হাসারাঙ্গা–পাতিরানায় থাকবে চোখ, তুষারায় ক্ষতি হয়ে যাবে না তো

প্রথম ম্যাচে হেরেছে শ্রীলঙ্কাএএফপি

দল হিসেবে বাংলাদেশ মোটেই ছন্দ নেই। বিশেষ করে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। লিটন দাস থেকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন—রান করতে যেন ভুলেই গেছেন তাঁরা। ছন্দ নেই মিডল অর্ডারেও। এমন পরিস্থিতিতে ডালাসে বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। যে দলের বোলিং বিভাগ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।এর ছোট একটি প্রমাণ দলটির বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ।

নিউইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৭৭ রানের সংগ্রহ নিয়েও লড়াই করেছিল দলটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাজটা তাই মোটেই সহজ হবে না। আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাতিশা পাতিরানাও প্রথম ম্যাচের হারের স্বাদ ভুলতে চাইবে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে।

নাজমুলদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন লঙ্কান অধিনায়ক হাসারাঙ্গা। বাংলাদেশের বিপক্ষে যদিও রেকর্ডটা মোটেই ভালো নয় হাসারাঙ্গার। এই লেগ স্পিনার বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছেন ৩টি, উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৪টি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে রেকর্ডটা মোটেই ভালো নয় হাসারাঙ্গার
প্রথম আলো

ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন ৯.২৭ করে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হাসারাঙ্গার রেকর্ড যেমনই হোক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাসারাঙ্গা ‘ইফেক্ট’ মাথায় রাখতেই হবে। গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন এই লেগ স্পিনার। হাসারাঙ্গা প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিয়েছেন ২ উইকেট।

আরও পড়ুন

হাসারাঙ্গা যা মাঝের ওভারে করতে পারেন, ডেথ ওভারে পাতিরানার কাছে সেটাই চাইবে শ্রীলঙ্কা দল। ডেথ ওভার বিশেষজ্ঞ এই পেসার যেকোনো দিন যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ‘বিগ ফ্যাক্টর’ হতে পারেন। সর্বশেষ আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স যার বড় প্রমাণ।

‘চেন্নাইয়ের পাতিরানা’কে শ্রীলঙ্কা এখনো পায়নি
এএফপি

যে আইপিএলে ওভারপ্রতি ৯ রানের বেশি করে উঠেছে, সেই টুর্নামেন্টেই নিয়মিত ডেথ ওভারে বোলিং করে ওভারপ্রতি ৭.৬৮ করে রান খরচ করেছেন পাতিরানা। এর আগের মৌসুম, অর্থাৎ ২০২৩ আইপিএলে ডেথ ওভারে সর্বোচ্চ ১২ ইনিংসে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন পাতিরানা। ওভারপ্রতি খরচ করেছিলেন মাত্র ৮ রান। এই সময়ে কমপক্ষে ৯০ বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে যা ছিল সর্বনিম্ন।

‘চেন্নাইয়ের পাতিরানা’কে অবশ্য শ্রীলঙ্কা এখনো পায়নি। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনি ম্যাচই খেলেছেন মাত্র ৭টি। উইকেট নিয়েছেন ১১টি। এর মধ্যে গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। যে ম্যাচে ১ ওভারে তিনি রান দিয়েছিলেন ১৬। এরপর ঘরের মাঠে আফগানিস্তান সিরিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেটে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিলেন এই পেসার।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তো খরচ করেছিলেন ৫৬ রান। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩.৪ ওভার বোলিং করে ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। সেই ম্যাচেই অবশ্য চোটে পড়েন। চোট কাটিয়ে ফেরেন আইপিএলে। এরপর আইপিএলে আবারও চোটে পড়েন এই পেসার। সেই চোট কাটিয়ে ফেরেন বিশ্বকাপে। এদিক থেকে বলা যায় শ্রীলঙ্কার হয়ে পাতিরানার কঠিন পরীক্ষা এবারই প্রথম। সেই পরীক্ষায় প্রথম ম্যাচে তাঁর অবশ্য তেমন কিছু করার সুযোগ ছিল না। ৭৭ রানের পুঁজি দিয়ে আর কীই–বা করা যায়!

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে এমনিতেই শ্রীলঙ্কা দাঁড়িয়ে মৃত্যু-উপত্যকায়। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে গেলে সুপার এইটে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে তাদের জন্য। পারফর্ম করার জন্য হতে পারে, পাতিরানা এমন কোনো ম্যাচকেই খুঁজছেন। তাই নাজমুল–সাকিবদের পাতিরানার বিপক্ষে সতর্ক থাকতেই হচ্ছে।

হাসারাঙ্গা–পাতিরানার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে গিয়ে আরেকজনকে ভুলে গেলে চলবে না! কারণ, নতুন বলে শ্রীলঙ্কার মূল অস্ত্রের নাম যে নুয়ান তুষারা। গত মার্চে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সুইংয়ে নাকাল করেছিলেন এই পেসার। সিলেটে তুষারার হ্যাটট্রিকে উড়েছিল নাজমুল ও তাওহিদ হৃদয়ের স্টাম্প, মাহমুদউল্লাহকে আটকেছিলেন এলবিডব্লুতে।

হ্যাটট্রিকের পর নুয়ান তুশারাকে ঘিরে শ্রীলঙ্কার উদ্‌যাপন। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের ছবি।
প্রথম আলো

ডালাসের উইকেটের বাউন্স সমান। ব্যাটসম্যানদের জন্য এই উইকেট দারুণ। এমন উইকেটেই পাতিরানা ও তুষারার রিলিজ পয়েন্ট নিচু হওয়ায় বলের বাউন্সও কম হতে পারে। এই বিষয়ই মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তাঁদের সঙ্গে স্পিনার মহীশ তিকশানাকে বেমালুম ভুলে গেলে চলবে না! সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারেন শ্রীলঙ্কার এই চার বোলারের যে কেউই।

আরও পড়ুন