বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে ‘রোমাঞ্চিত’ হ্যাজলউড
টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে সচরাচর বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে দেখা যায় না। মাত্র ৬টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। খুব স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলটির ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ নিয়ে তথ্যের ভান্ডার খুব সমৃদ্ধ থাকার কথা নয়। জশ হ্যাজলউড ও অ্যালেক্স ক্যারি বাকিদের এ ক্ষেত্রে একটু সহায়তা করতে পারেন।
ডারউইন টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা করা ১৩ জনের স্কোয়াডে এই দুই ক্রিকেটারই বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। সেটাও তিন সংস্করণ মিলিয়ে মাত্র ৯টি করে ম্যাচ। যেহেতু অতীতে মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই, হ্যাজলউডের কাছে কি সে জন্যই বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজকে ‘ব্যতিক্রমী ও নতুনত্বে’র স্বাদ পাওয়ার সুযোগ বলে মনে হচ্ছে?
পেশাদার ক্রিকেটে চার শর বেশি ম্যাচ খেলেছেন হ্যাজলউড। বিশ্বের নানা প্রান্তের সেরা সব ব্যাটসম্যানের শক্তি ও দুর্বলতা তাঁর জানা। কিন্তু টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শক্তি–দুর্বলতা সম্বন্ধে কতটুকু ধারণা আছে হ্যাজলউডের? ভিডিও অ্যানালিস্টের তথ্যপঞ্জি নয়, সরাসরি মাঠে থেকে লড়াই বিবেচনায় টেস্টে মাত্র একবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন হ্যাজলউড। সেটা ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ২০ রানে হারের ম্যাচ; যেখানে মোট ১৯.১ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন এই পেসার।
একে তো প্রতিপক্ষ নিয়ে তেমন একটা জানাশোনা নেই, তার ওপর প্রথম টেস্টের ভেন্যু মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পিচের আচরণও অজানা হ্যাজলউডের। হবে না কেন! অস্ট্রেলিয়ার এ মাঠে টেস্টই হয়েছে মাত্র দুটি আর এই দুই টেস্টের মাঝে ব্যবধান ২২ বছরের। সব মিলিয়ে বেশ কিছু নতুন পরিস্থিতি হ্যাজলউডের সামনে। কিন্তু জাত ক্রিকেটার বলেই হয়তো দুশ্চিন্তার বদলে রোমাঞ্চ ঝরল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা এ পেসারের কণ্ঠে।
‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’কে হ্যাজলউড বলেন, ‘সিরিজটা শুরু করার আগে অনেক কিছুই অজানা। মাঠের পরিস্থিতি অজানা, বিশেষ করে উইকেট এবং এই অবস্থায় প্রতিপক্ষের ধরনটা কেমন হবে। ফলে অনেক কিছুই অজানা, তবে আমার মতে এটা বেশ রোমাঞ্চকর।’
সেই রোমাঞ্চ কেমন, তা নিয়ে একটু ধারণাও দিলেন হ্যাজলউড, ‘ভিডিও ফুটেজ তো অবশ্যই আছে, সেখান থেকে ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরন বোঝা সম্ভব। তবে মাঠে নেমে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর প্রয়োজনও হতে পারে, যা সব সময়ই ব্যতিক্রমী ও নতুনত্বের স্বাদ দেয়।’
‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’–এর সহসঞ্চালক ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেন রিচার্ডসনের কথা শুনে একটু মন খারাপ হতে পারে হ্যাজলউডের। অস্ট্রেলিয়ায় পেসারদের সুবিধা পাওয়া যেখানে প্রত্যাশিত এবং বিভিন্ন মাঠে হ্যাজলউড সেটা পেয়েও এসেছেন, সেখানে ডারউইনের কন্ডিশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের পেসারদের খুব বেশি প্রত্যাশা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রিচার্ডসন। কারণ? শৈশবের বড় অংশ ডারউইনে কাটানোয় সেখানকার কন্ডিশন রিচার্ডসনের কাছে হাতের তালুর মতোই চেনা।
অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ টেস্ট উইকেটের মতো ফাস্ট বোলাররা এখানে অতিরিক্ত মুভমেন্ট, সুইং বা বাউন্স পাবেন বলে আমার মনে হয় না। বরং নিচু বাউন্সের বিবেচনায় কন্ডিশন অনেকটাই বাংলাদেশের পিচের মতো হতে পারে।মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেন রিচার্ডসন
ডারউইনের শীতকালীন মাসে শুষ্ক গরমের কারণে মারারার ড্রপ-ইন উইকেট কিছুটা ধীরগতির হবে বলেই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৫টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি–টুয়েন্টি খেলা রিচার্ডসন। গত বছর সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি, যেখানে বলের বাউন্স সুষম ছিল না।
পডকাস্টে রিচার্ডসন বলেন, ‘(কন্ডিশন নিয়ে) কী আশা করব, তা নিশ্চিত নই। তবে এটা অন্তত প্রথম দিনে পার্থ কিংবা গ্যাবায় খেলার মতো হবে না। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ টেস্ট উইকেটের মতো ফাস্ট বোলাররা এখানে অতিরিক্ত মুভমেন্ট, সুইং বা বাউন্স পাবেন বলে আমার মনে হয় না। বরং নিচু বাউন্সের বিবেচনায় কন্ডিশন অনেকটাই বাংলাদেশের পিচের মতো হতে পারে।’
হ্যাজলউড অবশ্য টেস্টে নিজের পরিকল্পনা যতটা সম্ভব সাদামাটা রাখতেই পছন্দ করেন। মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে কৌশল সাজানো কিংবা পাল্টানোর দরকার হলে ভিন্ন কথা। সেটাও তাঁর কাছে বেশ রোমাঞ্চকর ব্যাপার, ‘(টেস্টে) পরিকল্পনাটা খুবই সাধারণ। আসল বিষয় হলো ঠিকঠাক বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটা ধরে রাখা। খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতিতে খানিকটা পরিবর্তন আসতেই পারে, তবে মোটের ওপর এটি খুব সাধারণ একটি কৌশল।’ টি–টুয়েন্টির সঙ্গে পার্থক্য প্রসঙ্গে বললেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার, ‘খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বেশ সময় পাওয়া যায়। প্রথম স্পেলের অর্ধেক পার করে মনে হতে পারে, “অন্য কিছু চেষ্টা করা যাক।” কিন্তু টি-টুয়েন্টিতে এ সময়টা পাওয়া যায় না...সামান্য ভুল হলেই বল গিয়ে পড়ে সীমানার বাইরে।’
মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৩ আগস্ট শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচ সামনে রেখে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে আজ তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ।