রিজওয়ান আগেই জানতেন...

মোহাম্মদ রিজওয়ানছবি: এএফপি

মোহাম্মদ রিজওয়ানের একটা অদ্ভুতুড়ে স্বভাব আছে। পাকিস্তানের প্রতিটি ম্যাচের আগেই তিনি তাঁর বন্ধু তালহা রামানিকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান। এই তালহা বন্ধুত্বের দাবিতেই রিজওয়ানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তাঁকে রিজওয়ান এতটাই পছন্দ করেন যে তিনি মাঝেমধ্যে তাঁর মেন্টরই হয়ে ওঠেন।

যাই হোক, পাঠানো সেই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলোতে খেলা নিয়ে বিভিন্ন টুকটাক ভবিষ্যদ্বাণী করেন রিজওয়ান। সব ভবিষ্যদ্বাণীই যে মিলে যায়, ব্যাপারটা এমন নয়, তেমনটি হওয়ার কোনো কারণও নেই।

কিন্তু আজ সিডনিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে রিজওয়ান যে বার্তাটি তালহাকে পাঠিয়েছিলেন, দিনশেষে সেটি মিলে গেছে হুবহু।

আরও পড়ুন

তালহাকে কী বার্তা পাঠিয়েছিলেন রিজওয়ান। তালহা জানিয়েছেন, আজ নাকি রিজওয়ান তাঁকে লিখেছিলেন, ‘“MOM, today”—ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে যাচ্ছি আজ।’ সেই ভবিষ্যদ্বাণী যে রিজওয়ান সত্যে পরিণত করবেন, সেটি হয়তো ভাবতে পারেননি তালহা। সত্যি সত্যি ৪৩ বলে ৫৭ রান করে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

রিজওয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা সত্যি হওয়ার আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন তালহা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে রিজওয়ানের ফর্ম খুব খারাপ যাচ্ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে তাঁকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন সে সময়ের পাকিস্তান কোচ মিসবাহ–উল–হক।

প্রথম দুটি ম্যাচে রিজওয়ান ব্যর্থ হন। শেষ ম্যাচটা ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ ম্যাচটিতে ব্যর্থ হলেই হয়তো নির্বাচকেরা রিজওয়ানকে পাকিস্তান দল থেকে বাদ দিয়ে দিতেন।

আরও পড়ুন
সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান
ছবি: এএফপি

তৃতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচটির আগে রিজওয়ান তালহাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান, সে সম্পর্কে তালহা বলেন, ‘রিজওয়ান আমাকে একটা বার্তা পাঠিয়েছিল, সেখানে লেখা ছিল, “এ ম্যাচে ৭৬” রানে অপরাজিত থাকব। সেই সঙ্গে লিখেছিল, “আল্লাহ যেন তাঁর মর্জি অনুযায়ী আমাকে ভালো পারফর্ম করার সুযোগ দেন।”

সে ম্যাচে রিজওয়ান ৮৯ রান করেছিলেন। সে ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল রিজওয়ানের জন্য। ওই ম্যাচে ব্যর্থ হলে সে হয়তো পাকিস্তান দল থেকেই বাদ পড়ে যেত। কিন্তু রিজওয়ানের সব সময়ই নিজের প্রতিভার ওপর আস্থা আছে, সেই সঙ্গে আস্থা তাঁর পরিশ্রমের ওপর এবং অবশ্যই আল্লাহর ওপর। নিজের ভালো–মন্দ সবকিছুতেই তাঁর প্রতিভা, পরিশ্রম ও মহান আল্লাহর ওপর আস্থা।’