তিন শর্তে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান, গণমাধ্যমের খবর
পাকিস্তান সরকার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দেশটিকে বয়কট থেকে সরিয়ে আনতে গতকাল পাকিস্তানে ছুটে গেছেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামের সঙ্গেও কথা বলেছেন ইমরান।
রোববার রাতে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ের বৈঠকে পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট। সূত্রের বরাতে তিনটি শর্তের কথা বলেছে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিও, যদিও ধরন ভিন্ন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো আইসিসি-পিসিবি-বিসিবি বৈঠকের খবর দিলেও পাকিস্তানের দিক থেকে কোনো শর্ত দেওয়া হয়েছে কি না স্পষ্টভাবে জানায়নি। তবে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ভারত-ম্যাচ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে এক-দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করবেন পিসিবি চেয়ারম্যান। এরপর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
ভারতের হিন্দুস্থান টাইমস টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের বরাতে জানিয়েছে, ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পিসিবি আইসিসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধি। বর্তমানে পাকিস্তান আইসিসি হতে যে অর্থ পায়, তা আরও বেশি পরিমাণে চায় তারা।
দ্বিতীয় শর্ত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ চালু। ২০১৩ সালের পর থেকে দুই দেশ কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে খেলে না, আর সেটা ভারতের অনাগ্রহে। পাকিস্তান চায় দুই দেশ আবার সিরিজ খেলবে।
পিসিবির তৃতীয় শর্ত আচরণসংক্রান্ত। ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারতের ক্রিকেটারদের পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাত মেলাননি। পাকিস্তান এ ধরনের আচরণ দেখতে চায় না বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে টেলিকম এশিয়া স্পোর্টকে সূত্র বলেন, ‘বৈঠকে আইসিসির কাছে পিসিবি চেয়ারম্যান কিছু শর্ত তুলে ধরেন। যার মধ্যে আছে পাকিস্তানের বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় চালু এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে করমর্দন শুরু।’
এনডিটিভিও পাকিস্তানের দিক থেকে তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে। তবে এই তিনটি শর্ত বাংলাদেশকেন্দ্রিক। সূত্র অনুযায়ী আইসিসি কর্মকর্তাদের পিসিবি বলেছে ১. টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় বাংলাদেশকে বর্ধিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ২. বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ ফি প্রদান করতে হবে এবং ৩. ভবিষ্যতে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা না মেনে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছিল। যার জেরে পাকিস্তান সরকার ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলে আইসিসি এ নিয়ে আলোচনায় বসে।