বিশ্বকাপ জিতেও দল থেকে বাদ, নাম না দেখে হেসেছিলেন সূর্যকুমার
নজিরবিহীন ঘটনাই ছিল সেটি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। জুনের সেই ঘটনা নিয়ে এত দিন নীরব থাকার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন তিনি। বলেছেন, অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা প্রথমে মেনে নিলেও পরে একা একা বসে তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল, ‘এটা কীভাবে সম্ভব!’
চলতি বছরের শুরুতে ভারতের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন সূর্যকুমার। তার আগে গত সেপ্টেম্বরে জেতেন এশিয়া কাপও। শুধু দুটি টুর্নামেন্টই নয়, তাঁর নেতৃত্বে ভারত কোনো সিরিজেই হারেনি। তারপরও আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের দল থেকে তাঁকে বাদ দিয়ে শ্রেয়াস আইয়ারকে নতুন অধিনায়ক করা হয়। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন নানা আলোচনা হলেও সূর্য নিজে এত দিন কিছু বলেননি।
সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীরবতা ভেঙেছেন সূর্য। বলেছেন দল ঘোষণার পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল হাসি, ‘যখন দেখলাম দলে আমার নাম নেই, আমি হেসেছিলাম। দলের হয়ে খেলার সময় চাপের মুহূর্তে বা যখন পরিস্থিতি আমার পক্ষে যায়নি, তখনো আমি সব সময় হাসার চেষ্টা করেছি। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’
তবে অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি সিদ্ধান্তটা যে তাঁর কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল, সেটিও স্বীকার করেছেন সূর্য, ‘২০২৬ সালে এসে আমি ভেবেছিলাম, সামনের দুই বছরও দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সামনে অলিম্পিক, এরপর আরেকটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে। কিন্তু আপনি যা ভাবছেন আর অন্যজন যা ভাবছেন, দুটো ভিন্ন বিষয়। নির্বাচকেরা যদি মনে করে থাকেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই ভালো সিদ্ধান্ত, তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তবু দল থেকে বাদ পড়ার পর কিছুদিন সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। কেন, সেই কারণ সূর্যের মুখেই শুনুন, ‘শ্রেয়াসের সঙ্গে আমি অনেক দিন খেলেছি। সে ভালো ক্রিকেটার, ভালো মানুষ, ভালো অধিনায়কও। ওকে কেন অধিনায়ক করা হলো, এটা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু আমি হতাশ ছিলাম। কারণ, দুই বছরে আপনি একটি সিরিজও হারেননি। বিশ্বকাপ জিতেছেন, এশিয়া কাপ জিতেছেন। সবকিছু যখন ভালোই চলছে, তখন পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন? এই প্রশ্নটাই আমার মাথায় ঘুরছিল।’
বিশ্বকাপের পর দেড় মাস বাড়িতে বসে থাকার সময়টাই তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল। নিজের কাছে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন জানিয়ে সূর্য বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম, এটা কীভাবে হলো? কীভাবে সম্ভব? আমরা তো সবে বিশ্বকাপ জিতলাম। হ্যাঁ, আইপিএল আমার প্রত্যাশামতো হয়নি। আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম। বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা আসতেন, সবাই বলতেন, সমস্যা নেই, জীবনেরই অংশ। কিন্তু তাঁরা চলে গেলে আমরা আবার বাড়িতে একা থাকতাম।’
৩৫ বছর বয়সী সূর্যকুমারের বাদ পড়ার বড় কারণ ছিল তাঁর রানখরা। বিশ্বকাপে ৯ ইনিংসে ১৩৬.৭২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৪২ রান। তার আগে ২০২৫ সালে ভারতের হয়ে একটি ফিফটিও করতে পারেননি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার সপ্তাহখানেক আগে যে আইপিএল মৌসুম শেষ হয়, সেখানেও ১৩ ইনিংসে ২০.৭৬ গড় ও ১৪৭.৫৪ স্ট্রাইক রেটে করেন মাত্র ২৭০ রান।
বাদ যে পড়ছেন, সেটা অবশ্য দুই দিন আগেই নির্বাচকেরা সূর্যকুমারকে জানিয়েছিলেন, ‘ওরা আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। কারণ, এটা তো আমার স্বভাব নয়। কেউ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিশ্চয়ই দলের ভালোর কথা ভেবেই নিয়েছে।’
তবে জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন সূর্য। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি প্রস্তুত। যেকোনো সময় আমাকে ডাকতে পারেন। আমি সব সময় ক্রিকেট খেলছি, খেলা চালিয়ে যাব। যখনই আপনাদের মনে হবে সময়টা ঠিক, পরিস্থিতি ঠিক, আমি প্রস্তুত।’