বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ করল আফগানিস্তান

২ উইকেট নিয়েছেন ইবাদত হোসেনআফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা কেটে গেল অপেক্ষায় অপেক্ষায়। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের অপেক্ষা ছিল বাংলাদেশকে অলআউট করে দেওয়ার। গতকালই তা প্রায় হয়ে গিয়েছিল, বাধা হয়ে টিকে ছিলেন কেবল নাঈম হাসান। আজও অবশ্য তাঁকে আউট করতে পারেনি আফগানিস্তান। তবে বাকি দুই ব্যাটসম্যান তাঁকে সঙ্গে দিতে পেরেছেন মাত্র ৮.২ ওভার।

প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৩৪৬ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ, নাঈম অপরাজিত থেকেছেন ৩৫ রানে। আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরু হয় বাংলাদেশের বোলারদের অপেক্ষা। উইকেট এসেছে বিরতি দিয়ে। দ্বিতীয় দিনে প্রায় আড়াই সেশন ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান করেছে ২১১ রান।

আবুধাবির উইকেটে যে বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা নেই, তা টেস্টের প্রথম দিনই টের পাওয়া গেছে। আজও সেই চরিত্র তেমন বদলাতে দেখা যায়নি। তবু তৃতীয় ওভারেই উইকেট পেয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু হাসান মাহমুদের বল সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে যাওয়ার পর বাংলাদেশ জোরালো আবেদন জানালেও আম্পায়ার ‘না’ বলে দিলে আর রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ।
পরে যখন বড় পর্দায় রিপ্লে দেখেছেন, হতাশায় শূন্য লাথি মারা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। হাসানের উইকেটের জন্য অপেক্ষা অবশ্য লম্বা হয়নি। ১১তম ওভারে তাঁর বলেই প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন ১৭ রান করা সেদিকুল্লাহ।

পরের উইকেটের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা ছিল প্রায় ১০ ওভারের। এবার দলের ত্রাতা ইবাদত হোসেন—   ২০ রান করে তাঁর বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন আবদুল মালিক। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর আরও বড় অপেক্ষারই শুরু হয় বাংলাদেশের, যেটির স্থায়ীত্ব ছিল ২৫.১ ওভার।

আবদুল মালিক আর শহীদুল্লাহ কামালের ৭০ রানের সে জুটি ভাঙেন ইবাদত। তাঁর বল কামালের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে গেলে তৃতীয় উইকেটটা পেয়ে যায় বাংলাদেশ। উইকেটের জন্য এরপর অবশ্য বাংলাদেশকে আর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি।

অপেক্ষায় অপেক্ষায় দিন কেটেছে বাংলাদেশের
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

২ বল খেলে কোনো রান না করেই হাশমতুল্লাহ শাহিদী স্টাম্পড হয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজের বলে। ৫ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে বাংলাদেশ যেন ঘুরে দাঁড়ানোর পথই খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু কে জানত, সারা দিনের সবচেয়ে বড় অপেক্ষাটা তাদের শুরু হবে তখনই!

দিনের বাকি সময় আফগানদের আর কোনো উইকেটই ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ, তৈরি করতে পারেনি কোনো সুযোগও। বোলাররা যদিও লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করে গেছেন; কিন্তু রহমত শাহ আর ইকরাম আলীখিলকে তা কোনো অস্বস্তিতে ফেলতে পারেনি।

তাদের ১৯৪ বলের জুটিতে আসে অবিচ্ছিন্ন ৭২ রান। এই ম্যাচেই টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেক হওয়া রহমত শাহ ৮৪ রান করে আছেন সেঞ্চুরির পথে, সঙ্গী ইকরাম ২৬ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের জন্য এখন একটাই আশা। আগামীকাল এক ওভার পরই নতুন বল নেওয়ার সুযোগ পাবেন বোলাররা।

নতুন বল হাতে পেলে পেসাররা সেটা কাজে লাগাতে পারলে ভালো। নয়তো রহমত-ইকরাম যদি এভাবে আরও কিছু সময় পার করে দিতে পারেন, তাহলে প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের লিড নেওয়াটা একরকম সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন