অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই— হারের পর সাইফ হাসান
পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজের তিন ম্যাচে করেছিলেন যথাক্রমে ৪, ১২ ও ৩৬। তবু সাইফ হাসানের ওপর আস্থা রেখেছিল দল। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটির পর তাঁর তাই একটু স্বস্তিতেই থাকার কথা। কিন্তু সেটির আর উপায় কী! নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রানও যে অতিক্রম করতে পারেনি দল!
ম্যাচ শেষে তাই মুখ ভার করেই দলের প্রতিনিধি হিসেবে সাইফকে আসতে হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। সাইফের কথায়ও ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্বের ছাপ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছে স্পোর্টিং উইকেটে, এবারও তেমনই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচের উইকেট সে রকম ছিল না, ছিল মন্থর আর অসম বাউন্সার।
এমন উইকেট বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও ধাঁধায় ফেলেছে বলেই মনে হলো সাইফের কথায়, ‘একটা ধারণা ছিল কী রকম উইকেট হতে পারে, কিন্তু আজকে একটু বেশি অসমান (বাউন্স) হয়েছে। তবে অজুহাত দিয়ে বাঁচার কোনো উপায় নেই।’
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে সাইফ স্বীকার করে নিয়েছেন উইকেটের সঙ্গে তাঁরা মানিয়ে নিতে পারেননি। কিন্তু ঘরের মাঠের উইকেটে এমন পরীক্ষায় পড়তে হবে কেন, সেটাও প্রশ্ন। সাইফ অবশ্য বলেছেন, ‘উইকেট একেক দিন একেক রকম হতে পারে। আমরা কতটা মানিয়ে নিতে পারছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ এ রকম দ্বিধায় থাকলেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই জানতেন তাঁরা কী করতে চান। ব্যাট হাতে ৫৮ বলে ৫৯ রান ও বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ডিন ফক্সক্রপট। তিনি ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ২৭.৫ ওভারে, তখন ৪ উইকেট হারিয়ে কিউইদের রান ছিল ১৩১।
ব্যাটিংয়ের সময়ের ভাবনা জানাতে গিয়ে ফক্সক্রপট বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, উইকেটটা ঠিকঠাক বোঝা। আমি যখন মাঠে গেলাম, তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম যে এখানে জেতার মতো রান কত হতে পারে। তখন বলা হয়েছিল ২৪০-এর বেশি যেকোনো রানই আমাদের জন্য ভালো হবে। এই রান তাড়া করা তাদের জন্য কঠিন হবে জানতাম, কারণ সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উইকেট আরও ধীর হয়ে যাবে।’
অনুশীলনের উইকেটও অনেকটা এ রকমই হওয়ায় সেই অভিজ্ঞতা তাদের কাজে লেগেছে ম্যাচেও।
রান তাড়ার শুরুতে অত ছন্নছাড়া ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটিং। কিন্তু ২৫ থেকে ৩৯তম ওভার পর্যন্ত টানা ৯০ বল কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। পরে ৩৭ রান তুলতেই হারাতে হয়েছে শেষ ৬ উইকেট। সাইফ মনে করেন, থিতু হয়ে যাওয়া কেউ উইকেটে টিকে থাকতে পারলে ম্যাচটা জিততে পারতেন তাঁরাই, ‘ভুল সময়ে কিছু উইকেট হারানোয় আমরা পিছিয়ে গিয়েছি।’