মাঠের বাইরে টস, নর্দাম্পটনের মহাকাব্য আর ধবলধোলাইয়ের সেই গল্প

১৯৮৬ এশিয়া কাপ থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ—ওয়ানডেতে এ পর্যন্ত ৩৯ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। আজ আবার দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হওয়ার আগে ঘুরে আসা যাক চার দশকের ইতিহাসে…

১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশএএফপি

প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী, অদ্ভুত টস

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচটি খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষেই। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীলঙ্কার মোরাতুয়ায় এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খান বাংলাদেশ অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেনকে নিয়ে টসটা সেরে ফেলেছিলেন বাউন্ডারি লাইনের বাইরেই। ৪৫ ওভারের সেই ম্যাচে ৩৫.৩ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, শহীদুর রহমান করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩৭ রান। ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার ওয়াসিম আকরাম।

বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি

প্রথম প্রতিপক্ষের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিও পাকিস্তানিদের। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মঈন-উল-আতিক ও ইজাজ আহমেদ। তৃতীয় উইকেটে ২০৫ রানের জুটি গড়া দুই ব্যাটসম্যানই সেদিন ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। ইজাজ এরপর আরও ৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ওপেনার আতিকের পাঁচ ম্যাচের ক্যারিয়ারে একমাত্র সেঞ্চুরি হয়ে আছে সেটিই।

নর্দাম্পটনের মহাকাব্য

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছয় ম্যাচের একটিতেও ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারা বাংলাদেশই কিনা অভিষেক বিশ্বকাপে হারিয়ে দিল অন্যতম ফেবারিট পাকিস্তানকে। নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ করেছিল ২২৩ রান। রান তাড়ায় ১৬১ রানে অলআউট হয়ে ৬২ রানে হারে পাকিস্তান। ব্যাট হাতে ২৭ রান করা খালেদ মাহমুদ মিডিয়াম পেসে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হয়ে যান ম্যাচসেরা।

সাকলাইন মুশতাককে রানআউট করে দিলেন খালেদ মাসুদ
এএফপি

আবার অন্ধকারে

১৯৯৯ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক সেই জয়ের পর ২০১৪ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ শুধু হেরেছেই। তিন সংস্করণ মিলিয়ে দেড় দশকে পাকিস্তানের কাছে টানা ৪০ ম্যাচে হারে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

গৌরবের ২০১৫, পাকিস্তান ধবলধোলাই

২০১৫। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে ঝলমলে অধ্যায়ই বলা যায়। আর সেই অধ্যায়টা শুরু হয়েছিল ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেই। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ৩২৯ রান করে ৭৯ রানে জেতে বাংলাদেশ। তামিম সেঞ্চুরি পান পরের ম্যাচেও। ২৩৯ রান টপকে বাংলাদেশ জিতে যায় ৭ উইকেটে। শেষ ম্যাচে সৌম্য সরকারের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে ২৫১ রানের লক্ষ্য ৪০তম ওভারেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল
শামসুল হক

আবুধাবি ‘মিরাকল’

ধবলধোলাইয়ের পর প্রথম দেখা ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে। চোটের কারণে তামিম-সাকিব নেই। ভাঙাচোরা এক দল নিয়েই আবুধাবিতে এশিয়া কাপের নকআউট হয়ে ওঠা সুপার ফোরের ম্যাচটিতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। জিতলেই ফাইনালে, এমন হিসাবের ম্যাচে ২৩৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানের জন্যই সেঞ্চুরি পাননি মুশফিকুর রহিম। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম ২ ওভারেই ফখর জামান ও বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেন। ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। পুরো ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২০২ রান তুলে বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে। বাংলাদেশ উঠে যায় ফাইনালে।

২০১৮ এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর মাশরাফিদের উল্লাস
এএফপি

করোনা, বৃষ্টি আর...

২০১৫ সালের পরে বাংলাদেশ আজই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে। ২০১৮ এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ মিলিয়ে খেলা তিন ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের পাকিস্তান সফরের একমাত্র ওয়ানডেটি করোনার কারণে হয়নি। রাওয়ালপিন্ডিতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

আরও পড়ুন