থামি না, নড়াচড়ার মধ্যেই থাকি—অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পাকিস্তানি স্পিনার

উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে আলোচনা আছেপিসিবি

খেলেছেন ৩ ম্যাচ, উইকেট নিয়েছেন ৮টি—এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বল হাতে বেশ ভালো সময়ই কাটছে উসমান তারিকের। তবে উইকেটসংখ্যার চেয়েও তাঁকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বোলিং ধরনের কারণে।

পাকিস্তানের এই স্পিনারের থেমে থেমে দৌড়ে এসে বল করার ভঙ্গি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মন্তব্যই এসেছে। এসেছে ব্যাখ্যাও। তারিকের নিজের ব্যাখ্যা হচ্ছে, তিনি থামেন না; বরং অন্যদের চেয়ে ভিন্ন গতিতে দৌড়ান।

বল ছাড়ার আগমুহূর্তে তারিকের একমুহূর্ত থেমে যাওয়া নিয়ে যে আলোচনা, তা নিয়ে শনিবার কলম্বোয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সুপার এইটের ম্যাচের আগে সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এই স্পিনার। সেখানে বোলিং অ্যাকশনের ব্যাখ্যায় খানিকটা আপেক্ষিকতা তত্ত্বই যেন মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

যাঁরা মনে করছেন তিনি বল ডেলিভারির আগে পুরোপুরি থেমে গিয়ে খেলার ছন্দ নষ্ট করছেন, তাঁদের জন্য তারিকের ব্যাখ্যাটা এ রকম, ‘আমি বলব না যে আমি থেমে যাই। স্লো মোশনে আমার অ্যাকশন দেখলে বুঝবেন, আমি নড়াচড়ার মধ্যে থাকি, শুধু একটু ধীরে। আমি চেষ্টা করি আমার বোলিং অ্যাকশনকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে নিতে এবং নড়াচড়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে। এই অ্যাকশনই আমার জন্য যুতসই। আর প্রথম থেকেই আমি এই অ্যাকশনে বোলিং করি।’

আরও পড়ুন

তারিকের এ ব্যাখ্যা এসেছে তাঁকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মন্তব্যের পর। যেমন ভারতের সাবেক উইকেটকিপার শ্রীবৎস গোস্বামী তারিকের থামার মুহূর্তটিকে ফুটবলে পেনাল্টি নেওয়ার দৌড়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, দৌড়ের মধ্যে এমন থেমে যাওয়া অনুমোদিত হওয়া উচিত নয়।

আবার ভারতের আরেক সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ব্যাটসম্যান যদি আগাম কোনো সংকেত ছাড়াই সুইচ-হিট খেলতে পারেন, তাহলে বোলারদেরও নিজস্ব ভিন্নতা দেখানোর সুযোগ থাকা উচিত।

অন্যদিকে সুনীল গাভাস্কার ও সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার অনিল চৌধুরী প্রকাশ্যে তারিকের অ্যাকশনকে সমর্থন করেছেন। গাভাস্কার সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘বোলার থামতে পারবেন না, এমন কোনো আইন নেই।’

আর অনিল চৌধুরী জানান, বল ছাড়ার সময় যদি অ্যাকশন ঠিক থাকে এবং ১৫ ডিগ্রির সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে ডেলিভারি পুরোপুরি বৈধ।

উসমান তারিক
পিসিবি

তারিক কবে থেকে বল ছাড়ার আগে এই ‘দ্বিধা’ বা সামান্য বিরতি যোগ করেছেন? এর উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে পাকিস্তানে টেনিস বল দিয়ে রাস্তায় ক্রিকেট খেলার দিনগুলোতে। ২৮ বছর বয়সী এই স্পিনার বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি এই অ্যাকশনে বোলিং করি। টেনিস বলের ক্রিকেট খেলতে গিয়েই এমন হয়েছে।’

পাড়ার ক্রিকেট থেকে বিশ্বমঞ্চে তারিকের উত্থান হয়েছে অনেক দ্রুতগতিতে। সাত বছর আগে যদি কেউ বলতেন তারিক বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তিনি হয়তো হেসেই উড়িয়ে দিতেন। তারিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, সাত বছর আগে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতাম। আজকের মতো প্রস্তুত ছিলাম না। তখনকার আমি আজকের এই পরিস্থিতি কল্পনাও করতে পারতাম না।’

তবে তারিকের পারফরম্যান্সই এখন সব কথা বলছে। খেলার কিংবদন্তিরা তাঁর নিয়ন্ত্রণ আর ক্রিজে ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসায় মুখর। কিন্তু তারিকের কাছে প্রশংসার চেয়ে বড় হলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার আনন্দ, ‘কিংবদন্তিদের এবং আপনাদের সবার কাছ থেকে এত প্রশংসা পাওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি—পারফরম্যান্স, পরিবেশ, সবকিছু। আরও শক্তি নিয়ে নামতে চাই, আরও রোমাঞ্চ তৈরি করতে চাই।’ ২০২৫ সালে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক হয় তারিকের। এখন পর্যন্ত ছয়টি টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিয়েছেন ১৬ উইকেট।

আরও পড়ুন