কেমন হবে ম্যাকাই টেস্টের বাংলাদেশ দল, কারা খেলবেন, কারা খেলবেন না
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট আর কন্ডিশনই প্রশ্নটা জাগিয়ে দিচ্ছে। নইলে ডারউইনে ওরকম একটা জয়ের পর উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার চিন্তা কি করে কোনো দল!
ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ দল সেরকম চিন্তা করছে, বিষয়টা তা নয়। বরং কোচ ফিল সিমন্স গতকালই বলেছেন, খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে তিনি উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার লোক নন। তারপরও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে আজ ঘুরেফিরে প্রসঙ্গটা এল।
এ–সংক্রান্ত প্রথম কৌতূহল—ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন যেহেতু ডারউইনের তুলনায়ও বেশি পেসবান্ধব, এখানে বাংলাদেশ দল তিনজনের সঙ্গে আরও একজন বাড়তি পেসার, মানে চার পেসার খেলাবে কি না?
প্রশ্নটা উসকে দিয়েছে আজকের অনুশীলনও, যেখানে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামকে বোলিংয়ের পাশাপাশি লম্বা সময় নিয়ে নেটে ব্যাটিংও করতে দেখা গেছে। ডারউইন টেস্টের অভিজ্ঞতা বলছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছুর জন্য টেলএন্ডের ব্যাটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাসকিন, ইবাদত, হাসানদের সঙ্গে শরীফুলেরও লম্বা সময় নেটে ব্যাটিং করাটা তাই অর্থবহ হতেও পারে। তারওপর নেটে ব্যাটিং করেননি বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আজ এ প্রসঙ্গে একটু কূটনৈতিকই থেকেছেন নাজমুল। ম্যাকাই টেস্টের বোলিং আক্রমণ সাজানোর ব্যাপারে সব দরজাই খোলা রেখেছেন অধিনায়ক। বলেছেন, তাঁর হাতে সব রকমভাবে একাদশ ঠিক করারই সুযোগ আছে। শরীফুলকে নিয়ে চার পেসার নন শুধু, প্রয়োজনে খেলাতে পারবেন খালেদসহ পাঁচ পেসারকেই। এটা বলার অর্থ হলো, তাঁর সব পেসারই খেলার মতো অবস্থায় আছেন। প্রয়োজনে খেলবেন যে কেউ।
তবে তিনি এ–ও বলেছেন, দলের দুই অভিজ্ঞ স্পিনার বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ সব ধরনের কন্ডিশনেই ভালো বোলিং করতে পারেন। তাঁদের বোলিং এমনকি কার্যকর হতে পারে ম্যাকাইয়ের উইকেটেও। নাজমুল পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, স্পিনারদের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট এবং তাঁদের ওপর আস্থাও রাখতে চান।
শেষ পর্যন্ত এই টেস্টে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত কাল ম্যাচের আগে উইকেট দেখেই নিতে চান অধিনায়ক। একই কথা প্রযোজ্য ঘাড়ের আড়ষ্টতায় ভোগা ওপেনার তানজিদ হাসানের ক্ষেত্রেও।
ঘাড়ের এই সমস্যার কারণে কাল নেটে ব্যাটিং করেননি তানজিদ। এক দিন বিশ্রামে কাটিয়ে আজ স্ক্যান করিয়েছেন, যেটির রিপোর্ট এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে স্ক্যান করিয়ে মাঠে এসে নেটে ব্যাটিং করেছেন তানজিদ এবং সেটি দৃশ্যমান কোনো সমস্যা ছাড়াই।
নাজমুল তারপরও একটু ‘কিন্তু’ রেখে দিয়েছেন ডারউইনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি পাওয়া এই ওপেনারের ব্যাপারে, ‘আজকের দিনটা ইতিবাচক (তামিমের খেলার প্রসঙ্গে)। তবে কাল সকাল পর্যন্ত আমরা আরেকটু দেখতে চাই। আশা করি সে ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে, তাই মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’
কাল নেটে ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে আবার ব্যাটিং করেছেন অবশ্য, তুলনামূলক কম সময় হলেও ব্যাটিং করেছেন আজও। সব মিলিয়ে স্বস্তি নাজমুলের কণ্ঠে, ‘মুশফিক ভাই এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। তামিমও (তানজিদ) আজকে ব্যাটিং করেছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় কাল সকালে আমরা একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
তানজিদ ও মুশফিককে নিয়ে শঙ্কা না থাকলে ম্যাকাই টেস্টের দলে অন্তত ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তানজিদ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে হয়তো সৌম্য সরকার দলে ঢুকবেন।
পেস বোলার একজন বাড়ালে সেটা অনুশীলনে কোচের কাছ থেকে বাড়তি দৃষ্টি পাওয়া শরীফুলই হবেন। সে ক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকতে পারেন তাইজুল।
তবে পরিবর্তন হোক বা না হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা বাংলাদেশ দল নেবে কাল ম্যাচ শুরুর আগে।