বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু এই দুই ম্যাচ নয়, চোট থেকে ফিরে আসার পর চলতি বছরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন এ ওপেনার। এ বছরে খেলা ১২ ইনিংসে এই ওপেনার রান করেছেন ৩১৯। ব্যাট করেছেন মাত্র ১২৪.১২  স্ট্রাইক রেটে, গড় ২৯।

রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে যে দল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অতি আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলছে, সেই দলে ১২৪ স্ট্রাইক রেট ভালো বলার কোনো উপায় নেই। রাহুল যে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে নেই, তা টপ অর্ডারে ব্যাট করা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির চলতি বছরের স্ট্রাইক রেট দেখলে আরও স্পষ্ট হবে। রোহিত শর্মা এ বছরে ২৫ ইনিংসে ব্যাট করেছেন ১৪০.৪৭ স্ট্রাইক রেটে, কোহলি ১৪১.৩৪ স্ট্রাইক রেটে।

তাই দলে রাহুলের জায়গা নিয়ে একটা আলোচনা আছেই। তবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট রাহুলের কাঁধের ওপর থেকে ভরসার হাত এত দ্রুত সরিয়ে ফেলবে বলে মনে হয় না। টিম ম্যানেজমেন্টের মতো এই বাজে সময়ে রাহুল পাশে পাচ্ছেন সাবেক কোচ অনিল কুম্বলেকেও। আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক রাহুল, সেই দলের কোচ ছিলেন কুম্বলে। কুম্বলে ভারত জাতীয় দলের কোচের পদেও ছিলেন।

পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতা খুব বেশি না হওয়ায় রাহুলকে লম্বা সময় ধরেই ব্যাটিং করতে হতো। তবে জাতীয় দলে সেই সমস্যা নেই। কুম্বলে তাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর ভূমিকা ও ভারত দলে তাঁর ভূমিকা এক নয়, ‘যখন সে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলে, তখন তাদের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য তার লম্বা সময় ক্রিজে থাকা দরকার ছিল। কিন্তু ভারত দলে তার ভূমিকা ভিন্ন। আমার মনে হয়, তার শুরু থেকেই হাত খুলে খেলা উচিত।’

কোনো এক কারণে রাহুল ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারছেন না বলে দাবি কুম্বলের। তবে রাহুলের সামর্থ্যে পুরোপুরি ভরসা আছে সাবেক এই লেগ স্পিনারের, ‘পাওয়ারপ্লেতে রাহুলকে আটকে রাখা বেশ কঠিন। আমরা জানি সে কী করতে পারে। সর্বশেষ আইপিএলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে পাঞ্জাবের শেষ ম্যাচে যখন রানরেট বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুত রান তোলার দরকার ছিল, তখন সে দেখিয়েছে, কী করতে পারে। ওই ম্যাচে চেন্নাইয়ের সব বোলারদের বিপক্ষেই ও দ্রুতগতিতে রান করেছে।’