রহস্য স্পিনার আলিস আবার ফিরলেন কোন রহস্যে

ক্যাম্পে ছিলেন জাতীয় দলে এখনো অভিষেক না হওয়া স্পিনার আলিস আল ইসলামও।প্রথম আলো

ক্রিকেটের বড় আঙিনায় আলিস আল ইসলামের আগমন ঘটেছিল হঠাৎ করেই। ২০১৯ সালে বিপিএলে যখন অভিষেক, তার আগে কোনো ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেটেই খেলেননি। সেই আলিসই কি না ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বিপিএল অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে বসলেন!

কিন্তু এমন চমকে দেওয়া শুরুর পরও আলিস প্রায় বিস্মৃত হয়ে যান একটা সময়। অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন, চোটের ধাক্কা সামলে বিপিএলের পারফরম্যান্সই তাঁকে আবার সুযোগ করে দিয়েছিল জাতীয় দলে। ২০২৪ সালের বিপিএলে ৮ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজের দলে ডাক পেয়ে যান।  

কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, আঙুলের চোট আলিসকে অভিষেকের আগেই ছিটকে দেয় জাতীয় দল থেকে। পরেও যতবার ফিরে আসার প্রহর গুনতে শুরু করেছেন, ততবারই বাধা হয়ে এসেছে চোট আর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন।  

সর্বশেষ এসিএলে চোটের কারণে অস্ত্রোপচারের পর তো মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে এক বছর। বন্ধুর এই পথ পাড়ি দিয়ে আলিস আবার পা রেখেছেন জাতীয় দলে। এশিয়ান গেমসের দলে থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে সুযোগ মিলেছে তাঁর।

কোন বিবেচনায় তিনি বাকিদের চেয়ে এগিয়ে গেলেন? প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বললেন, ‘টি-টুয়েন্টিতে রহস্য স্পিনারদের ভালো ইমপ্যাক্ট থাকে। ওর অ্যাকশন থেকে (ব্যাটসম্যানদের জন্য) বল ধরা একটু মুশকিল। সে প্রায় নিখুঁত। দুই দিকেই বল ঘোরাতে পারে। এটা একটা ভালো দিক।’

সাইফউদ্দিনের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন আলিস
বিসিবি

২০১৯ সালে বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ওই হ্যাটট্রিকের পরই প্রশ্ন ওঠে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে। পরীক্ষায় তখন ত্রুটি ধরা না পড়লেও অ্যাকশনটা বদলে ফেলেছিলেন ‘ধার’ বাড়াতে। সুনীল নারাইনের মতো প্রায় একই ধরনের অ্যাকশনে বোলিংয়ের শুরুও তখন। ২০২৫ সালে তাঁর অ্যাকশন নিয়ে আবার প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু এবারও পরীক্ষায় পাস করে যান আলিস।

অ্যাকশন নিয়ে এই ঝামেলার মধ্যেই আলিসের জন্য বারবার ধাক্কা হয়ে এসেছে চোট। ২০২৪ সালে আঙুলের চোটের পর দ্রুতই ফিরে আসেন। কিন্তু ২০২৫ সালের বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের সময় হাঁটুতে চোট পেয়ে ছিটকে যান মাঠের বাইরে, দল ফাইনালে উঠলেও আলিস তা দেখেছেন বাইরে বসে।

চোট থেকে ফেরার জন্য তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছিল দ্রুতই। কিন্তু তাতে সুস্থ না হওয়ায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে করতে হয় অস্ত্রোপচার। স্ট্রেচার, ক্রাচ, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটার সংগ্রামের পথ পেরিয়ে সেই চোট থেকে সেরে উঠতে আলিসের লেগে যায় এক বছর।

চোটের সঙ্গে লড়াই শেষে সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে আবার ফেরার মঞ্চ তৈরি করেন। ১০ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৩.৮৩ গড়ে ২৪ উইকেট নেন। বিপিএলেও ওভারপ্রতি ৬.৬৪ গড়ে রান দিয়ে ৮ উইকেট পান। কিন্তু নির্বাচকদের জন্য তাঁর বোলিংটাই শুধু যথেষ্ট ছিল না।

জাতীয় দলে ঢোকার জন্য আলিসকে তাগাদা দেওয়া হয় ফিল্ডিংয়ে উন্নতির। বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও ইতিবাচক বদল এনে নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করেই আবার আলিস ফিরেছেন জাতীয় দলে।

সেই গল্পটাই বলছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল, ‘আমরা তো সব সময় টি-টুয়েন্টিতে রহস্য স্পিনারদের উৎসাহিত করি। একটু অপেক্ষা করছিলাম কারণ ওর কাছে কিছু চাওয়া ছিল। ও মোটামুটি কাজগুলো করেছে।’

ফিল্ডিংয়ে একটু একটু করে উন্নতির ফাঁকেই বোলিংয়েও ধার বাড়িয়ে গেছেন আলিস। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে যে ম্যাচটা খেলেছেন, সেখানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। নির্বাচকেরা তাই বিকল্প হিসেবে হাত বাড়িয়েছেন আলিসের দিকে।

আলিসের জন্য সুযোগ এসেছে আগেও— কিন্তু ‘ভাগ্য’ তাঁর পাশে থাকেনি। এবার এশিয়ান গেমস দিয়ে শুরু হতে যাওয়া যাত্রাটা লম্বা হয় কি না, তাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন