টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আজ মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। আইসিসির টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও কাগজে–কলমে দক্ষিণ আফ্রিকাই ফেবারিট। দুর্দান্ত ফর্মে আছে দলটি। জিতেছে বিশ্বকাপের প্রথম সাত ম্যাচেই (সুপার ওভারে জয়সহ)। আজ ইডেন গার্ডেনের সেমিফাইনালে নামার আগে দুই দলের শক্তির জায়গা ও দুর্বলতা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ—
দক্ষিণ আফ্রিকা
এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে অজেয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল। দীর্ঘদিনের ‘চোকার্স’ অপবাদ ঝেড়ে ফেলে এবার বিশ্বকাপ জিততে আত্মবিশ্বাসী দলটি। গতবারের রানার্সআপরা সুপার এইটে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কেন তারা এবার শিরোপার দাবিদার।
শক্তির জায়গা: দলটির ব্যাটিং লাইনআপে যেন তারার মেলা। সাত ম্যাচে ২৬৮ রান করেছেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। কুইন্টন ডি কক, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবসরা যেকোনো বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। বল হাতে লুঙ্গি এনগিডির ‘স্লো অফ-কাটার’ ব্যাটসম্যানদের জন্য এক গোলকধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মাঝ ওভারে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে কেশব মহারাজের বাঁহাতি স্পিন বড় অস্ত্র।
দুর্বলতা: প্রোটিয়াদের একমাত্র দুর্বলতা হতে পারে তাদের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি। অতীতে নকআউট পর্বে তীরে এসে তরি ডোবানোর অনেক রেকর্ড আছে তাদের। ২০২৪-এর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর হার তাদের মনে এখনো বড় ক্ষত হয়ে আছে। ৬ উইকেট হাতে রেখে ৪ ওভারে ২৬ রান করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা সেই ম্যাচে। তবে গত বছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় তাদের কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস জোগাবে। সেই দলের আটজন আছেন এবারের বিশ্বকাপ দলে।
নিউজিল্যান্ড
কিউইরা সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো নেট রান রেটের সৌজন্যে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারলেও, কলকাতার মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া মিচেল স্যান্টনারের দল।
শক্তির জায়গা: কিউইদের শক্তির মূল জায়গা তাদের অলরাউন্ডাররা। স্যান্টনার নিজে তো আছেনই, সঙ্গে রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপসরা ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ভারসাম্য রক্ষা করছেন। পাওয়ারপ্লেতে টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর ফিল্ডিংয়ে তাদের ক্ষিপ্রতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ। গ্লেন ফিলিপসের পেস ও ইশ সোধির লেগ স্পিন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার।
দুর্বলতা: শেষ চারের অন্য তিন দলের মতো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের অভাব আছে এবারের নিউজিল্যান্ড দলে। চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে একমাত্র নিউজিল্যান্ডই দুটি ম্যাচে হেরেছে। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান বাদে অন্য কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারাতে পারেনি। অধারাবাহিক দলটি পিছিয়ে আছে বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবেও। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পাঁচবারই হেরেছে।