বাবর-রিজওয়ান ওপেনিং জুটি রানে ফিরতে সেই ‘আদর্শ’ মঞ্চকেই বেছে নিয়েছেন। সিডনিতে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৫২ রান তোলার পর পাকিস্তান এই জুটির দিকেই তাকিয়ে ছিল।

কারণ, ওপেনিং জুটিতে রান না উঠলে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার চাপে পড়তে পারে। আর চাপে মিডল অর্ডারের ভেঙে পড়ার নজিরও আছে। রিজওয়ান এবং বাবরেরও তা অজানা নয়। আর তাই ১২.৪ ওভারে ১০৫ রানের জুটিতে পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠার ভিত গড়েছেন দুজন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৭ উইকেটের জয়ে এই ওপেনিং জুটিরই বড় ভূমিকা।

ট্রেন্ট বোল্টের করা ১৩তম ওভারে বাবর আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে করেছেন ৫৩ রান। অবশ্য এ জন্য তিনি ধন্যবাদ দিতে পারেন কিউই উইকেটকিপার ডেভন কনওয়েকে। পাকিস্তান অধিনায়ক কোনো রান করার আগেই তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন কনওয়ে। ওই ক্যাচটা হয়ে গেলে শুধু বাবরের গল্প কেন, ম্যাচের গল্পটাও তো বদলে যেতে পারত।

১২৬.১৯ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংস দিয়ে বাবর নিজেও রানে ফিরলেন। সুপার টুয়েলভে আগের পাঁচ ম্যাচে তাঁর স্কোর যে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছে শুধু একবারই (০, ৪, ৪, ৬ ও ২৫)। ফাইনালের আগে আজকের ইনিংসটি বাবরের জন্য নিশ্চিতভাবেই স্বস্তিদায়ক।

রিজওয়ান আউট হয়েছেন ১৭তম ওভারে, যখন জয় থেকে ১৮ বলে ২১ রানের দূরত্বে ছিল পাকিস্তান। রানতাড়ায় দুজনের জুটি দেখে কখনোই মনে হয়নি, বিপদে পড়তে পারে পাকিস্তান। মোহাম্মদ হারিস-শান মাসুদরা পরে তেমন ব্যাটিং ধরে রেখেই দুর্দান্ত জয়টা তুলে নেন।

আজ শতরানের জুটি দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ একটি রেকর্ডও গড়েছেন বাবর-রিজওয়ান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম জুটি হিসেবে তিনটি শতরানের পার্টনারশিপ গড়লেন বাবর-রিজওয়ান। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও নামিবিয়ার বিপক্ষে শতরানের জুটি আছে তাঁদের। ভারতের বিপক্ষে তাঁদের ১৫২ রানের জুটিটি ছিল ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

শুধু তা–ই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাবর-রিজওয়ানের এটি ছিল নবমবারের মতো শতরানের জুটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে আর কোনো জুটি এতবার শতরান তুলতে পারেননি।

আজ দুজন ১২.৪ ওভারে শতরান তোলার পরই বোঝা যাচ্ছিল, মেলবোর্নের ফাইনাল খেলবে পাকিস্তানই। কীভাবে? টি-টোয়েন্টিতে বাবর-রিজওয়ান শতরানের জুটি গড়ার পর যে আগেও কখনো হারেনি পাকিস্তান।