স্কুল ক্রিকেট নিয়ে ‘কিংবদন্তি’ হৃদয়ের একটি অনুরোধ

প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে নতুন মৌসুম শুরুর সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয় (সবার বাঁয়ে) ও নাজমুল হোসেন (সবার ডানে)শামসুল হক

জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাওহিদ হৃদয়কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো শুরুতে। এরপর উপস্থাপক যখন বললেন, ‘হৃদয় আমাকে বলেছে, সে স্কুল ক্রিকেটের লেজেন্ড’—সঙ্গে সঙ্গেই পুরো সংবাদ সম্মেলনকক্ষে হাসির রোল পড়ল। হৃদয়ও মুখ লুকালেন লজ্জায়।

তবে এরপরই মাইক হাতে নেন হৃদয়। স্মৃতি রোমন্থন করলেন স্কুল ক্রিকেট নিয়ে। মিরপুরে আজ প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে নতুন মৌসুম শুরুর সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় ফিরে গিয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায় তাঁর নিজের খেলার দিনগুলোতে। বগুড়ার পুলিশ লাইনস স্কুলের হয়ে চার বছর স্কুল ক্রিকেট খেলেছেন, একবার সারা দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়নও হন হৃদয়।

হৃদয় সেসব স্মৃতি ভাগ করলেন এভাবে, ‘একই ব্যাট, একই হেলমেট পরে ব্যাটিংয়ে নামার জন্য সবাই অনেক তাড়াহুড়ো করতাম। খেলার সরঞ্জাম খুব বেশি ছিল না, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আসার পর যেভাবে সহজে পাওয়া গেছে। তবে এসবের মধ্যেও অনেক রোমাঞ্চ থাকে।’

হৃদয়ের স্মৃতি রোমন্থনের সময় সংবাদ সম্মেলনে পেছনের সারিতে বসে ছিল গত বছর স্কুল ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের জন্য প্রাইম ব্যাংকের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বৃত্তি পাওয়া ২৫ জন ক্রিকেটার। তাঁর কথা মনোযোগ দিয়েই শুনছিল স্কুলপর্যায় থেকে উঠে আসা এসব খুদে ক্রিকেটার।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন তাওহিদ হৃদয়
শামসুল হক

এসব খুদে ক্রিকেটারের হয়ে একটি অনুরোধও জানিয়ে রাখলেন হৃদয়, ‘আমি সব সময় স্কুল ক্রিকেট ফলো করি। যদি ভুল না করি, এক–দুই বছর আগে বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি, তখন টসে চ্যাম্পিয়ন ঠিক হয়েছে। এমন একটা টুর্নামেন্ট যেখান থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে উঠে আসবে। আমি চাই টুর্নামেন্টটা যেন বৃষ্টির মৌসুমে না হয়ে একটু আগে হয়, তাহলে সবাই সব ম্যাচ খেলতে পারবে।’

আরও পড়ুন

কিছুদিন আগেই জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হওয়া হাবিবুল বাশার এতদিন ছিলেন গেম ডেভলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটরের দায়িত্বে। তিনি বলছেন, রোজা ও স্কুলের পরীক্ষার হিসাব মিলিয়েই প্রতিবার খেলাটা বৃষ্টির মৌসুম চলে আসে। তবে ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও। তিনি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এখন দেশের তারকা ক্রিকেটারদের একজন। স্কুল ক্রিকেটে সেভাবে অংশ না নিলেও এ নিয়ে স্মৃতি আছে নাজমুলেরও।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন নাজমুল হোসেন। পাশে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার
শামসুল হক

স্কুল ক্রিকেট থেকে উঠে আসা একটি দলের হয়ে দেশের বাইরে এক সফর নাকি সহজ করে দিয়েছিল নাজমুলের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পথ, ‘তখন স্কুল ক্রিকেটের একটা সফর ছিল কেরালাতে। ওই টুর্নামেন্টটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম। তারপর অনূর্ধ্ব–১৮ ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলে খুব তাড়াতাড়ি চলে এসেছিলাম। আমি মনে করি স্কুল ক্রিকেটটাকে বড় করে দেখা উচিত।’

আরও পড়ুন

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়মিত দেশের বাইরে খেলার অনুরোধ জানালেন নাজমুল। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ভালো খেললেই পরের প্রজন্ম আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে বলেও বিশ্বাস নাজমুলের, ‘আমরা যখন বয়সভিত্তিক খেলছি সাকিব ভাইকে দেখেছি, তামিম ভাইকে দেখেছি, মুশফিক ভাইকে দেখছি; এখন যদি তুলনা করি অবশ্যই ওই জায়গাটাতে আমরা একটু ভুগছি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা পূরণ হবে, আমাদের এটা দায়িত্ব। আমরা যদি ভালো অবস্থানে যাই, বাংলাদেশ দলের জন্য যে রকম ভালো, পাশাপাশি যে ছেলেগুলো খেলতে চায় তারাও আমাদেরকে দেখে হয়তো অনুপ্রাণিত হবে।’