ম্যাচ শেষে ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান এক টুইটে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানোর সঙ্গে আফ্রিদির চোট নিয়েও লিখেছেন। টেন্ডুলকারের টুইটটি ছিল এ রকম—‘ইংল্যান্ড নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতায় তাদের অভিনন্দন। অসাধারণ এক অর্জন। লড়াকু এক ফাইনালই হয়েছে। আফ্রিদি যদি চোটে না পড়ত, তাহলে এটা আরও আকর্ষণীয় হতে পারত। উত্থান–পতনের কী এক বিশ্বকাপ!’

আফ্রিদির আরও ১.৫ ওভার বাকি ছিল। সেটা তিনি করতে পারলে কী হতো তা বলা মুশকিল। হয়তো ইনিংসের ওই সময় তিনিও মার খেতে পারতেন। অথবা তিনি ভালো বোলিং করে ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলতে পারতেন। কিন্তু ইংল্যান্ড দলের হাতে থাকা উইকেট আর ইনিংসের সময় বিবেচনা করে ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, আফ্রিদির চোটে পড়টা ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

গাভাস্কারের কথা, ‘আমার এটা মনে হয় না। স্কোরবোর্ডে খুব যথেষ্ট রান জমা করতে পারেনি পাকিস্তান...আমি মনে করি না শাহিনের যে ১০ বল (আসলে ১১ বল) বাকি ছিল, যেটা সে করতে পারেনি, সেটা খুব বেশি পার্থক্য করে দিতে পারত। পাকিস্তান হয়তো আরেকটি উইকেট পেত, কিন্তু ইংল্যান্ডই জিতত।’

মেলবোর্নের ফাইনালে কাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ১ ওভার হাতে রেখে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। লো স্কোরিং এ ম্যাচে একটা সময় ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল পাকিস্তানের বোলাররা।

১৩ থেকে ১৫—এই তিন ওভারে ইংল্যান্ড শুধু একটা বাউন্ডারিই মারতে পারে। রান আর বলের হিসাবটা দাঁড়ায় এ রকম—জিততে হলে করতে হবে ৩০ বলে ৪১ রান! তবে ব্রুকের আউট যেমন পাকিস্তানকে সুবিধা এনে দেয়, তেমনি একটি অসুবিধায়ও ফেলে। ব্রুকের ক্যাচটি নিতে গিয়ে পায়ে চোট পান আফ্রিদি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছেড়ে যান পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার। তখনো তাঁর ২টি ওভার বাকি ছিল।

আফ্রিদি পরে ফিরে এলেও করতে পেরেছেন মাত্র একটি বল। ১৬তম ওভারের প্রথম বলটি করার পর আবার তিনি খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলে যান মাঠের বাইরে। সেই ওভারটি শেষ করতে আসেন অফ স্পিনার ইফতিখার আহমেদ।

তাঁর শেষ দুটি বলে একটি করে চার ও ছয় মেরে স্টোকস রান-বলের হিসাবের চাপটা দূর করেন। জয়ের হিসাবটা হয়ে যায় ২৪ বলে ২৮ রানের। এরপর আর ইংল্যান্ডকে বেঁধে রাখতে পারেনি পাকিস্তানের বোলাররা। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মঈনের উইকেটটি হারালেও শেষ বলে জয়ের আনন্দে ভাসে ইংলিশরা।