আইপিএলে যোগ দেওয়ায় শানাকাও পিএসএলে এক বছর নিষিদ্ধ
চুক্তি ভাঙার দায়ে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকাকে এক মৌসুমের জন্য পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি। লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তা লঙ্ঘন করে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, পুরো বিষয়টি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার’ পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, শানাকা একক সিদ্ধান্তে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পিসিবি মনে করে, তাঁর এই পদক্ষেপ ‘খেলোয়াড় নিবন্ধন’ এবং ‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তি’—উভয়েরই স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৭ পিএসএলে অংশ নিতে পারবেন না শানাকা।
গত ১৪ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে পিএসএলে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করে পিসিবি। এরপরই শানাকাকে নিষিদ্ধ করা হলো। মুজারাবানিও ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড়কে দেওয়া পিসিবির এটাই কঠোরতম শাস্তি। তবে মুজারাবানির এজেন্টের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞা ‘মাত্রাতিরিক্ত’।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার পর শানাকার শাস্তির মেয়াদ কমানো হয়েছে। পিসিবির বিবৃতিতে শানাকা বলেন, ‘পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমি পাকিস্তানের জনগণ, পিএসএলের ভক্ত এবং ক্রিকেট–বিশ্বের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। পিএসএল একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। আমার কর্মকাণ্ডে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা আমি অনুধাবন করতে পারছি। লাহোর কালান্দার্সের একনিষ্ঠ ভক্তদের বলতে চাই—আপনাদের আশাহত করার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।’
নিলামে প্রায় ২৭ হাজার ডলারে শানাকাকে দলে নিয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। তবে পিএসএল শুরুর আগেই স্যাম কারেনের চোটজনিত বদলি হিসেবে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ডলারের চুক্তিতে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন শানাকা। এই দলবদলের মাধ্যমে লঙ্কান অলরাউন্ডার তিন বছর পর আইপিএলে ফিরলেও এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
মুজারাবানি ও দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার করবিন বশের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পিএসএলে নিষিদ্ধ হলেন শানাকা। গত বছর আইপিএলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান মৌসুমে নিষিদ্ধ হন করবিন বশ।