হতে পারে এই রাজত্বটা মাত্র দুই দিনের।

আগামীকাল করাচিতে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচে হেরে গেলে সিংহাসনচ্যুত হবে বাবর আজমের দল। ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় আরোহণের ৪৮ ঘণ্টা পরই নেমে যেতে হবে তিন নম্বরে।

তেমনটি সত্যি ঘটে কি না, পরে দেখা যাবে। আপাতত পাকিস্তানের সময়টা উদ্‌যাপনের। প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে পাকিস্তান, যে অর্জনে খুশি হয়ে বাবর আজমদের অভিনন্দন জানিয়ে টুইটও করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

ক্রিকেটের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ আইসিসি পারফরম্যান্সের জন্য মাসিক রেটিং পয়েন্ট প্রদান শুরু করে ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে। আর রেটিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান। শনিবার করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থটিতে নিউজিল্যান্ডকে ১০২ রানে হারায় পাকিস্তান, যা সিরিজে তাদের চতুর্থ জয়।

টানা ৪ জয়ের সুবাদে পাকিস্তানের রেটিং ৭ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১১৩। সমান রেটিং আছে অস্ট্রেলিয়া আর ভারতেরও। তবে ম্যাচসংখ্যা বিবেচনায় ও রেটিং পয়েন্টে ভগ্নাংশের ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে পাকিস্তান যা গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম।

২১ বছর আগে মাসিক রেটিং পয়েন্ট প্রচলনের পর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা ষষ্ঠ দল পাকিস্তান। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত ও নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৫২ মাস এক নম্বরে ছিল রিকি পন্টিংয়ের দল।

এরপর তাঁদের হটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষে ছিল মাত্র ১ মাস। পরের ১২ মাস আবারও ছিল অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব। এভাবে ২০১২ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঘুরেফিরে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দল হিসেবে ২০১২ সালের আগস্টে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে ইংল্যান্ড। ৫ মাস পর শীর্ষে ওঠে ভারতও। ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া নিউজিল্যান্ড এক নম্বরে জায়গা করে নেয় ২০২১ সালের মে মাসে। ষষ্ঠ দল হিসেবে পাকিস্তান শীর্ষে উঠল আরেকটিতে মে মাসে।

যারা উঠতে পারেনি

বর্তমানে ১ থেকে ২০ পর্যন্ত ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের তালিকা হালনাগাদ করে আইসিসি। এর মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য ১২টি দেশ আছে প্রথম ১৩টি স্থানের মধ্যে। জিম্বাবুয়েকে ১৩ নম্বরে ঠেলে ১২ নম্বরে আছে সহযোগী সদস্যদেশ স্কটল্যান্ড।

২০০২ সালে মাসিক রেটিং চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সদস্যদেশের ৬টি কখনো শীর্ষে উঠতে পারেননি। দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। প্রায় এক দশক ধরে ওয়ানডে সংস্করণে ভালো খেলে আসছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেও নিজেদের সেরা র‍্যাঙ্কিং ৬ (২০১৭ সালের মে), বর্তমানে তামিম ইকবালের দলের অবস্থান ৭ নম্বরে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাও কখনো ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে পারেনি। একই তালিকায় নেই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

তবে ক্যারিবীয়দের র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্য মাত্রাও আছে। একবিংশ শতাব্দীতে খুব উজ্জ্বল না হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটের শুরুর সময়টায় আধিপত্য ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। ২০১১ সালে রেটিং পদ্ধতির ব্যবহার ঘটিয়ে ১৯৮১ সাল থেকে ভূতাপেক্ষ র‍্যাঙ্কিং তৈরি করেছে আইসিসি। যে র‍্যাঙ্কিং বলছে, ১৯৮১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর সময়ে সবচেয়ে বেশি ৯৯ মাস এক নম্বরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৪২ মাস বা সাড়ে তিন বছর বেশি।

পাকিস্তান যদি দুই দিন পরই নেমে যায়

মাসিক রেটিং চালুর পর সবচেয়ে বেশি ১৪৫ মাস এক নম্বরে ছিল অস্ট্রেলিয়া। সবচেয়ে কম যাদের, সেই নিউজিল্যান্ডও দুই দফা মিলিয়ে ১৮ মাস শীর্ষে ছিল। কিন্তু প্রথমবার র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় ওঠা পাকিস্তান মাত্র দুই দিন পরই নিচে নেমে যেতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজের শেষ ম্যাচে হেরে তিনে নেমে গেলে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লেখাবে বাবরের দল। এর আগে কেউ মাত্র দুই দিন পর র‍্যাঙ্কিংয়ের সিংহাসনচ্যুত হয়নি। সর্বনিম্ন ৩ দিনই পরই শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়েছিল ইংল্যান্ড, এ বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কাছে।

বাবরের দলের সামনে এখন ইংল্যান্ডকে টপকে সর্বনিম্ন সময়ের রেকর্ড ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ। অনেকটা ওই কথার মতোই, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।’