দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও আসে সেরা পারফরম্যান্স
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারটি এসেছে বলে এখন আর ‘হারানোর কিছু নেই’ বলে নির্ভার ক্রিকেট খেলার সুযোগ থাকছে না বিশ্বকাপের বাকি অংশে। বিশ্বকাপের বড় লড়াইয়ে হেরে গেলেও এ লড়াইটা থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের। সে জন্য শীর্ষ আটে থেকে শেষ করতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সাফল্যে হয়তো আত্মতুষ্টি এসেছিল, বিশেষ করে বিশ্বকাপ সুপার লিগে ওপরের দিকে থাকায়। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে গিয়ে বাকি দলগুলোর সঙ্গে শক্তির পার্থক্য বোঝা যায়। এ বিশ্বকাপের পর দলের পুনর্গঠন দরকার পরের আসরকে সামনে রেখে। সে লক্ষ্যে এগোতে গেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি একটা প্রি-টেস্টের মতো হবে, ফলে সেখানে খেলা জরুরি। এবারের অনেকেই পরের বিশ্বকাপে খেলবেন না। তবে তাঁরা ভবিষ্যতের জন্য এ কাজটি করে রেখে যেতে পারেন। ফলে বিশ্বকাপের যে তিনটি ম্যাচ আছে, প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এমনিতে দলের সমস্যা তো এখন সব বিভাগেই। ওপেনিং বড় একটা সমস্যা। বিকল্প থাকলে দুজনই হয়তো বাদ পড়তেন, অবশ্য বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রেই সেটি প্রযোজ্য। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে এ ম্যাচে তানজিদ হাসানকে রাখা যায়, সামনে তিনি দারুণ একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন। লিটন দাসকে আগের ম্যাচে দেখেও ক্লান্ত মনে হয়েছে, তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া শ্রেয়। বিশ্রাম শব্দটি তো এমনিতেও নির্বাচকদের পরিচিত, মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রে সেটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
তানজিদের সঙ্গে কে তবে ওপেন করবেন, সেটি প্রশ্ন। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিমদের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটাও কঠিন। মাঠের ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া হচ্ছে, হয়তো সেটি তাঁদের প্রাপ্যও। তবে দল কীভাবে গঠন করা হয়েছে, সেটিও সামনে চলে আসে। বিকল্প ব্যাটসম্যান হিসেবে তাওহিদ হৃদয় আছেন শুধু এখন। আশা করি, বাইরে বসে থেকে পারফর্ম করার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি।
দলের ব্যাটিং অর্ডারের পরিবর্তন নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। সাকিব আল হাসানের এখন উচিত হবে সবার চোখের দিকে তাকানো, যাঁর মধ্যে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রত্যয় দেখবেন, তাঁকেই ওপেনিংয়ে পাঠানো। নাজমুল হোসেনের ফর্ম খারাপ হলেও তাঁরই তিনে খেলা উচিত। আশা করি, দলের মূল ব্যাটসম্যানরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওপরে আসতে হবে না। তাসকিন আহমেদেরও বিশ্রাম দরকার, তানজিম হাসান আসতে পারেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে পাকিস্তান। ব্যক্তিগতভাবে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাবনা না দেখলেও নেট রান রেটেও হয়তো চোখ থাকবে তাদের। বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানরাও লম্বা ইনিংস খেলেন। তাঁদের কত তাড়াতাড়ি আউট করা যাচ্ছে, সেটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অনেক সময় সেরা পারফরম্যান্স বের হয়ে আসে। দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সেটিই প্রত্যাশা থাকবে আজ।
গাজী আশরাফ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক