পাকিস্তান বলছে, লিটন ভাগ্যবান, লিটন বলছেন, ‘ভাগ্যেরও দরকার আছে’
লিটন দাস সংবাদ সম্মেলনকক্ষে তাঁর জন্য রাখা চেয়ারে বসেছেন কেবল। তাঁর কাছে প্রথম প্রশ্ন—একটু আগেই পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে খুররম শেহজাদ এসেছিলেন, তিনি বলছেন, আপনি নাকি আজ ভাগ্যবান ছিলেন!
কথাটা শুনে লিটন মুচকি হাসলেন। উত্তরটাও সারলেন কয়েক শব্দে, ‘ভাগ্যবান? ঠিক আছে, কখনো ভাগ্যেরও দরকার আছে।’ এরপরই অবশ্য ইনিংসটা নিয়ে লম্বা ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে তাঁকে। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ১৫৯ বলে ১২৬ রানের দুর্দান্ত একটা ইনিংসই লিটন খেলেছেন।
তবে লিটন যখন ৫২ রানে, তখন তাঁর গ্লাভস ছুয়ে বল গিয়েছিল উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে, কিন্তু পাকিস্তান রিভিউ নেয়নি। এ ঘটনা যাঁর বলে, সেই খুররম শেহজাদই দিন শেষে এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।
শেহজাদ বলেছেন, ‘কখনো কখনো এমন হয়। তারা ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। লিটনের ভাগ্য সহায় হয়েছে। একটা নয়, দুটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সেগুলো নেওয়া যেত…এ রকম অনেক যদি–কিন্তু আছে। যদি তেমন হতো, তাহলে হয়তো সবকিছুই আলাদা হতো। হয়তো তারা দুই শর আগেই অলআউট হয়ে যেত।’
সেটি আর শেষ পর্যন্ত হয়নি। ওই ঘটনার পর আরও ৭২ রান যোগ করেছেন লিটন। প্রথম ইনিংসেও দলকে এনে দিয়েছেন ২৭৮ রানের সংগ্রহ। তবে কাজটা যে একদমই সহজ ছিল না, দিন শেষে এসে তা বলেছেন লিটনও। তাঁর জন্য পাকিস্তান ফিল্ডার ছড়িয়ে দিয়েছিল, রান করার কাজটাও কঠিন ছিল।
লিটন বলেন, ‘রানের চাপ সবারই থাকে। আপনি যখন ফিল্ডারদের ছড়িয়ে দেবেন, আউট হওয়ার সুযোগ কমবে। কিন্তু রান করার সুযোগ যদি দেখেন, আমার কিন্তু পেস বলে ছক্কা মেরে রান করতে হয়েছে। খুব একটা সহজ ছিল না। আউটফিল্ড অনেক স্লো। আর ভাগ্যের কথা, ক্রিকেটে তো সব সময় আপনার এক শতে এক শ হবে না। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ভাগ্য সহায় হলে আরও কাজে লাগে।’
লিটন যখন উইকেটে যান, তখন ১০৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ১০ রানের ভেতর ড্রেসিংরুমে ফেরেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজও। পরের জন যখন আউট হন, তখন তাঁর রান মাত্র ৩। পরের লড়াইটা তিনি করেছেন টেলএন্ডারদের নিয়ে।
কী পরিকল্পনা ছিল? লিটন উত্তরে বলেন, ‘আমি যখন নেমেছি, তখন উইকেটটা একটু কঠিন ছিল। আমি জানি না যে খেলাটা এত দূরে যাবে। যখন শুরুতে যাই মনে হচ্ছিল, আমাদের টেলএন্ডের অবস্থা খুব একটা ভালো না। চিন্তা ছিল, যদি আমরা মারতে যাই, যদি আরও ৩০ রান করে অলআউটও হয়ে যাই, অন্তত কঠিন কন্ডিশনে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে।’
এটি জানিয়েই ড্রেসিংরুমেও বার্তা পাঠিয়েছিলেন লিটন, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেই রান করবেন কি না? তাতে সাড়াও ছিল বলে জানালেন তিনি, ‘তাদেরও ফিডব্যাক ছিল যে ঠিক আছে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলো। আক্রমণাত্মক খেলার পর মনে হয়েছে, উইকেটে থিতু হয়ে গেছি। মাথায় এটাও কাজ করছিল যে যদি বৃষ্টি চলে আসে, ১০ ওভার খেলতে পারলেও এটা সাহায্য করবে পঞ্চম দিনে। ওই হিসাবটাই পরে আস্তে আস্তে বদলে গেছে।’