টি–টুয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিগার সুলতানা
দুবাইয়ে এশিয়া কাপটা শেষ হয়েছে একরকম ব্যর্থতায়। গত রোববার সেখান থেকেই বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটাররা এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে উড়াল দেন জাপানের উদ্দেশে। দুই টুর্নামেন্টের মাঝেই নারী দলের টি–টুয়েন্টি সংস্করণের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন নিগার সুলতানা।
গতকাল জাপান থেকে ই–মেইলে বিসিবিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নিগার। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করলেও তিনি এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাননি। ২০২১ সালে নারী দলের ওয়ানডে নেতৃত্ব পান নিগার, পরের বছরই তাঁর কাঁধে ওঠে টি–টুয়েন্টির অধিনায়কত্ব।
এরপর থেকে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের সমার্থকই বনে যান নিগার। দুই সংস্করণে নেতৃত্ব দেওয়ার সময়টায় দলের সেরা ব্যাটারও ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বের সময় কোনো সংস্করণেই নিগারের চেয়ে বেশি রান করেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান।
টি–টুয়েন্টিতে জাতীয় দলের হয়ে ১৩২ ম্যাচ খেলা নিগার ৮০টিতেই অধিনায়ক ছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ৩২টি জয়ও তাঁর। টি–টুয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ২৯.৮৫ গড়ে ১৮৫১ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।
নেতৃত্ব ছাড়তে চাওয়ার কথা জানানো ই–মেইলে নিগার লিখেছেন, টি–টুয়েন্টিতে নেতৃত্ব ছেড়ে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে চান। ওয়ানডে দলকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সময় পরিবারকে সময় দিতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিসিবি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম শুরুতে বিষয়টি জানা নেই বলে জানান। অবশ্য কিছুক্ষণ পর আবার নিশ্চিত করেন নিগারের পাঠানো বার্তা পাওয়ার কথা। ব্যাটিংয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিতেই যে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের নেতৃত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত, চিঠিতে তা উল্লেখ করেছেন নিগার।
তবে এখনই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা বা না করার কোনো সিদ্ধান্ত বিসিবি নেয়নি। রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘এশিয়ান গেমস পর্যন্ত সে দায়িত্বে থাকবে। ওয়ানডেতেও থাকবে। তারা আগে এশিয়ান গেমস খেলে এলে এরপর আমরা এটা নিয়ে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুটা অভিমান করেই নিগারের এই সিদ্ধান্ত। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশ। এরপর তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে যৌক্তিক–অযৌক্তিক নানা ধরনের সমালোচনা হয়। নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সেটিও একটি কারণ।
আগামী পরশু এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টি–টুয়েন্টি সিরিজের এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্বে থাকবেন নিগারই, তবে এরপর আর এই সংস্করণে তিনি থাকবেন না।
নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমাদের মেইল করে জানিয়েছে, টি–টুয়েন্টিতে নেতৃত্ব ছাড়তে চায়, তবে ওয়ানডেতে থাকবে। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তারা আগে এশিয়ান গেমস খেলে দেশে আসুক। তারপর আমরা বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
নিগারের এই সিদ্ধান্ত বিসিবির জন্যও একরকম ধাক্কাই হয়ে এসেছে। এখনো তিনি দলের সেরা পারফর্মার, তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও বোর্ডের তরফ থেকে কোনো প্রশ্ন ছিল না; কিন্তু হুট করে জাপান থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় তারা কিছুটা ‘বিব্রত’ হয়েছেন বলেও জানান নারী উইংয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
নিগার শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে রাজি না হলে নভেম্বরের আগেই নতুন অধিনায়ক খুঁজে নিতে হবে বিসিবিকে। ইমার্জিং নেশনস নামে আইসিসির একটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচে টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
এর আগে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে নিগারের নেতৃত্বে তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। টি–টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক হওয়ার ভাবনায় নিগারের সহ–অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের সঙ্গে বিসিবির ভাবনায় আছেন সোবহানা মোস্তারিও। যদিও নারী উইংয়ের প্রধান বলেছেন, ‘এসব নিয়ে এখনো আমরা ভাবিনি। আগে এশিয়ান গেমসটা শেষ হোক। পরে আমরা সবকিছু নিয়েই সিদ্ধান্ত নেব।’