কোচরাও কেউ যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, কেউ অস্ট্রেলিয়া থেকে। ৩০ জুলাই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ দল প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে তাই পর্যাপ্ত অনুশীলন না করেই।

অনুশীলন নিয়ে অতৃপ্তির কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অনেকবারই শোনা গেছে কোচদের মুখে। পেশাদারির খাতিরে বাধ্য হয়ে তাঁদের মেনে নিতে হয়েছে সেই বাস্তবতা। তবু আজ অস্ট্রেলিয়া থেকে জিম্বাবুয়ের বিমান ধরার আগে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সের মুখে সেই অতৃপ্তির কথাই শোনা গেল।

default-image

দুই সিরিজের মাঝের সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন সিডন্স। সেখান থেকেই মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছেন টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে না পারার কথা, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের দেখিয়েছে, ভালো উইকেটে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা আসলে কেমন হওয়া উচিত। আমাদের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে ব্যাপারেও আমার এখন ভালো ধারণা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো ভালোভাবে পরিবর্তনটা আনার জন্য যে সময় দরকার, সেটাই আমরা পাচ্ছি না। আমি জানি এটা সম্ভব, কিন্তু এটা অর্জন করতে হলে ধারাবাহিকভাবে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন।’

তারপরও ওয়েস্ট ইন্ডিজে শেষ দুই টি-টোয়েন্টিতে ১৫৮ ও ১৬৩ রান করতে পারায় ইতিবাচক দিক দেখছেন ব্যাটিং কোচ, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা ৬ ওভারের (পাওয়ারপ্লে) লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি এবং দুবার ১৬০-এর মতো রান করেছি, গত কয়েক বছরে বড় দলের বিপক্ষে যেটা করতে আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে।’

default-image

এর সঙ্গে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের অভিজ্ঞতা যোগ করে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন সিডন্স। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কিছু পরিকল্পনা অবশ্য এখনই করে ফেলেছেন তিনি, ‘টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংয়ে একজন ব্যাটসম্যানের দৃষ্টিভঙ্গিটা কেমন হবে, সেটা নির্ভর করে তাঁর সামর্থ্য ও দক্ষতার ওপর। আমি এই ম্যাচগুলোতে (জিম্বাবুয়ে সফর) ওদের দেখার অপেক্ষায় আছি। এরপর সফর শেষে ওদের সঙ্গে বসব, ওদের টি-টোয়েন্টির দক্ষতা নিয়ে কাজ করব।’

সেখানে সিডন্সের দৃষ্টিটা মূলত থাকবে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিং এবং পাওয়ার হিটিংয়ের দিকে, ‘জিম্বাবুয়ে সফরের পর ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিং আর পাওয়ার হিটিংই হবে আমার কাজ করার জায়গা। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই দুই জায়গাতেই বেশি মনোযোগ দেব।’

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরও পাওয়ার হিটিংয়ে জোর দেওয়ার কথাই বলেছিলেন সিডন্স। কিন্তু সেটা নিয়ে এখনো ঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় অতৃপ্ত এই অস্ট্রেলিয়ান, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি আসার পর এসব নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ আমরা পাইনি। এর আরেকটা কারণ, তখন আমরা টেস্ট আর ওয়ানডেই বেশি খেলেছি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েতে পরপর দুই সিরিজে ছয়টি টি-টোয়েন্টি সিডন্সকে সুযোগ করে দিয়েছে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য দেখার। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়েতে তো তরুণদের দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। সিডন্সও চাইছেন সুযোগটা কাজে লাগাতে, ‘সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়াটা সব সময়ই ভালো। তবে এটাও আমার জন্য ভালো যে আমি আরও কিছু প্রতিভা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাব, যাদের নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে কাজ করতে হবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন