আগের বিশ্বকাপগুলোর অপ্রাপ্তি এবার ঘোচাতে চায় বাংলাদেশ, এমন লক্ষ্যের কথাই জানালেন অধিনায়ক নিগার, ‘সবারই ইচ্ছা এবার যেন আমরা (হারের) রেকর্ডটা ভাঙি। আমাদের দেশের বাইরে যে মোমেন্টামটা আছে, (তেমন) একটা মোমেন্টাম যদি প্রথম ম্যাচে পাই, এরপর সেটা ক্যারি করতে পারলে (হয়)। যাদের সঙ্গে এবার খেলা, গ্রুপ পর্বে দুই–তিনটা ম্যাচ বের করে নিয়ে আসা সম্ভব আমার মনে হয়। শুধু একটা মোমেন্টাম দরকার আমাদের।’

এবারও বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই। অবশ্য সর্বশেষ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালেই উঠতে ব্যর্থ হয়, এরপর নিউজিল্যান্ডে গিয়েও ধবলধোলাই হতে হয়েছে। তবে অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দল দল নিয়ে নিগার আশাবাদীই। সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ, জাহানারা আলম, ফাহিমা খাতুনরা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ দলেও।

এবার দলে আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা অধিনায়ক দিশা বিশ্বাস, মারুফা আক্তার, দিলারা আক্তার, স্বর্ণা আক্তারও। মারুফা, দিলারার অবশ্য জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে আগেই।

নিগার আশাবাদী তরুণদের নিয়েও, ‘ওরা এরই মধ্যে ওখানে ম্যাচ খেলেছে। আমাদের চেয়ে ওরা ভালো ফ্লোতে আছে। তারা একটা ভালো মোমেন্টামের ভেতর আছে। মারুফাকে দেখেছি নিয়মিত ভালো বল করেছে, নিউজিল্যান্ডেও ভালো পারফর্ম করেছে। দিশাও তো ভালো করছে। সব মিলিয়ে যাদের নেওয়া হয়েছে—স্বর্ণা তো বরাবরই ভালো ব্যাট করছে, যেটা আমাদের দলের জন্যও লাভজনক হবে। যেহেতু তারা ওখানে আছে, আমার কাছে মনে হয় একাদশে সুযোগ পেলে দলের জন্য সাহায্য করবে অনেক বেশি। আমার কাছে এটাও মনে হয় যেহেতু ওখানে ভালো করছে তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া অনেক ভালো হবে। ভালোর থেকে ভালো শেখা উচিত।’

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বিশ্বকাপ, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ অবশ্য প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য যাচ্ছে আগেভাগেই। আগামীকাল কেপটাউনে পৌঁছে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হবে। আইসিসির বলয়ে ঢোকার আগে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা আছে ৩১ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি।

দেশের মাটিতেও খুলনায় প্রস্তুতি ক্যাম্প করে এসেছে নারী দল। নিগার বলছেন, সহায়তা করবে সেটিও, ‘খুলনার উইকেট পেস বোলিং সহায়ক, ওইটা দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক বেশি সাহায্য করবে। আপনারা জানেন আমরা ওখানে খুব ভালো উইকেট পাব, স্পোর্টিং উইকেটই কিন্তু একটু বাউন্স থাকবে হয়তো যেটা ব্যাটেও খুব ভালো আসে। সেটার জন্যই খুলনায় যাওয়া। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো আমরা ছেলেদের সঙ্গে খেলেছি। পেসের বিপক্ষে হয়তো ভুগতে হয়েছে কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো পরের খেলায় আমাদের সাহায্য করবে।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অফিশিয়াল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। ৬ ফেব্রুয়ারি কেপটাউনে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ৮ ফেব্রুয়ারি স্টেলেনবশে খেলা ভারতের বিপক্ষে।