‘সূর্যবংশী পেশাদার নয়, মাঠের বাইরে কখনো তা হতে পারবে না’
কিছুদিন আগের কথা। রাজস্থান রয়্যালসের সংবাদ সম্মেলনে বৈভব সূর্যবংশীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০২৬ আইপিএলে কত রান করতে চান? ১৫ বছরে পা রাখা থেকে মাত্র তিন দিন দূরে থাকা সূর্যবংশী মজা করে বললেন, ‘এমন প্রশ্ন করলে বলব, দু-তিন হাজার রান করতে চাই।’
অল্প বয়সী কারও কাছ থেকে এমন দুঃসাহসিক কথা শুনতেও মজা লাগার কথা। যদিও আইপিএলে সূর্যবংশীর প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের জন্য বিষয়টি মোটেও মজার নয়। সূর্যবংশী কী করতে পারেন, সেটা সবারই জানা। গত আইপিএলে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন—ভারতীয়দের মধ্যে আইপিএলে তাঁর সেঞ্চুরি দ্রুততম। গত ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের পথে খেলেন ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস।
কাজেই ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কথাই সঠিক। অশ্বিনের মতে, ‘সূর্যবংশীর ব্যাটে আগুন ঝরলে রাজস্থান রয়্যালসকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
একদম সত্য কথা। কিন্তু শুধু প্রতিভা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ব্যাটে আগুন ঝরানো যায় না। পেশাদার হতে হয়। নিজের যত্ন নিতে হয়। সূর্যবংশীর এই জায়গায় যে ঘাটতি আছে, সেটা জানিয়েছেন তাঁর ‘এ’ দলের অধিনায়ক জিতেশ শর্মা। কথাগুলো অবশ্য মজা করেই বলেছেন ৩২ বছর বয়সী জিতেশ। এত অল্প বয়সী কারও কাছ থেকে পেশাদারত্বের পূর্ণ পরাকাষ্ঠা দেখার প্রত্যাশা রাখাই তো একটু বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে!
কিন্তু আইপিএলে মাঠের দুনিয়া নির্মম। সূর্যবংশীকে থামাতে তাঁর প্রতিপক্ষ বোলাররা নিশ্চয়ই এত দিনের মধ্যে তাঁর সব দুর্বলতা খুঁজে বের করেছেন ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে। এই চ্যালেঞ্জ জিততে পেশাদার হওয়ার যে বিকল্প নেই, সেটাও সত্যি।
ভারতের হয়ে ১৬টি টি-টুয়েন্টি খেলা জিতেশ এবার আইপিএলে খেলবেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের ইউটিউব চ্যানেলে সূর্যবংশীকে নিয়ে কথা বলেন জিতেশ। ডি ভিলিয়ার্স সূর্যবংশীকে পরিণত এবং পুরোদস্তুর পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দেখলেও জিতেশ মনে করেন, বিহারের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এখনো বেশ চঞ্চল ও আমুদে এক কিশোর।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘সে গ্রেট খেলোয়াড়। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তাকে দেখেছি। একবার আইপিএল এবং বড় পর্যায়ের লিগে খেললে একই মান ধরে রাখা সহজ নয়। তবে (অনূর্ধ্ব-১৯) বিশ্বকাপে সে যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি মুগ্ধ। ওর মধ্যে দারুণ পেশাদারত্ব দেখেছি। এই বয়সেই ছেলেটা অবিশ্বাস্য রকম পরিণত।’
কিন্তু জিতেশের কণ্ঠে শোনা যায় উল্টো সুর। তাঁর দাবি, খেলার মাঠের বাইরে শৃঙ্খলা বিচারে সূর্যবংশী এখনো পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারেননি। একটু হেসে জিতেশ বলেন, ‘ও তো এখনো বাচ্চা! আর ও যে মোটেও পেশাদার নয়, সেটা আমি বলতে পারি। সবাই ওকে পেশাদার বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার মনে হয় না ও কখনো তা হতে পারবে, অন্তত মাঠের বাইরে তো নয়ই। মাঠে হয়তো সম্ভব। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। ওকে বলি রাতে আইসক্রিম না খেতে, কিন্তু ও তো শোনার পাত্রই নয়।’
গত বছরের নভেম্বরে ‘এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস’-এ ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেন জিতেশ ও সূর্যবংশী। সে সুবাদে এই কিশোর ক্রিকেটারের মাঠ ও মাঠের বাইরের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেশ পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন জিতেশ।
সূর্যবংশীর জন্য এবারের আইপিএল হতে যাচ্ছে বড় এক চ্যালেঞ্জ। গত আইপিএলে দুর্দান্ত অভিষেকের পর এখন তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ‘এক মৌসুমের বিস্ময়’ নন। রাজস্থান রয়্যালস এবার তাদের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারী ও ওপেনার সঞ্জু স্যামসনকে ছেড়ে দিয়েছে। আর তাতে নতুন মৌসুমে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার চাপ বেড়েছে সূর্যবংশীর ওপর। শুধু রান তোলাই নয়, দলকেও টেনে নেওয়ার বড় ভারও এখন সূর্যবংশীর কাঁধে।
আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরু হবে আগামী শনিবার। ৩০ মার্চ চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে রাজস্থান রয়্যালস।