হোবার্টের বেলেরিভ ওভালের ম্যাচটি ক্যারিবীয়দের জন্য ছিল প্রায় বাঁচামরার সমান। হেরে গেলেও বাদ পাড়টা নিশ্চিত হতো না, তবে সুপার টুয়েলভের সম্ভাবনা ঝুলে থাকত সুতোর ওপর। অন্যদের ওপর নির্ভরশীল না হতে দরকার ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়।

এমন চাপের ম্যাচে ১৫৩ রানের পুঁজিও খুব বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম বোলিং করতে আসা জোসেফই যেন সুর বেঁধে দিলেন জয়ের।

ক্রেইগ আরভিনের অসুস্থতায় জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রেজিস চাকাভা। রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত শুরুও এনে দিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। তাঁকে ফেরানোর পরের ওভারে এসে টনি মুনিয়োঙ্গাকেও বোল্ড করেন জোসেফ।

জোসেফের গতিতে পরাস্ত জিম্বাবুয়ে অবশ্য চালিয়ে খেলার পথেই হাঁটে। যা করতে গিয়ে ওবেদ ম্যাকয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শন উইলিয়ামস, জেসন হোল্ডারের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন ওয়েসলি মাধেভেরে।

উইলিয়ামসের রান ২ বলে ১, ওপেনিংয়ে নামা মাধেভেরে করেন ১৯ বলে ২৭ রান।

৫৮ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ের ৪ উইকেট তুলে নিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাঁটা হয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। দারুণ ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচেও ৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে ওডিন স্মিথকে মিড উইকেট দিয়ে ছয়ও হাঁকান।

তবে পরের বলে আবার উড়িয়ে মারতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে। থেমে যায় ৮ বলে ১৪ রানের ইনিংস। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের জয়ের সম্ভাবনাও। লুক জঙ্গুয়ের ২২ বলে ২৯ আর রায়ান বার্লের ১৯ বলে ১৭ রানের সুবাদে শুধু হারের ব্যবধানটাই কমেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন জোসেফ। ম্যাচসেরাও হন ২৫ বছর বয়সী এ পেসারই।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামার পর ক্যারিবীয়দের ভালো শুরুই এনে দিয়েছিলেন জনসন চার্লস। ওপেনিংয়ে নামা কাইল মেয়ার্স আর তিনে নামা এভিন লুইস রান তুলতে হিমশিম খেয়েছেন।

তবে এক প্রান্ত আগলে প্রায় একাই দলের সংগ্রহ বাড়িয়ে গেছেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ১২ বলে ১৩ রান করা মেয়ার্স আউট হন দলীয় ২৮ রানে, আর ১৮ বলে ১৫ রান করা লুইস ফেরেন ৭৭ রানে।

১০ ওভারে ২ উইকেটে ৭৮ রান তুলে বড় সংগ্রহের পথেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক পুরান আর চার্লস যখন বড় শট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, পরপর আঘাত হানেন শন উইলিয়ামস ও রাজা। এ দুজনের করা ১৩ ও ১৪তম ওভারে ১১ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৩৬ বলে ৪৫ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন চার্লস, বাকি তিন উইকেটের একটি উইলিয়ামসের, দুটি রাজার। দুই স্পিনারের তোপে ২ উইকেটে ৯০ থেকে ৬ উইকেটে ১০১ রানে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। থমকে যায় রানের গতিও।

সেখান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহে নিয়ে যান রোভম্যান পাওয়েল ও আকিল হোসেন। ১৮ বল খেলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন আকিল।

তবে রানসংখ্যা দেড় শতে নিয়ে যান পাওয়েল। শেষ ওভারে মুজারাবানিকে হাঁকান দুই ছয়। যার দ্বিতীয়টি যায় ১০৪ মিটার দূরত্বে। পরের বলটিও উড়িয়ে মারতে গেলে মিড অফে ক্যাচ হয়ে থামে পাওয়েলের ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস। তবে দল ততক্ষণে দেড় শর ঘরে পৌঁছে যায়।

যে রান শেষপর্যন্ত আর নাগালে নিতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রাজা, মুজারাবানি নেন ৩৮ রানে ২ উইকেট।