শরীফুল-তানভীরে দিশাহারা ঢাকা, কোটি টাকার নাঈমের প্রথম ফিফটি
আগের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস লড়াই করেছিল শেষ বল পর্যন্ত। টানটান উত্তেজনায় ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল প্রতিপক্ষের। কিন্তু আজ যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল তারা।
সিলেটে আজ ঢাকাকে খুঁজে দেখা গেল একেবারেই ছন্নছাড়া রূপে। ব্যাটিংয়ে খেই হারানো, আর বোলিংয়ে নেই কোনো ধার—সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে স্রেফ উড়ে গেল ঢাকা। আসলে লড়াই করার সুযোগটাই বা কোথায় দিলেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন আর মোহাম্মদ নাঈম?
বিপিএল শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মালিকানা বদলে যাওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালস এখন যেন এক অন্য দল। বিসিবির অধীনে খেলা এই দলটি তিন ম্যাচের দুটিতেই জয় তুলে নিয়ে আছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে বলা যায় লজ্জাই দিয়েছে চট্টগ্রাম।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা যেন ক্রিজে আসার আর যাওয়ার মিছিলে নেমেছিলেন। ২ বল বাকি থাকতে ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে চট্টগ্রামের লেগেছে মাত্র ১২.৪ ওভার!
শুরুতেই ঢাকার ব্যাটসম্যানদের দিশেহারা করে দেন শরীফুল ইসলাম। বিশেষ করে আফগান ওপেনার জুবাইদ আকবরীর অসহায়ত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ১২ বল খেলে মাত্র ২ রান করে যখন শরীফুলের বলে ফিরছেন জুবাইদ, তখনই বোঝা গিয়েছিল আজ ঢাকার কপালে দুঃখ আছে।
৬৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে যখন ঢাকা কাঁপছে, তখন বল হাতে তানভীর ইসলাম যেন বিষ ঢালছেন। তার স্পিনের মায়াজালে আটকা পড়ে ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট—পরিসংখ্যানটাই বলে দিচ্ছে তানভীর আজ কতটা ভয়ংকর ছিলেন।
মাঝপথে সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাদের ৩৬ বলের ৪৮ রানের জুটিতেই মূলত ঢাকা কোনোমতে ১০০ পার করতে পারে। নাসির ২০ বলে ১৭ রান করে শরীফুলের শিকার হলেও সাইফউদ্দিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৫ বলে ৩৩ রান করে। শরীফুলও তানভীরের মতো নিয়েছেন ৩ উইকেট।
তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামকে একেবারেই কষ্ট করতে হয়নি। যদিও রসিংটনকে ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছিল ঢাকা। ১৭ বলে ২৪ রানে থাকা অবস্থায় সাইফউদ্দিনের বলে তাঁর ক্যাচ ছাড়েন ইমাদ ওয়াসিম। ওই একবারই, এরপর পুরো ইনিংসজুড়ে ঢাকার বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনেন নাঈম আর রসিংটন।
৪০ বলে ৫৪ রান করেন এই বিপিএলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া নাঈম, আর ৩৬ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন রসিংটন।
এর আগে বিপিএলে সর্বোচ্চ ৪টি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডও গড়েছেন রসিংটন। উমর আকমল ও মোহাম্মদ শেহজাদের তিনটি করে স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড ছিল এতদিন।