বাবার কথা না শুনে সেঞ্চুরি হারিয়েও আফসোস নেই নবীর ছেলে হাসানের
ছেলে হাসান ইসাখিল আসতে চাইছিলেন না সংবাদ সম্মেলনে। বাবা মোহাম্মদ নবী সাহস জোগালেন তাঁকে। এর আগেই অবশ্য সম্প্রচারকদের অনুষ্ঠানে দুজন বসেছিলেন একসঙ্গে।
‘একসঙ্গে’ কথাটা আজ মোহাম্মদ নবী আর হাসান ইসাখিলের জন্য ঘুরেফিরে এসেছে বারবারই। এর আগে ৬ টি-টোয়েন্টিতে তাঁরা ছিলেন প্রতিপক্ষ, আজ প্রথমবারের মতো দুজন একসঙ্গে খেলতে নেমেছিলেন একই দলের হয়ে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৪১ রানে ম্যাচটা জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা।
আগে ব্যাট করা নোয়াখালীকে ১৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। এমন আনন্দের ম্যাচেও অবশ্য হাসানের জন্য একটা আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছে—সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে দাঁড়িয়েই আউট হয়েছেন।
আমি ওকে বলেছিলাম, মাত্র ৮ রান লাগে সেঞ্চুরি করতে, হাতে ১২ বল আছে। তুমি শুধু বলটা মাটিতে খেলো, ছক্কা মারতে যেয়ো না।
ইনিংসের লম্বা সময় বাবা নবীর সঙ্গেই উইকেটে ছিলেন হাসান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে নবী যখন আউট হন, তখন ৯২ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাবা আউট হওয়ার ৫ বল পরই আউট হয়ে যান হাসান।
আউট হয়ে যাওয়ার পর ছেলেকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেটিই সম্প্রচারকদের বলছিলেন নবী, ‘আমি ওকে বলেছিলাম, মাত্র ৮ রান লাগে সেঞ্চুরি করতে, হাতে ১২ বল আছে। তুমি শুধু বলটা মাটিতে খেলো, ছক্কা মারতে যেয়ো না।’
কিন্তু বাবার কথা শোনেননি হাসান। সাইফউদ্দিনের বল তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুনের হাতে, হারিয়েছেন সেঞ্চুরির সুযোগ। ম্যাচ শেষে বাবাকে পাশে বসিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে হাসান অবশ্য জানিয়েছেন, এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই তাঁর, ‘আমি আসলে ছক্কার কথাই ভাবছিলাম। বড় একটা সংগ্রহ দিতে চেয়েছিলাম প্রতিপক্ষের সামনে। আমার সেঞ্চুরি মিস করার জন্য খুব বেশি দুঃখ নেই।’
সেঞ্চুরি না পেলেও বিপিএলের প্রথম ম্যাচেই ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংসটা ঠিকই খেলেছেন হাসান। সব মিলিয়ে ৩১ টি-টোয়েন্টিতে ৭টি ফিফটি আছে তাঁর, সর্বোচ্চ ছিল ৭২।
নন–স্ট্রাইকার হিসেবে ছেলের ইনিংস কেমন দেখলেন? এমন প্রশ্নে ছেলেকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নবী, ‘তাঁর মতো তরুণদের এত বড় জায়গায় খেলতে নামলে এখানে চাপ থাকবেই। সে সেটা ভালো সামলেছে। বাংলাদেশের কঠিন উইকেটে পারফর্ম করা সহজ নয়। এই দিনটার জন্যই সে ২০ দিন ধরে তৈরি হয়েছে।’