বলছেন মরগান, বাংলাদেশ কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশছবি: এএফপি

মিরপুর, অ্যাডিলেড কিংবা ধর্মশালা—বাংলাদেশের বিপক্ষে ভেন্যু কোনো ব্যাপার নয় বলেই মনে করেন এউইন মরগান। যেখানেই খেলা হোক, ইংল্যান্ডের জন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই সহজ নয়, এমন মন্তব্য ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের। তবে ধর্মশালার উইকেট আর কন্ডিশন দেখে তাঁর মনে হয়েছে, এটা বাংলাদেশের চেয়ে ইংল্যান্ড দলের জন্যই বেশি মানানসই।

বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ধর্মশালাতেই আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে। বাংলাদেশের স্পিনের কাছে একপ্রকার অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে আফগানরা। সাকিব ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি করে উইকেট নিয়ে ১৫৬ রানে অলআউট করে দিয়েছে তাদের। কিন্তু আগামীকাল ইংল্যান্ডের বেলায় সে রকম কিছু হবে না বলেই মনে করেন মরগান।

ধর্মশালায় আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাদের (বাংলাদেশ) বিপক্ষে যেখানেই খেলেন, প্রতিপক্ষ হিসেবে কখনোই তারা সহজ নয়। আমার মনে হচ্ছে, এখানকার কন্ডিশন বাংলাদেশের চেয়ে ইংল্যান্ডের জন্যই বেশি মানানসই। এখানে কিছুটা বাউন্স দেখতে পেয়েছি। এটা ইংল্যান্ডের সিমারদের জন্য ভালো এবং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেবে।’

আরও পড়ুন
আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরাজ ও নাজমুল ভালো ব্যাটিং করেছেন
ছবি: এএফপি

বাংলাদেশের স্পিন বোলিং নিয়ে মরগান বলেছেন, ‘আমি জানি, তাদের স্পিনাররা আফগানিস্তানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। তারা এভাবেই (প্রতিপক্ষকে) চাপে ফেলে। অত বেশি স্পিন অবশ্য ছিল না। এ কারণেই বাংলাদেশের চেয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি খেলতে পারবে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে মরগান উল্লেখ করেছেন তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে খেলাটাকে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই ম্যাচ জিততে বাংলাদেশ বড় খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে তরুণ খেলোয়াড়েরা এগিয়ে এসেছে। শান্ত (নাজমুল হোসেন) ও মিরাজের মতো খেলোয়াড়েরা চাপ সরিয়ে দিয়েছে। যেটা সাধারণত বেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা করে থাকে। তারা যদি এটা করে যেতে থাকে, তাহলে আগামীকালের ম্যাচে সাকিবের মতো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স আর নেতৃত্বে সাহায্য করবে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জয় পেতে ব্যাট–বলে ভালো খেলা উপহার দিতে হবে সাকিবকে। সাকিবের সেই সামর্থ্য আছে বলেই মনে করেন মরগান, ‘সে অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মনে করা হয় তাকে। এটা তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলছে, এমন খেলোয়াড় খুব বেশি নেই।’

আরও পড়ুন
সাকিব আল হাসানের প্রশংসা করেছেন মরগান
ছবি: এএফপি

সাকিব আর বাংলাদেশকে থামাতে হলে ইংল্যান্ডকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের পেস আক্রমণের ওপর। এবারের বিশ্বকাপে যে কয়টি ম্যাচ হয়েছে, সেখানে বাড়তি গতির সামনে ব্যাটসম্যানদের ভুগতে দেখা গেছে। এদিক থেকে ইংল্যান্ডকে মার্ক উডের গতি বিশেষ সুবিধা এনে দিতে পারে বলে মনে করেন মরগান, ‘বাড়তি গতির সামনে বেশির ভাগ দলই ভুগছে। তবে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। মার্ক উড ভিন্ন ধরনের বোলার। কিন্তু প্রথম ম্যাচটা তার ভালো কাটেনি। তার নিজেকে প্রমাণ করার ব্যাপার আছে। সম্ভবত এই উইকেটে সে বাড়তি বাউন্সটা কাজে লাগাবে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রসঙ্গ এলে যে কারও মনে পড়বে ২০১৫ সালে অ্যাডিলেডের কথা। মরগানের সেটা আরও বেশি মনে থাকার কথা। ১৫ রানে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়া সেই ম্যাচের অধিনায়ক যে তিনিই ছিলেন! সেই ম্যাচে মরগান কোনো রান না করেই আউট হয়েছিলেন। কথা প্রসঙ্গে মরগান ফিরে যান সেই স্মৃতিতে, ‘তারা (বাংলাদেশ) ভালো দল এবং তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। আমি সম্ভবত বলেছিলাম যে ২০১৫ সালে সিম বোলিংয়ে তারা অনেক অভিজ্ঞ ছিল। অ্যাডিলেডে হয়তো তারা আমাদের চেয়ে ভালো দলই ছিল।’

আরও পড়ুন