ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত: কেউ বলছেন সঠিক, কেউ দেখছেন শঙ্কা

বাংলাদেশ দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেপ্রথম আলো

২৪ ঘণ্টার নাটকীয়তায় বদলে গেছে দৃশ্যপট। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র মাসখানেক আগে এমন সিদ্ধান্তে প্রভাব কেমন হতে পারে, তা নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আকরাম খান মনে করেন, সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে বিসিবি। ফেব্রুয়ারিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গেলেও ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকতেন না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রথম আলোকে কাল আকরাম বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের দিকটাই আগে দেখা উচিত। তাদের মানসিক–শারীরিক এবং নিরাপত্তার দিকটা সব সময় আমরা দেখে এসেছি, দেখা উচিতও। ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে। কারণ, খেলোয়াড়েরা যদি মানসিকভাবে স্বস্তিতে না থাকে, তাহলে পারফর্ম করা কঠিন।’

এবারের আইপিএলের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর হুমকির মুখে পরশু বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাদের এমন সিদ্ধান্তের জবাবে বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে কঠোর একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক জালাল ইউনুস।

‘ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে। কারণ, খেলোয়াড়েরা যদি মানসিকভাবে স্বস্তিতে না থাকে, তাহলে পারফর্ম করা কঠিন।’
আকরাম খান, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে বাংলাদেশের না খেলাই উচিত বলে মনে করেন জালাল, ‘যেভাবে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড ফরম্যাটে খেলবে, আইসিসির উচিত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা করা। আর যদি তা না করে, তবু বাংলাদেশের আসলে এবার ভারতে খেলা উচিত হবে না। মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ওখানে নিরাপত্তাঝুঁকির প্রশ্নটা ভারতই তুলে দিয়েছে। আইপিএলে মোস্তাফিজ একা, কিন্তু বিশ্বকাপে দলসংশ্লিষ্টই ২৫–৩০ জন যাবে।’

ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো পছন্দ না হলেও এখানে বিসিসিআইয়ের দায়ই বেশি দেখছেন অভিজ্ঞ সংগঠক জালাল, ‘আমরা কখনো খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়াইনি; কিন্তু মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে ভারত সরাসরি ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দিল।’

‘এ পর্যায়ে এসে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সমীচীন হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদে এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করতে পারে।’
আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, বিসিবির সাবেক পরিচালক

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজনের প্রস্তুতি বেশ আগেভাগেই শুরু হয়। সম্প্রচার ও লজিস্টিকসের অনেক কিছু হুট করে বদল করা কঠিন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে না খেললে এসব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আইসিসিকে।

অবশ্য বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমতও আছে। বিসিবির আরেক সাবেক পরিচালক ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম যেমন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে, এই প্রথম বোধ হয় আমরা এ রকম একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি মনে করি, দুই বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা যেত। সমস্যা হতেই পারে, কিন্তু সেটার সমাধান বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে হওয়া প্রয়াজন। এ পর্যায়ে এসে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সমীচীন হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদে এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করতে পারে।’

আরও পড়ুন

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটাকে বাংলাদেশের জন্য ‘অপমান’ হিসেবেই দেখছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ। ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে তারা আমাদের অপমান করেছে। অসম্মান যে আমরা মেনে নিই না, এটা খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ দিলাম।’

বিসিবির সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ভারতেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লোকসভার সদস্য সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর লিখেছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতের জন্য ‘বিব্রতকর’। তবে এটি ভারতের কারণেই হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।