প্রথম ম্যাচে দুই দলের দুই রকম অভিজ্ঞতা। হোবার্টে বাংলাদেশ হারিয়ে এসেছে নেদারল্যান্ডসকে, বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা পয়েন্ট খুইয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আজকের ম্যাচটা তাই দুই দলের কাছে দুই রকম হয়ে ধরা দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ, সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে প্রোটিয়াদের জন্য জীবন–মরণ লড়াই।

এমন ম্যাচ থেকে উত্তেজনার বারুদপোড়া গন্ধ আসাটাই স্বাভাবিক। নানামুখী আকর্ষণ তৈরি করে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চাচ্ছেন সতীর্থদের সেই উত্তেজনা আরও উসকে দিতে। সংবাদ সম্মেলনে সুযোগ পেলেই তাসকিন–লিটন–আফিফদের শুনিয়েছেন স্বাধীনতার গান। খোলা মনে খেলো, খেলাটা উপভোগ করো, ইয়র্কার মারতে চাইলে ইয়র্কার মারো, ছক্কা মারতে চাইলে ছক্কা। মোট কথা স্বাধীন ক্রিকেট খেলো, যে স্বাধীনতা দলের কাজে আসবে।

অধিনায়ক তাঁর সতীর্থদের কল্পনায় ভাসিয়ে তুলতে চাইলেন সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের লাল–সবুজ গ্যালারি। প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশির এই শহরে এসসিজির গ্যালারি আজ ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে বাংলাদেশ দলেরই পাশে থাকবে, এমন আশা সাকিবের। সেই চিৎকারে কি ছলাৎ করে উঠবে না ক্রিকেটারদের রক্ত?

সঙ্গে আরেকটা উপলক্ষ, ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় পাতায় যার উল্লেখ, বাংলাদেশ দল এত বছরে আজই প্রথম খেলতে নামবে সেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ইতিহাসে বিমুখ হতে পারেন, তাই বলে নিজেরা ইতিহাস গড়তে পিছপা হবেন না নিশ্চিত।

সাকিবের কথায় সেই টনিকও থাকল, ‘আগামীকাল (আজ) আমাদের জন্য আরেকটা সুযোগ। আমাদের ১১ জনে যারা খেলবে, তাদের মধ্যে একজনের হিরো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তো ওই হিরোটা কে হবে, সেটাই দেখার।’

এসসিজি অবশ্য শুধু ক্রিকেটেরই মাঠ নয়, এ মাঠের আছে আরও অনেক পরিচয়। অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের ম্যাচও হয় এখানে, স্থানীয়ভাবে যেটা ফুটি নামেই বেশি পরিচিত। উপলক্ষবিশেষে রাগবি লিগ আর রাগবি ইউনিয়নেরও ভেন্যু হয়ে যায় এসসিজি।

গ্যালারির স্ট্যান্ড যেমন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, বিল লরির নামে আছে; আছে রাগবি খেলোয়াড় ক্লাইভ চার্চিলের নামেও। তবে প্রেসবক্সটা একজন সাবেক ক্রিকেটারের নামেই, রিচি বেনো। শুধু ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবেও যদি ধরেন, এ মাঠের পরিচয় নানামুখী। আন্তর্জাতিক ভেন্যুর বাইরে এসসিজি একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া দল নিউ সাউথ ওয়েলস ব্লুজ এবং সিডনি সিক্সার্সেরও হোম গ্রাউন্ড।

এমন মাঠে প্রথম খেলতে নামার আগে সাকিবের রোমাঞ্চটা বেশ টের পাওয়া যাচ্ছিল কাল, ‘খুবই ভালো একটা মাঠ, স্বাভাবিকভাবেই অনেক মর্যাদাপূর্ণ জায়গা। এখানে আমিসহ পুরো দলই প্রথমবার খেলব। আমাদের জন্য অবশ্যই একটু রোমাঞ্চ কাজ করবে।’ এত বছরেও এসসিজিতে আর কোনো ম্যাচ খেলতে না–পারা নিয়ে আফসোস আছে সাকিবের মনে। তবে সাকিব যেন সেই আফসোসটাকেও একটা শক্তি বানাতে চাইলেন, ‘এখন যেহেতু খেলা হচ্ছে, সবার জন্যই এ রকম একটা জায়গায় এটা একটা উপলক্ষ দেশের জন্য ভালো কিছু করার।’

টেস্টে সিডনির উইকেটে স্পিনাররা সাফল্য পেলেও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উইকেটে নিশ্চিতভাবেই রানের মসলা মেশানো আছে। নিউজিল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়ার আগের ম্যাচেও দেখা গেছে সেটা। টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ২০০ রানের চাপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পরে ম্যাচটা হেরে গেছে ৮৯ রানে।

এমন উইকেটে স্পিনারদের চেয়ে পেসারদেরই সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। বাউন্স, মুভমেন্টেই ব্যাটসম্যানদের পরাভূত করার চেষ্টা বেশি করে বোলিং দল। সেদিক দিয়ে আজ দক্ষিণ আফ্রিকাই আছে সুবিধাজনক অবস্থায়। কাগিসো রাবাদার সঙ্গে আছেন লুঙ্গি এনগিডি, আনরিখ নর্কিয়ারা। কাল তাঁদেরই প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এনগিডি তো একটা হুমকিই দিয়ে গেলেন, ‘টুর্নামেন্টটা এখন পর্যন্ত যে রকম দেখেছি, পেস বোলাররাই বেশি সফল হচ্ছে। আমাদেরও শক্তি এটাই এবং আমরা সেটা নিয়েই খেলতে নামব। বাংলাদেশকে আমাদের পূর্ণ শক্তি দিয়েই আক্রমণের চেষ্টা করব এবং সেটা হলো গতি।’

সেই আক্রমণের জবাব আছে তো বাংলাদেশের কাছে? অবশ্য ইতিহাসের ম্যাচে যখন নায়ক হয়ে ওঠার হাতছানি থাকে, কত কিছুই তো ঘটতে পারে!