প্রশ্ন শুনে আকাশের দিকে তাকালেন ফিল সিমন্স

ম্যাকাইয়ে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফিল সিমন্সপ্রথম আলো

বাংলাদেশ দল কি পাঁচ দিন খেলতে পারবে? এমন প্রশ্ন অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগেও হয়তো প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে এমন প্রশ্ন একটু বেমানানই।

কোচ ফিল সিমন্সকে করা এমনই এক প্রশ্নে তাই সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকেরাও। আর এ রকম প্রশ্ন নিশ্চয়ই আশা করেননি সিমন্সও।

তারপরও ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের ভিন্ন কন্ডিশনের কারণেই হয়তো প্রশ্নটি করা। যেটির উত্তর দিতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের ক্যারিবিয়ান কোচ আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, তারপর যা বললেন তার সারমর্ম দাঁড়ায়—ঈশ্বর ভালো জানেন।

সিমন্সের মুখেই শুনুন তাঁর পুরো কথাটা, ‘আমি তো জানি না। তিনি (ঈশ্বর) হয়তো এসে আমাকে তা বলে দিতে পারেন; কিন্তু আমি তো এখনই তা বলতে পারব না...।’

তবে ডারউইনের জয় যে দলের মধ্যে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে, সেটি দেখেছেন সিমন্সও, ‘টেস্ট ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। আমরা ভালো খেলেছি, একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছি। তাই আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে আছে।’

ডারউইনে ৯ উইকেটে জেতা ম্যাচটিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারেরই সেরা টেস্ট জয় মনে করেন ফিল সিমন্স। শুধু তা–ই নয়, ওই টেস্টে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে, এমন আত্মবিশ্বাসও নাকি তাঁর ছিল।

আজ ম্যাকাইয়ে অনুশীলন শেষের সংবাদ সম্মেলনে সেটার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কোচ, ‘আমি দলের অনুশীলনগুলো দেখেছি। তিন দিনের ম্যাচের আগে আমরা কীভাবে অনুশীলন করেছি, তা দেখেছি। টেস্ট ম্যাচের আগের তিন দিন কীভাবে অনুশীলন করেছি, সেটাও দেখেছি। আমাদের কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি আমরা ৫৪ রানে অলআউটের পরও কাজের ধরন বদলাইনি, পরিশ্রমের মাত্রাও কমেনি। এতেই আমার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে ছেলেরা এটা চায় এবং তারা ভালো করতে চায়।’

ডারউইনে ম্যাচ জয়ের পর সিমন্সের মুখে হাসি
এএফপি

ডারউইনে শুধু টেস্টই জেতেনি বাংলাদেশ, বলা চলে সব দিক দিয়ে নিখুঁত এক টেস্ট ম্যাচের ফল সেই জয়। এমন জয়ের পর দল স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রাণিত থাকে। নতুন করে কিছু বলে অনুপ্রাণিত করার দরকার পড়ে না।

সিমন্স তবু তাঁর খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ দলটার নাম যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ‘তাদের শুধু একটি কথাই বলতে হয়েছে, এবং আমি সেটাই আবার বলব, অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিনভাবে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় ওই পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে হবে, নয়তো আরও একটু ভালো করতে হবে।’

সেই ভালোর মাত্রাটাও বলে দিয়েছেন কোচ, সঙ্গে আবারও সতর্কবার্তা, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যদি মাত্র ১ শতাংশও উন্নতি করতে পারি, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তবে আমরা জানি, তারা তাদের খেলার ধরন বদলাবে এবং আরও কঠিনভাবে আমাদের ওপর চড়াও হবে।’

আরও পড়ুন

ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন একটু ভিন্ন হবে। এখানে উইকেট সবুজ, বাউন্সি আর গতিময়। অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী পেসারদের জন্য থাকবে বাড়তি সুবিধা। তবে তাতে ডারউইনের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার মতো কোনো পরিস্থিতি ম্যাকাইয়ে তৈরি হয়নি। কোচের কথায়ও দলে পরিবর্তন না আসারই আভাস।

আজ অনুশীলনে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের দিকে তাঁর বাড়তি মনোযোগ থাকলেও বলেছেন, ‘সে অবশ্যই ভিন্ন কিছু দিতে পারে। তবে আবারও বলছি, আমরা মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ জিতেছি। আর আমি সাধারণত জয়ী একাদশে পরিবর্তন করতে খুব একটা পছন্দ করি না। তবু আগামীকাল বসে আমরা কী করতে চাই, তা ঠিক না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।’

তবে ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে কোচ কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘পরিকল্পনা হলো ব্যাটিং করা। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। দল যদি ওই পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। আমরা ব্যাট করতে চাই, প্রথম ইনিংসে বড় রান করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের কাছে পৌঁছাতে প্রতিপক্ষকে যেন অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।’

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন এই সিরিজের লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি চান ভালো ক্রিকেট খেলতে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের প্রত্যাশা ছিল ‘সম্মান অর্জন।’ অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত দুটো প্রত্যাশাই পূরণ হয়েছে।

সিমন্সও বলেছেন, ‘আমরা আরও কিছুটা সম্মান অর্জন করেছি। আমি বলব না যে আমাদের আগে কোনো সম্মান ছিল না। আমাদের সম্মান ছিল। তবে বিদেশের মাটিতে ভালো খেলে আমরা আরও কিছুটা সম্মান অর্জন করছি।’

ডারউইন টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন ভালো ক্রিকেটের কথা বলেছিলেন
শামসুল হক

বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে ভালো খেললেও দেশের বাইরে গিয়ে, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে সংগ্রামই করতে হতো তাদের। কিন্তু সম্প্রতি সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। সিমন্সের কথা, ‘আগে বিদেশের মাটিতে আমাদের নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকত। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বিদেশে ভালো খেলে আমরা অনেক বেশি সম্মান অর্জন করছি। আর এটা শুধু এখন থেকে নয়, পাকিস্তানকে পাকিস্তানের মাটিতে হারানোর পর থেকেই আমরা আরও বেশি সম্মান অর্জন করছি। তাই ধীরে ধীরে তা বাড়ছে।’

আরও পড়ুন

জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগ খুব বেশি না পেলেও ডারউইনের টপ এন্ড টি-টুয়েন্টির সুবাদে প্রতিবছরই দ্বিতীয় সারির কোনো দল অস্ট্রেলিয়া সফর করছে। সে রকম কয়েকজন খেলোয়াড় এবারের টেস্ট দলেও আছেন। তবে সিমন্স একটু অন্যভাবেই ভাবেন।

তাঁর কথা, যখন যেখানে খেলা সেখানেই কাজটা করে দেখাতে হবে, ‘এতে হয়তো ভালো হতেও পারে। কিন্তু আবারও বলছি, এখানে এসে কাজটা করে দেখাতে হবে। তাই মুশফিক এবং অন্যরা হয়তো আগে এখানে ভালো করেছে, কিন্তু বাকিদের নিজেদেরই শিখতে হয়েছে।’