আলাদা।

১৫৯ বলে ১২৬ রান করে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, ধারাভাষ্যে থাকা রমিজ রাজা ইনিংসটিকে অভিহিত করলেন একটি শব্দে—‘মাস্টারক্লাস’।